এ বার রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে তলব করল নির্বাচন কমিশন। কমিশন সূত্রে খবর, এসআইআরের কাজ নিয়ে রাজ্যের চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে কেন পদক্ষেপ করা হয়নি, সেই নিয়ে মুখ্যসচিবকে তলব করা হয়েছে। পিটিআই জানিয়েছে, শুক্রবার দুপুরে কমিশনের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করবেন তিনি। এর আগে গত অগস্টে মনোজ পন্থ রাজ্যের মুখ্যসচিব থাকার সময়ে তাঁকেও তলব করেছিল কমিশন। তিনি হাজিরা দিয়েছিলেন কমিশনের দফতরে।
বেআইনি ভাবে ভোটার তালিকায় নাম তোলার অভিযোগে পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পূর্বের ইআরও এবং এইআরও-র বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। ওই চার আধিকারিক হলেন তথাগত মণ্ডল, দেবোত্তম দত্তচৌধুরী, বিপ্লব সরকার এবং সুদীপ্ত দাস। তাঁদের সাসপেন্ড (নিলম্বিত) করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সুরজিৎ হালদার নামে ডেটা এন্ট্রির কাজে যুক্ত কর্মীর বিরুদ্ধেও এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। প্রথমে ৫ অগস্ট রাজ্যকে একটি চিঠি পাঠিয়েছিল কমিশন। পরে ৮ অগস্ট ফের চিঠি পাঠায় তারা। রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যসচিব পন্থকে তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশও দেয় কমিশন। নবান্নের তরফে তখন জানানো হয়, ময়না বিধানসভা কেন্দ্রের ‘সহকারী নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক’ (এইআরও) সুদীপ্ত দাস এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের ‘ডেটা এন্ট্রি অপারেটর’ সুরজিৎকে নির্বাচন সংক্রান্ত দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বাকিদের বিরুদ্ধে সেই মুহূর্তে কোনও পদক্ষেপ করা হচ্ছে না বলে কমিশনকে জানিয়ে দেয় নবান্ন।
নির্দেশ কার্যকর করা না-হওয়ায় গত ২ জানুয়ারি সংশ্লিষ্ট দুই জেলাশাসককে এফআইআর করার নির্দেশ দেয় কমিশন। সেই নির্দেশ কার্যকর হয়নি। ইতিমধ্যে সিইও দফতর থেকে জেলাশাসকদের দু’বার ‘রিমাইন্ডার’ দেওয়া হয়।
এর পরেই রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল (এজি)-এর পরামর্শ নেয় নবান্ন। তার পরে চিঠি পাঠায় সিইও দফতরে। চিঠিতে বলা হয়, ওই চার আধিকারিকের অপরাধ এফআইআর করার জন্য যথেষ্ট নয়। কম গুরুত্বপূর্ণ অপরাধে এত বড় শাস্তি দেওয়া ঠিক নয়। তার পরে গত ২১ জানুয়ারি রাজ্যের মুখ্যসচিবের কাছে রিপোর্ট চায় কমিশন। কোন দফতর নির্দেশ কার্যকর করেনি, সেই বিষয়ে রিপোর্ট দিতে বলে কমিশন। সূত্রের খবর, তার পরে মুখ্যসচিবকে তলব করে কমিশন।
বারুইপুর পূর্বের ইআরও এবং এইআরও হিসাবে কাজ করছিলেন দেবোত্তম এবং তথাগত। ময়না বিধানসভা কেন্দ্রে ওই দুই দায়িত্বে ছিলেন বিপ্লব ও সুদীপ্ত। উল্লিখিত চার আধিকারিকই ডব্লিউবিসিএস অফিসার। দেবোত্তম দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা গ্রামীণ উন্নয়ন পর্ষদের ডেপুটি প্রজেক্ট ডিরেক্টর হিসাবে কাজ করেন। তথাগত জয়নগর-১ ব্লকের ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার, বিপ্লব পূর্ব মেদিনীপুরের সংখ্যালঘু বিষয়কের জেলা অফিসার, সুদীপ্ত তমলুক ব্লকের পঞ্চায়েত অ্যাকাউন্ট এবং অডিট অফিসার হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়াও, সুরজিৎ নামে ডেটা এন্ট্রির কাজে যুক্ত কর্মীর বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন।