×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

১৯ জুন ২০২১ ই-পেপার

মাঠের ফ্রান্সেও এখন ক্ষোভ আর হিংসা

বর্ণবৈষম্যের অভিযোগ তুলে দেশঁকে ফের দুরমুশ কঁতোনার

নিজস্ব প্রতিবেদন
১৯ জুন ২০১৬ ০৯:৩২
সমালোচনার মুখে দেশঁ।

সমালোচনার মুখে দেশঁ।

উদ্বোধনী ম্যাচ জিতে তাঁর অধুনা বিখ্যাত কান্নার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে অজান্তে আরও একটা তথ্য ফাঁস করে দিয়েছিলেন দিমিত্রি পায়েত। পরিষ্কার ইঙ্গিত দিয়ে ফেলেছিলেন, তাঁর এবং তাঁর সতীর্থদের মননে যমজ আবেগ বিরাজ করছে— চাপ আর টেনশন।

শুধু ফরাসি টিম কেন, ইউরোর প্রাক্ লগ্নে গোটা ফ্রান্সের মানসিক অবস্থান বোঝাতেও ওই দুটো শব্দ অনায়াসে ব্যবহার করা যায়— চাপ আর টেনশন। অলিতে-গলিতে জঙ্গি-হানার প্রচ্ছন্ন আতঙ্ক, বন্যা, ধর্মঘট, পুলিশি টহল— এমন পটভূমিতে এত বড় একটা টুর্নামেন্ট আয়োজন করা কী সোজা কথা! আর একটা গোটা দেশ, একটা গোটা জাতি তাদের এই টেনশন, তাদের এই চাপ যেন চাপিয়ে দিয়েছে জাতীয় টিমের উপর। দিমিত্রি পায়েত, দিদিয়ের দেশঁদের উপর।

অথচ আশ্চর্যের হল, প্রথম দুটো ম্যাচ জিতে এক ম্যাচ বাকি থাকতে নকআউটে উঠে যাওয়া টিমটাকেও মনপ্রাণ দিয়ে সমর্থন করছে না ফ্রান্স। কোচের বিরুদ্ধে বর্ণবৈষম্যের গুরুতর অভিযোগ আনছে। প্রাক্তন ফরাসি ফুটবলার এরিক কঁতোনা তো খোলাখুলি বলে দিয়েছেন, গায়ের রঙের জন্য জাতীয় দলে জায়গা পাননি হালফিল ফ্রান্সের অন্যতম সেরা ফুটবলার হাতেম বেন আরফা। যাঁর পরিবার তিউনিশিয়ার, যিনি ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী। যে প্রসঙ্গে কঁতোনার বিস্ফোরণ, ‘‘দেশঁর নামটা খাঁটি ফরাসি। বোধহয় ফ্রান্সে ও-ই একমাত্র মানুষ যার নাম এতটা খাঁটি ফরাসি। ওর পরিবারের কেউই তো কারও সঙ্গে মিশত না। বেন আরফা আমার মতে এই মুহূর্তে দেশের সেরা প্লেয়ার। কিন্তু ও যে পরিবেশ থেকে এসেছে, সেটাও ভাবার বিষয়। আমি তো সেটা নিয়ে ভাবতেই পারি!’’

Advertisement

এখানে থেমে থাকেননি কঁতোনা। করিম বেঞ্জিমার দৃষ্টান্ত টেনে এনে দেশঁর বিরুদ্ধে ফের তোপ দেগেছেন। ইউরোর মাসকয়েক আগে সেক্স টেপ কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েন বেঞ্জিমা। রিয়াল মাদ্রিদের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ী সদ্যসমাপ্ত মরসুমে আঠাশটা গোল রয়েছে আলজিরিয়ান বংশোদ্ভূত এই মুসলমান ফুটবলারের। কঁতোনা বলে দিয়েছেন, ‘‘বেঞ্জিমা যে পরিস্থিতিতে পড়েছিল, সেটাকে ব্যবহার করে দেশঁ ওকে টিম থেকে বাদ দিয়েছে। যেটা দেখে আমি একটুও অবাক হইনি!’’

মাঠের বাইরে শুধু নয়। মাঠেও ফরাসি কোচের স্ট্র্যাটেজি মনে ধরছে না বিশেষজ্ঞদের। দু’ম্যাচে সর্বোচ্চ ৬ পয়েন্ট পকেটে থাকলে কী হবে, দেশ জুড়ে গুঞ্জন চলছে যে, ফ্রান্সের ফর্ম মোটেই চোখ ধাঁধিয়ে দেওয়ার মতো নয়। বিশেষ করে প্যাট্রিস এভ্রা এবং ব্লেজ মাতুইদিকে খেলানোর স্ট্র্যাটেজি নিয়ে সমালোচনা চলছে। বলা হচ্ছে, রবিবার সুইৎজারল্যান্ড ম্যাচে কোনও চাপ নেই। অন্তত এই ম্যাচে অনায়াস একটা জয় আসুক।

এ সবের মধ্যে আবার মিডিয়ার সঙ্গে ঝামেলায় জড়িয়ে পড়েছেন পল পগবা। ইউরোর আগে তেইশ বছরের তারকাকে নিয়ে যে পরিমাণ হইচই করেছিলেন ফরাসিরা, এখনও পর্যন্ত তার মর্যাদা দিতে পারেননি পগবা। গত বুধবার আলবেনিয়ার বিরুদ্ধে পায়েতের গোলের পরে তিনি হঠাৎই মিডিয়ার দিকে অশালীন ইঙ্গিত করে বসেন। পরে তিনি ঘটনাটা অস্বীকার করলেও দেশবাসী তাঁর উপর বিশেষ প্রসন্ন নয়।

একই সঙ্গে ফরাসিরা জানেন যে, ইউরো ঘিরে রক্ত-হিংসা-মারপিটের যে প্রেক্ষাপট দিন দিন আরও জোরাল ভাবে জাঁকিয়ে বসছে, সেটাকে ভেঙে চুরমার করে দিতে পারেন পল পগবা, দিদিয়ের দেশঁরাই। আর তাই টিম নিয়ে, কোচ নিয়ে যতই অনুযোগ-অভিযোগ থাক, গোটা দেশ তাকিয়ে রয়েছে ওই কয়েক জনের দিকে।

দিমিত্রি পায়েতের দুটো গোল যদি এত আনন্দ, এত উৎসবের উৎস হয়, তা হলে একটা আস্ত ট্রফি কোন সঞ্জীবনী মন্ত্রের সন্ধান এনে দেবে!

Advertisement