Advertisement
E-Paper

সেই চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা? মুখ্যসচিবের কাছে জানতে চাইল কমিশন, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট তলব

মুখ্যসচিবকে চিঠি পাঠিয়ে কমিশন জানিয়েছে, যে অফিসার বা দফতর কমিশনের কথা না-শুনে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাদের কাছ থেকে লিখিত ব্যাখ্যা চাইতে হবে। কেন নিয়ম মানা হয়নি, তাদের জানাতে হবে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২১ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:৩৬

ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

রাজ্যের চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে রাজ্যের মুখ্যসচিবের কাছে জানতে চাইল নির্বাচন কমিশন। এমনকি, কোন দফতর নির্দেশ কার্যকর করেনি, সেই বিষয়ে রিপোর্ট দিতে বলেছে কমিশন। আগামী ২৪ জানুয়ারি বিকেল ৫টার মধ্যে ওই রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। চার আধিকারিককে ‘লঘু দোষে কেন গুরুদণ্ড’ দেওয়া হচ্ছে, সেই নিয়ে রাজ্য সিইও দফতরকে চিঠি দিয়েছিলেন রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতরের সিনিয়র স্পেশ্যাল কমিশনার। সেই চিঠি কমিশনের দিল্লি অফিসে পাঠানো হয়। কমিশন যদিও নিজের অবস্থানে অনড় রইল।

বুধবার মুখ্যসচিবকে চিঠি পাঠিয়ে কমিশন জানিয়েছে, যে অফিসার বা দফতর কমিশনের কথা না-শুনে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাদের কাছ থেকে লিখিত ব্যাখ্যা চাইতে হবে। কেন নিয়ম মানা হয়নি, তাদের জানাতে হবে। ওই চার জন আধিকারিকের বিরুদ্ধে হওয়া পুরো তদন্তের সব কাগজ পাঠাতে হবে, যেমন— কী চার্জ দেওয়া হয়েছে, তাঁরা কী জবাব দিয়েছেন, অনুসন্ধান রিপোর্ট, শাস্তির আদেশ এবং ফাইল নোটিং।

বেআইনি ভাবে ভোটার তালিকায় নাম তোলার অভিযোগে পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পূর্বের ইআরও এবং এইআরও-র বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। ওই চার আধিকারিক হলেন তথাগত মণ্ডল, দেবোত্তম দত্তচৌধুরী, বিপ্লব সরকার এবং সুদীপ্ত দাস। তাঁদের সাসপেন্ড (নিলম্বিত) করার নির্দেশ দেওয়া হয়। রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশও দেয় কমিশন। দু’বার মনোজকে চিঠিও দেওয়া হয়। কিন্তু তার পরেও নির্দেশ কার্যকর করা না-হওয়ায় গত ২ জানুয়ারি সংশ্লিষ্ট দুই জেলাশাসককে এফআইআর করার নির্দেশ দেয় কমিশন। প্রায় ২০ দিন কেটে গেলেও কমিশনের ওই নির্দেশ কার্যকর করা হয়নি। ইতিমধ্যে সিইও দফতর থেকে জেলাশাসকদের দু’বার ‘রিমাইন্ডার’ দেওয়া হয়।

Advertisement

এর পরেই রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল (এজি)-এর পরামর্শ নেয় নবান্ন। তার পরে চিঠি পাঠায় সিইও দফতরে। চিঠিতে বলা হয়, ওই চার আধিকারিকের অপরাধ এফআইআর করার জন্য যথেষ্ট নয়। কম গুরুত্বপূর্ণ অপরাধে এত বড় শাস্তি দেওয়া ঠিক নয়। তার পরে বুধবার রিপোর্ট চাইল কমিশন।

বারুইপুর পূর্বের ইআরও এবং এইআরও হিসাবে কাজ করছিলেন দেবোত্তম দত্ত চৌধুরী এবং তথাগত মণ্ডল। ময়না বিধানসভা কেন্দ্রে ওই দুই দায়িত্বে ছিলেন বিপ্লব সরকার ও সুদীপ্ত দাস। উল্লিখিত চার আধিকারিকই ডব্লিউবিসিএস অফিসার। দেবোত্তম দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা গ্রামীণ উন্নয়ন পর্ষদের ডেপুটি প্রজেক্ট ডিরেক্টর হিসাবে কাজ করেন। তথাগত জয়নগর-১ ব্লকের ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার, বিপ্লব পূর্ব মেদিনীপুরের সংখ্যালঘু বিষয়কের জেলা অফিসার, সুদীপ্ত তমলুক ব্লকের পঞ্চায়েত অ্যাকাউন্ট এবং অডিট অফিসার হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়াও, সুরজিৎ হালদার নামে ডেটা এন্ট্রির কাজে যুক্ত কর্মীর বিরুদ্ধে এফআইআর নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন।

সংক্ষেপে
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) শুরু হয়ে গিয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। গ্রাম থেকে শহর, বাড়িতে বাড়িতে পৌঁছোতে শুরু করেছেন কমিশনের বুথ স্তরের আধিকারিকেরা (বিএলও)। শুরু হয়ে গিয়েছে এনুমারেশন ফর্ম বিলিও।
  • শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, দেশের আরও ১১টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলেও একই সঙ্গে শুরু হয়েছে এসআইআরের কাজ। যাঁরা কর্মসূত্রে বাইরে থাকেন, তাঁদের জন্য অনলাইনে এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করার ব্যবস্থা করেছে কমিশন।
সর্বশেষ
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy