গ্রুপে অপরাজিত থেকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটে উঠেছে ভারতীয় দল। কোনও ম্যাচেই বড় সমস্যার মুখে পড়তে হয়নি গত বারের চ্যাম্পিয়নদের। তবু সুপার এইট পর্বের আগে দু’টি বিষয়ে উদ্বিগ্ন ভারতীয় শিবির। অভিষেক শর্মার ফর্ম ছাড়াও সূর্যকুমার যাদবের দলের একটি দুর্বলতা ফাঁস করে দিয়েছেন ভারতের সহকারী কোচ রায়ান টেন দুশখতে।
বিশ্বকাপে এখনও একটি রানও করতে পারেননি অভিষেক। গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচেই আউট হয়েছেন শূন্য রানে। সব মিলিয়ে খেলেছেন ৮ বল। বিশ্বের এক নম্বর টি-টোয়েন্টি ব্যাটারের ফর্ম হারানো নিয়ে যে উদ্বেগ বাড়ছে, তা গোপন করেননি দুশখতে। বিশ্বকাপের মাঝপথে কোচ গৌতম গম্ভীরকে চিন্তায় ফেলেছে দলে বাঁহাতি ব্যাটারদের ভিড়ও।
বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত ভারতের বিরুদ্ধে ৪২ ওভার বল করেছেন বিভিন্ন দলের স্পিনারেরা। এই ৪২ ওভারে ভারতীয় ব্যাটারেরা করেছেন ৩১৫ রান। ওভার প্রতি সাড়ে ৭ রান উঠেছে। ভারতের ১৫টি উইকেট নিয়েছেন স্পিনারেরা। এই তথ্যই ভাবাচ্ছে গম্ভীরকে। বিশেষ করে অফ স্পিনারদের বল খেলতে সমস্যায় পড়ছেন ভারতের বাঁহাতি ব্যাটারেরা। নেদারল্যান্ডসের অফ স্পিনার আরিয়ান দত্ত ভারতের বিরুদ্ধে ৪ ওভারে ১৯ রানে ২ উইকেট নিয়েছেন। যার পর চিন্তায় গম্ভীর।
দলের দুর্বলতা নিয়ে দুশখতে বলেছেন, ‘‘আরিয়ান অনেক বার বলের গতি কমিয়ে দিয়েছে। আমাদের বিরুদ্ধে সব দল স্পিনারদের বেশি ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে ফিঙ্গার স্পিনারদের। আমাদের ব্যাটিং লাইন আপে বাঁহাতি ব্যাটার বেশি। এই সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে অন্য দলগুলো। বেশি বাঁহাতি ব্যাটার থাকায় প্রতিপক্ষ দলগুলোর কাজ একটু সহজ হয়ে গিয়েছে। এটা আমাদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ। সঞ্জু স্যামসন ছাড়া আমাদের হাতে তেমন বিকল্পও নেই।’’
দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিন বোলিং আক্রমণ বেশ ভাল। কেশব মহারাজ, এডেন মার্করাম, জর্জ লিন্ডে রয়েছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ় এবং জ়িম্বাবোয়ের হাতেও ভাল স্পিনার রয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই সুপার এইটের আগে সতর্ক গম্ভীরেরা। দুশখতে বলেছেন, ‘‘ফিঙ্গার স্পিনারেরা আমাদের সমস্যায় ফেলছে। পাকিস্তান ১৪ ওভার বল করিয়েছিল স্পিনারদের দিয়ে। ওই ১৪ ওভারে আমাদের রান ছিল ৪ উইকেটে ৭৮। এটা একদমই ভাল নয়। কলম্বোর পিচ কঠিন ছিল ঠিকই। তা-ও আমাদের পারফরম্যান্স ভাল হয়নি। নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে তুলনায় ভাল খেলেছি আমরা। তবে আরিয়ান ওর ৪ ওভারেই আমাদের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছিল।’’
আরও পড়ুন:
দুশখতে জানিয়েছেন, বড় মাঠে বেশি সমস্যা হচ্ছে ভারতীয় ব্যাটারদের। এ নিয়ে ভারতীয় দলের সহকারী কোচ বলেছেন, ‘‘কলম্বো এবং অহমদাবাদের বড় মাঠে আমাদের সমস্যা বেশি হয়েছে। কলম্বোর পিচও ধীর গতির ছিল। সুপার এইটের তিনটে ম্যাচে আমাদের এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। উন্নতি করতে হবে আমাদের। না হলে ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ রাখা সমস্যা হতে পারে।’’ তিনি আরও বলেছেন, ‘‘গত ১৮ মাসে আমরা বেশ ভাল উইকেটে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ়গুলো খেলেছি। বিশ্বকাপের পিচগুলো একটু অন্যরকম। বোলারেরা সাহায্য পাচ্ছে। আমাদের মানিয়ে নিতে হচ্ছে নতুন করে।’’
গম্ভীরের সহকারী জানিয়ে দিয়েছেন, সুপার এইট পর্বেও দলের খেলার দৃষ্টিভঙ্গি বদল হবে না। আগ্রাসী ক্রিকেটই খেলবেন সূর্যেরা। অনুশীলনে খামতিগুলি ঠিক করার চেষ্টা করছেন তাঁরা।