Advertisement
E-Paper

দুবাইয়ের হোটেলে পেঁয়াজ কাটতেন, জীবন ঘুরে গিয়েছে ধোনির জীবনীচিত্র দেখে, ভারতের বিরুদ্ধে ছাপ রাখতে মরিয়া পাক স্পিনার তারিক

টি২০ বিশ্বকাপে তাঁর বোলিং নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে। তবে উসমান তারিককে ক্রিকেটার হতে প্রচুর পরিশ্রম করতে হয়েছে। ক্রিকেট খেলার আশা এক সময় ছেড়ে দিয়েছিলেন তারিক। কিন্তু মহেন্দ্র সিংহ ধোনির জীবনীচিত্র দেখার পর সব বদলে যায়।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২৩:০৯
cricket

(বাঁ দিকে) মহেন্দ্র সিংহ ধোনি। উসমান তারিক (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।

চলতি টি২০ বিশ্বকাপে তাঁর বোলিং নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। অদ্ভুত বোলিং অ্যাকশন নজর কেড়ে নিয়েছে অনেকেরই। অস্ট্রেলিয়ার ক্যামেরন গ্রিন সেই অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে উসমান তারিককে ক্রিকেটার হতে যে পরিশ্রম করতে হয়েছে, তা শুনলে অনেকেরই চমকে যাওয়ার কথা। ক্রিকেট খেলার আশা এক সময় ছেড়ে দিয়েছিলেন তারিক। কিন্তু মহেন্দ্র সিংহ ধোনির জীবনীচিত্র দেখার পর সব বদলে যায়। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেয়েছেন।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তারিক বলেছেন, “ক্রিকেটে ছাপ ফেলার আশা ছেড়েই গিয়েছিলাম। এক দিন ওই সিনেমাটা দেখি। বুঝে যাই, আমিও একই কাজ করতে পারব।” সেই দিনটা ছিল ২০১৭-য়। রাতের খাবার খেতে খেতে ধোনির জীবনীচিত্র দেখছিলেন তারিক। সেই রাতই তাঁর জীবন বদলে দেয়। দুবাইয়ের কাজ ছেড়ে তিনি ফেরেন পাকিস্তানে।

তারিকের বন্ধু হাসিব উর রহমান ‘টাইমস অফ ইন্ডিয়া’কে বলেছেন, “ক্রিকেট খেলার স্বপ্ন ধরে রাখার পাশাপাশি টিকিট পরীক্ষক হিসাবে কাজ করেছে ধোনি। সেটা দেখেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিল তারিক। এক দিনে বৃষ্টির সময়ে প্ল্যাটফর্মে বসে থাকা ধোনি দৌড়ে ঘরে ফেরার ট্রেনে উঠে পড়েছিল, যাতে শেষ এক বার ক্রিকেট খেলার স্বপ্ন ছুঁয়ে দেখতে পারে। ওটা দেখে তারিক নিজেকে ধরে রাখতে পারেনি।”

দুবাই ছেড়ে দেশে ফেরেন তারিক। সাফল্য সহজে আসেনি। নৌশেরায় একটি অ্যাকাডেমিতে ভর্তি হন। সেখান ইফতিকার আহমেদকে নেটে বল করতেন। এক দিন বোলিংয়ের ভিডিয়ো ভাইরাল হয়ে যায়। রাতারাতি খ্যাতনামী হয়ে যান তারিক। ক্লাবগুলি ম্যাচ খেলানোর জন্য তারিককে ভাড়া করতে থাকে। ম্যাচ পিছু ৫০০-১৫০০ টাকা পেতেন। এর পর আমেরিকা থেকে প্রস্তাব পান একটি ছোট ক্লাবে খেলার। এর পর করাচি প্রিমিয়ার লিগে খেলে সকলের নজর কাড়েন। এর পর সুযোগ পান পাকিস্তান সুপার লিগে। সেখান থেকে ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ, জাতীয় দল হয়ে এখন বিশ্বকাপে।

খুব ছোটবেলায় বাবাকে হারান তারিক। পরিবারের একমাত্র রোজগেরে ছিলেন তিনিই। কিশোর থাকতে থাকতেই দুবাই চলে যান। সেখানে একটি হোটেলে পেঁয়াজ কাটার কাজ করতেন। কয়েক সপ্তাহ করার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন হাসিবকে বার্তা পাঠিয়ে ফিরে আসেন পেশোয়ারে। একটানা দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে পিঠে ব্যথা করত তারিকের।

সেই সময় হাসিব কাজ করতেন কাবুলের একটি এনজিও-তে। সেখানে ডেকে নেন তারিককে। কিন্তু কাবুলের অসহ্য ঠান্ডায় কাবু হয়ে পড়েন তারিক। হাসিবের প্রয়াস সত্ত্বেও চাকরি পাননি। তিন সপ্তাহ পর দেশে ফেরেন। এর পর পেশোয়ারে ফিরে আবার দুবাই চলে যান। দুবাই বিলাসবহুল শহর হওয়ায় ভাল চাকরি ছাড়া থাকার জায়গা পাওয়া কঠিন ছিল। তাই একটি শ্রমিক শিবিরে থাকতে শুরু করেন ২০ জনের সঙ্গে ঘর ভাগ করে। পরে একটি সংস্থায় চাকরি পান।

পেশোয়ার জ়ালমির ট্রায়ালে গিয়ে নির্বাচকদের খুশি করেন তারিক। প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও সই করানো হয়নি। পরে জ়ালমি ম্যাচ খেলার জন্য পাকিস্তানে ডাকে তারিককে। কিন্তু চাকরি হারানোর ভয়ে পিএসএলের দলের প্রস্তাবে না করে দেন তারিক। এর পরেই আসে ধোনির জীবনীচিত্র দেখার সেই দিন, যা আমূল বদলে দিয়েছে তারিকের জীবন।

Usman Tariq Pakistan Cricket India vs Pakistan
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy