দুই বোলার মিলে সামাল দিলেন দলের ব্যাটিং বিপর্যয়। নয় এবং ১০ নম্বরে নামা দুই ক্রিকেটার দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করলেন। দু’জনের ব্যাট থেকেই এল শতরান। দু’জনে মিলে দলকে পৌঁছে দিলেন ভাল জায়গায়। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এই প্রথম এরকম ঘটল।
প্রথম শ্রেণির ম্যাচে মুখোমুখি দু’দল। টস জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন সারের অধিনায়ক জোসেফ বার্নস। প্রথমে ব্যাট করার সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি সাসেক্সের ব্যাটারেরা। ইনিংসের শুরু থেকেই নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারাতে শুরু করে তারা। তিন জন ব্যাটার আউট হন শূন্য রানে। আরও দু’জন দু’অঙ্কের রান করতে পারেননি। স্বীকৃত ব্যাটারদের মধ্যে কিছুটা লড়াই করেন ওপেনার ড্যানিয়েল হগস (২২) এবং তিন নম্বরে নামা টম ক্লার্ক (৪৪)। দ্বিতীয় উইকেটের জুটিতে তাঁরা তোলেন ৬৩ রান। এই জুটি ভাঙার পর একের পর এক উইকেট হারাতে শুরু করে সাসেক্স। ১ উইকেটে ৬৩ থেকে এক সময় তাদের স্কোর দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ৯২। ২৯ রানের মধ্যে ৬ উইকেট হারায় তারা।
এর পর রুখে দাঁড়ান তিন বোলার। আট নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ফিন হাডসন প্রেনটিস আগ্রাসী মেজাজে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন। তাঁর লড়াইকে মর্যাদা দেন দলের আরও দুই বোলার জ্যাক কার্সন এবং ওলি রবিনসন। প্রেনটিস করেন ৫৮ বলে ৫৩। তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ৭টি চার এবং ১টি ছক্কা। কার্সনের সঙ্গে অষ্টম উইকেটে জুটিতে প্রেনটিস তোলেন ৭৫ রান। প্রেনটিস আউট হওয়ার পর কার্সন জুটি বাঁধেন রবিনসনের সঙ্গে। তাঁদের নবম উইকেটের জুটিতে ওঠে ১৭৩ রান। কার্সন ১০৫ রান করে আউট হন। মারেন ১৪টি চার। ১৪৯ বলের ইনিংসে যতটা সম্ভব ঝুঁকিহীন থাকার চেষ্টা করেন তিনি। দায়িত্ব নিয়ে ব্যাট করেন ১০ নম্বরে ব্যাট করতে নামা রবিনসনও। ১৫২ রানে ১০০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন তিনি। তাঁর ব্যাট থেকে ১২টি চারের পাশাপাশি ১টি ছয় এসেছে। নিজের শতরান পূর্ণ করে ৯ উইকেটে ৩৫৮ রানে ইনিংস ডিক্লেয়ার করে দেন সাসেক্স অধিনায়ক রবিনসন। শেষ পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে ২২ গজে ছিলেন হেনরি ক্রোকোম্বে (অপরাজিত ১)। প্রথম দিনের খেলার শেষে সারে কোনও উইকেট না হারিয়ে ১৯ রান করেছে।
আরও পড়ুন:
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে একসঙ্গে নয় এবং ১০ নম্বর ব্যাটারের শতরান করার নজির আর নেই। দু’জনের ক্ষেত্রেই অবশ্য ক্যাচ ফেলেছেন সারের ফিল্ডারেরা। কার্সন ব্যক্তিগত ১৩ রানের মাথায় ক্যাচ তুলে বেঁচে যান। তাঁর ক্যাচ ফেলে দেন অলি পোপ। রবিনসন বেঁচে যান ব্যক্তিগত ২১ রানে। তাঁর দেওয়া ক্যাচ ধরতে পারেননি অ্যাডাম থমাস।