রশিদ খানদের নিয়ে প্রায় ছেলেখেলা করলেন শুভমন গিল, ঈশান কিশন। দু’জনের ব্যাট থেকেই এল শতরান। তাঁদের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের সামনে আফগানিস্তানের বোলার, ফিল্ডারদের অসহায় দেখাল প্রায় প্রতি বলে। তাঁদের ২৩.২ ওভারে ২২৪ রানের জুটির দাপটে দ্বিতীয় এক দিনের ম্যাচে ৪৯.৫ ওভারে ১০ উইকেটে ৪০২ রান তুলল ভারত। এই নিয়ে আট বার এক দিনের ক্রিকেটে ভারত ৪০০ বা তার বেশি রান তুলল। কবে সহজ পরিস্থিতিতেও পরের দিকের ব্যাটারদের ব্যর্থতা তৈরি করল উদ্বেগ।
ভারতের ব্যাটিং দেখে বোঝা যাচ্ছিল না এক দিনের ম্যাচ না টি-টোয়েন্টি। আইপিএলের মেজাজেই ব্যাট করলেন শুভমন, ঈশানেরা। টস জিতে ভারতকে লখনউয়ের চড়া রোদে ব্যাট করতে পাঠান আফগানিস্তানের অধিনায়ক হাশমতুল্লা শাহিদি। ভারতের শুরুটা অবশ্য ভাল হয়নি। যশস্বী জয়সওয়াল (৪) শুরুতেই ফিরে যান। এর পর ভারতীয় ইনিংসের হাল ধরেন রোহিত শর্মা এবং শুভমন। সাবলীল ব্যাটিং করেন তাঁরা। দ্বিতীয় উইকেটের জুটিতে তোলেন ৮৫ রান। অতিরিক্ত আগ্রাসী হতে গিয়ে নিশ্চিত অর্ধশতরান হাতছাড়া করলেন রোহিত। ৬টি চার এবং ২টি ছয় মারেন তিনি। ঠকে গেলেন রশিদের স্পিনে। ৩৯ বলে ৪৮ রান করে রোহিত আউট হওয়ার পর ২২ গজে আসেন ঈশান। শুভমনের সঙ্গে জুটি বেঁধে উইকেটরক্ষক-ব্যাটার রান তোলার গতি বাড়িয়ে দিলেন। এক সময় তাঁকেই বেশি বল খেলার সুযোগ দিচ্ছিলেন শুভমন। ছোট থেকেই দু’জনে ঘনিষ্ঠ বন্ধু। সারাক্ষণ নিজেদের মধ্যে রসিকতা করেন। তাঁদের ২২৪ রানের জুটিতেও ছিল সেই বন্ধুত্বের ছাপ।
ঈশান শুরু থেকেই ছিলেন আগ্রাসী। ৭৯ বলে ১২৫ রান করলেন ১৪টি চার এবং ৭টি ছক্কার সাহায্যে। ভাল বলগুলিও অনায়াসে মাঠের বাইরে পাঠিয়েছেন। আফগান বোলারেরা বুঝতে পারছিলেন না কোথায় বল ফেলবেন। এক দিনের ক্রিকেটে নিজের দ্বিতীয় শতরান পূর্ণ করার পর আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠেন। আউটও হলেন বড় শট খেলতে গিয়ে।
শুভমন অবশ্য ক্রিজ়ের এক প্রান্ত আগলে রেখেছিলেন। ভারতীয় দলের অধিনায়ক বোলারদের আক্রমণ করেছেন বল বুঝে। মারার সুযোগ হাতছাড়া করেননি। আউট হলেন রিভার্স সুইপ করে ছক্কা মারতে গিয়ে। শেষ পর্যন্ত তিনি করলেন ১১০ বলে ১৫৪ রান। মারলেন ২২টি চার এবং ২টি ছয়। পাঁচ নম্বরে নেমে শ্রেয়স আয়ারও (২৬) চেষ্টা করলেন ইনিংসের মেজাজ বজায় রাখতে। যদিও বড় রান পেলেন না।
লোকেশ রাহুল (০) অবশ্য পারলেন না। প্রথম বলেই আউট হয়ে গেলেন। ঈশান আউট হওয়ার সময় মনে হচ্ছিল ৪৫০ রানের কাছাকাছি তুলে ফেলবে ভারত। কিন্তু পর পর উইকেট হারানো তা হল না। সহজ পরিস্থিতিতেও পরের দিকের ব্যাটারেরা প্রত্যাশা মতো ব্যাট করতে পারলেন না।তৈরি হল না বলার মতো একটিও জুটি। এই ম্যাচে ভারত অলআউট হয়ে যাবে, পুরো ৫০ ওভার খেলতে পারবে না, ভাবা যায়নি। যা উদ্বেগে রাখতে পারে কোচ গৌতম গম্ভীরকে। ওয়াশিংটন সুন্দর (১৯), গুরনুর ব্রার (৭), অর্শদীপ সিংহ (৩) , প্রিন্স যাদব (৫), কুলদীপ যাদবেরা (অপরাজিত ৫) ভারতের ইনিংসকে এগিয়ে নিয়ে গেলেন ঠিকই। তাতে বলার মতো কিছু নেই।
আরও পড়ুন:
আফগানিস্তানের সফলতম বোলার নাঙ্গেয়ালিয়া খারোতে ৭৬ রানে ৪ উইকেট নিলেন। ৭৫ রানে ১ উইকেট মহম্মদ সালিমের। রশিদ ৩ উইকেট নিলেন ৪৮ রান খরচ করে। ৬৯ রানে ১ উইকেট গজ়নফারের।