এক বছরের উপর হয়ে গেল টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছেন তিনি। তারও আগে ছেড়েছেন টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট। এখন খেলেন শুধু এক দিনের ক্রিকেট। বিরাট কোহলিকে কি আবার সাদা জার্সিতে দেখা যাবে? সম্প্রতি এমনই জল্পনা তৈরি হয়েছিল। তার উত্তর দিয়েছেন কোহলি।
সম্প্রতি কোহলির সংস্থা ‘ওয়ান৮’-এর একটি অনুষ্ঠান ছিল দিল্লিতে। কোহলির সংস্থার তৈরি একটি জুতোর দাম রাখা হয়েছে ৯২৩০ টাকা। ঘটনাচক্রে, টেস্টে কোহলির রানসংখ্যাও ওটাই। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক দানিশ সৈত কোহলিকে এই নিয়ে প্রশ্ন করেন কোহলিকে। জিজ্ঞাসা করেন, কোহলি কি আবার টেস্টে ফেরার পরিকল্পনা করছেন? সঙ্গে সঙ্গে হাসতে হাসতে কোহলি উত্তর দেন, “দরকার হলে আমি কম দামেও বিক্রি করতে রাজি। কিন্তু টেস্ট থেকে পুরোপুরি অবসর নিয়েছি।”
মাস খানেক একটি সাক্ষাৎকারে টেস্ট ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুলেছিলেন কোহলি। টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে কোহলি বলেছেন, ‘‘অনেক দিন টেস্ট খেলেছি। ভারতীয় দলকে নেতৃত্ব দিয়েছি। বেশ কিছু দুর্দান্ত জয় পেয়েছিলাম আমরা। আমার মনে হয়, আমাদের টেস্ট ক্রিকেটের একটা সোনালি অধ্যায় ছিল সেটা। তখন আমাদের দলে এমন সব তরুণ ক্রিকেটার ছিল, যারা টেস্ট ক্রিকেট খেলতে চাইত। আমরা সকলে তরুণ বয়সেই জীবনের সেরা সুযোগটা পেয়েছি। আমাদের মধ্যে বয়সের পার্থক্য খুব বেশি ছিল না। ধরুন চেতেশ্বর পুজারা, অজিঙ্ক রাহানে, রবিচন্দ্রন অশ্বিন, ইশান্ত শর্মা, মহম্মদ শামি, রবীন্দ্র জাডেজার কথা বলব। সকলের বয়স ছিল কুড়ির ঘরে। এমন একটা দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পেয়েছি, যে দলের গড় বয়স ছিল বেশ কম। আমরা দায়িত্ব, অভিজ্ঞতা সব ভাগ করে নিতাম। বিদেশের মাটিতেও আমরা প্রচুর সাফল্য পেয়েছি।’’
আরও পড়ুন:
টেস্ট দল নিয়ে কোহলি আরও বলেছেন, ‘‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, আমাদের দলে সিনিয়র এবং জুনিয়র ক্রিকেটারদের মধ্যে বয়সের বেশি তফাত ছিল না। সকলেই শুরুর দিকে সিনিয়রদের সঙ্গে খেলেছি। পরে জুনিয়রদের সঙ্গেও আমরা বন্ধুর মতো মেশার চেষ্টা করেছি। আমি হয়তো অধিনায়ক ছিলাম। টিম ম্যানেজমেন্ট আমাদের পথ দেখাত। তবে সকলের বয়স কাছাকাছি হওয়ার সব কিছু ভাগ করে নেওয়ার একটা ব্যাপার ছিল। কয়েক জন মিলে দল চালাবে এমন কোনও ব্যাপার ছিল না। সকলে দায়িত্ব নিত। আমাদের মনে হয়েছিল, কী করে কয়েক জন তরুণ মিলে আগামী ছয়, সাত বা আট বছরের একটা দল গড়ে তোলা । কী করে আরও ভাল পারফর্ম করা যায়। আমরা নিজেদেরই প্রশ্নের মুখে ফেলতাম।’’ ২০১৪ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরে ভারতের টেস্ট অধিনায়ক হয়েছিলেন কোহলি। মহেন্দ্র সিংহ ধোনি চোটের জন্য খেলতে পারেননি। সে সময় সহ-অধিনায়ক কোহলিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।