নেপাল, আমেরিকা, নেদারল্যান্ডসের পর জ়িম্বাবোয়ে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ছোটদলগুলির চমক অব্যাহত। শুক্রবার অস্ট্রেলিয়াকে কঠিন চ্যালেঞ্জের সামনে ফেলে দিলেন সিকন্দর রাজ়ারা। প্রথমে ব্যাট করে জ়িম্বাবোয়ে করে ২ উইকেটে ১৬৯। জবাবে অস্ট্রেলিয়া করল ১৯.৩ ওভারে ১৪৬। পুরো ২০ ওভার ব্যাটই করতে পারলেন না অজিরা। ২৩ রানে জিতল জ়িম্বাবোয়ে। এ দিন ম্যাচের কোনও সময়ই অস্ট্রেলিয়ার চেনা দাপট দেখা যায়নি।
এর আগেও বিশ্বকাপে জ়িম্বাবোয়ের কাছে হারতে হয়েছিল অস্ট্রেলিয়াকে। ২০০৭ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচেও অস্ট্রেলিয়াকে ৫ উইকেটে হারিয়েছিল জ়িম্বাবোয়ে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দু’দেশ এখনও পর্যন্ত মুখোমুখি হয়েছে এই দু’বারই। সেই হিসাবে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল আফ্রিকার দেশটি। সব মিলিয়ে দু’দেশ চারটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছে। ফল ২-২।
শুক্রবার ১৭০ রান তাড়া করতে নেমে ২৯ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে গিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। জ়িম্বাবোয়ের বোলিং আক্রমণের সামনে কলম্বোর ২২ গজে দাঁড়াতেই পারেননি অস্ট্রেলিয়ার প্রথম চার ব্যাটার। জশ ইংলিস (৮), ট্রেভিস হেড (১৭), ক্যামেরন গ্রিন (০) এবং টিম ডেভিড (০) পর পর ফিরে যান। ইংলিস এবং ডেভিডকে আউট করেন ব্লেসিং মুজ়ারাবানি। হেড এবং গ্রিন আউট হন ব্র্যাড ইভান্সের বলে। অস্ট্রেলিয়াকে সে সময় প্রায় দিশেহারা দেখাচ্ছিল। তাতেই শেষ পর্যন্ত হেরে গেল অস্ট্রেলিয়া।
চাপের মুখে পরিস্থিতি সামলান গ্লেন ম্যাক্সওয়েল এবং ম্যাট রেনশ। পাঁচ নম্বরে নেমে ম্যাক্সওয়েল করেন ৩২ বলে ৩১। ১টি করে চার এবং ছয় মারেন। তাঁদের পঞ্চম উইকেটের জুটিতে ওঠে ৭৭ রান। ম্যাক্সওয়েলকে আউট করেন রায়ান বারি। রেনশ কিছুটা চেষ্টা করলেও লাভ হয়নি। তিনি ৪৪ বলে ৬৫ রান করলেন ৫টি চার এবং ১টি ছয়ের সাহায্যে। বলা যায় ম্যাক্সওয়েল আউট হওয়ার পরই অস্ট্রেলিয়ার আশা শেষ হয়ে যায়। ব্যর্থ মার্কাস স্টোইনিস (৬), বেন ডারউইশ (৬)। দলকে সাহায্য করতে পারেননি অ্যাডাম জ়াম্পা (২), ম্যাথু কুনেম্য়ানেরা (০)। ৭ রানে অপরাজিত থাকেন নাথান এলিস।
গোটা ম্যাচে জ়িম্বাবোয়ের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং চাপ বাড়িয়ে দেয় অজি ব্যাটারদের। জ়িম্বাবোয়ের সফলতম বোলার মুজ়ারাবানি ১৭ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন। ২৩ রানে ৩ উইকেট ইভান্সের। ৯ রানে ১ উইকেট বারির। এ ছাড়া ৩৬ রানে ১ উইকেট ওয়েলিংটন মাসাকাদজ়ার।
এর আগে টস জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন এ দিন অস্ট্রেলিয়াকে নেতৃত্ব দেওয়া হেড। প্রথমে ব্যাট করার সুযোগ যতটা সম্ভব কাজে লাগান জ়িম্বাবোয়ের ব্যাটারেরা। দুই ওপেনার ভাল শুরু করেন। তাদিওয়ানাশি মারুমানি ২১ বলে ৩৫ রান করেন। ৭টি চার মারেন তিনি। তিন নম্বরে নেমে বারি করেন ৩০ বলে ৩৫। ৪টি চার এসেছে তাঁর ব্যাট থেকে। শেষ পর্যন্ত ২২ গজে ছিলেন আর এক ওপেনার ব্রায়ান বেনেট। ৫৬ বলে ৬৪ রানের অপরাজিত ইনিংসে ৭টি চার মারেন তিনি। ইনিংসের শেষ পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ়া। তিনি করেন ১৩ বলে ২৫। মারেন ২টি চার এবং ১টি ছক্কা।
আরও পড়ুন:
অস্ট্রেলিয়ার কোনও বোলারই তেমন সুবিধা করতে পারেননি। গ্রিন ৬ রানে ১ উইকেট নিয়েছেন। ১৭ রানে ১ উইকেট স্টোইনিসের। ম্যাক্সওয়েল, ডারউইশ, এলিস, জ়াম্পার মতো বোলারেরা এ দিন হতাশ করলেন।