Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

০৫ ডিসেম্বর ২০২১ ই-পেপার

রকির গান আর স্ট্যালনের টোটকা নিয়ে রিংয়ে নামবেন প্যাকম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদন
০৩ মে ২০১৫ ০৩:৪১
টিম মেওয়েদারে রয়েছেন কিম কার্দাশিয়ান। এ দিকে স্ট্যালনের সঙ্গে পাকিয়াওয়।

টিম মেওয়েদারে রয়েছেন কিম কার্দাশিয়ান। এ দিকে স্ট্যালনের সঙ্গে পাকিয়াওয়।

শতাব্দীর সেরা লড়াইয়ের জন্য নাকি ‘এক্সপ্যান্ডেবেলস ৪’-এর শ্যুটিং বন্ধ রয়েছে? শুনে হকচকেই যাওয়ার কথা। একটা বক্সিং ম্যাচের সঙ্গে চলচ্চিত্রের কী সম্পর্ক? ‘রকি’ খ্যাত হলিউড অভিনেতা সিলভেস্টর স্ট্যালন সেই রহস্যটাও ফাঁস করে দিলেন। কিংবদন্তি বক্সিং চরিত্রে অভিনয় করা স্ট্যালন যেন এখন ম্যানি-র অদৃশ্য কোচ হয়ে উঠেছেন। তাও আবার যে লড়াইয়ে রয়েছেন নিজের দেশের বক্সার ফ্লয়েড মেওয়েদার। মেওয়েদারের নামের পাশ থেকে ‘অপরাজিত’ থাকার তকমাটা মুছতে এতটাই বদ্ধপরিকর স্ট্যালন যে পাকিয়াওয়কে নাকি তিনি কথা দিয়েছেন, ম্যাচ জিততে পারলেই ‘এক্সপ্যান্ডেবেলস ৪’-এ তাঁর জন্য থাকবে কোনও ভূমিকায় অভিনয় করার সুযোগ।

শতাব্দীর সেরা বক্সিং লড়াই নিয়ে যত না উত্তেজনা বক্সিং জগতে তার থেকে ঢের বেশি উন্মাদনা শো-বিজনেসের দুনিয়ায়। এক দিকে রয়েছেন ‘গোলিয়াথ’ মেওয়েদার। যিনি হার মানতে জানেন না। অন্য দিকে দারিদ্রেক হারা মানানো ‘ডেভিড’ পাকিয়াওয়। যিনি অবিশ্বাস্য জয়ের থেকে আর বারো রাউন্ড হয়তো দূরে। অর্থাত্ বিপণনের সমস্ত রসদ মজুদ আছে এই লড়াইয়ে। তার উপরে আবার শতাব্দীর সেরা লড়াইয়কে অন্য মাত্রা দিয়েছেন স্ট্যালন। যিনি এক সময়ে সিলভার স্ক্রিনের দৌলতেই হয়ে উঠেছিলেন অনেক বক্সারের অনুপ্রেরণা। ‘রকির’ মতো একটা কাল্পনিক চরিত্রের মধ্যে দিয়েও সবাই খুঁজে পেয়েছিল হার না মানা বক্সারকে।

ম্যাচের আগে সেই ‘হার না মানা’ মানসিকতাই পাকিয়াওয়র মধ্যে সঞ্চার করতে চান স্ট্যালন। এই কারণেই প্রায় অর্ধেক দিন নাকি ‘রকি’ স্ট্যালন উপস্থিত ছিলেন পাকিয়াওয়র ট্রেনিংয়ে। প্যাকম্যানের শেষ লড়াইয়ও রিংসাইডে বসে দেখেছিলেন তিনি। এমনকী প্রতিটা সেশনের পরে নাকি আলাদা করে পরামর্শ দিয়েছেন ‘রকি’। তাতাতে বলেও দিয়েছেন, ম্যাচের আগে কী কী করতে হবে। হয়তো স্ট্যালনের পরামর্শ নিয়েই ফিলিপিন্সের প্যাকম্যান ঠিক করেছেন ম্যাচের ঠিক আগে রকির সেই বিখ্যাত থিম সং ‘আই অব দ্য টাইগার’ শুনবেন। যাতে আত্মবিশ্বাসী মেজাজে রিংয়ে প্রবেশ করতে পারেন।

Advertisement

তবে ‘টিম পাকিয়াওয়-র’ সদস্য শুধু স্ট্যালন নন। হলিউডের অ্যাকশন আইকন আর্নল্ড, কিয়ানু রিভস, মিকি রোর্ক সবাই চাইছে ‘সিন্ডারেলা স্টোরি’ দেখতে। অর্থাত্ আন্ডারডগের জয় হোক। অস্কারের জন্য মনোনীত হওয়া মার্ক ওয়ালবার্গ আবার ২,৫০,০০০ হাজার পাউন্ড বাজি লড়েছেন পাকিয়াওয়র জন্য। যে টাকা হারলে যাবে কোনও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থায়।



‘ডেভিড’ প্যাকম্যানের পাশে যদি হলিউড তারকারা থাকেন, টিম মেওয়েদারের জন্য গলা ফাঁটাবেন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গীত জগতের নক্ষত্ররা। বিখ্যাত র‌্যাপার ফিফটি সেন্ট যেমন ১ কোটি ৬০ লক্ষ বাজি ধরেছেন— মেওয়েদারের অপরাজিত তকমা মুছবে না। তরুণ গায়ক জাস্টিন বিবারও মেওয়েদারের পাশে। ঘটনাচক্রে মেওয়েদারের মেয়ে নাকি বিশাল বড় বিবার-ভক্ত। যে কারণে ব্যক্তিগত জীবনে খুব ভাল সম্পর্ক মেওয়েদার-বিবারের। আবার কিংবদন্তি জুটি জে-জি ও বিয়ন্সে নিজেদের পছন্দের বক্সারের সম্বন্ধে গোপন রাখেননি কিছু। স্বামী-স্ত্রী জুটি মেওয়াদেরর প্রায় প্রতিটা ম্যাচে এরিনায় হাজির ছিলেন। এমনকী বক্সিং ম্যাচের পরে জে-জির যে পার্টি হবে, তাতে একান্তভাবে উপস্থিত থাকতে বলেছেন মেওয়েদারকে।

শো-বিজে উত্তেজনা তুঙ্গে থাকলেও, বক্সিং-মহল ম্যাচটাকে ‘লোভী দুই অ্যাথলিটের’ ব্যাঙ্ক ব্যালান্স বাড়ানোর মঞ্চ ছাড়া কিছু দেখছেন না। যেই জিতুন, ভাল রকমের টাকাই পেতে চলেছেন দুই অ্যাথলিট। বিশাল ভাবে বিপণন করা হয়েছে এই লড়াইকে।

আর তাতেই তো ওয়েল্টারওয়েটের এই লড়াই ঘিরে রব উঠেছে, ‘‘শতাব্দীর সেরা ম্যাচ হওয়া ছাড়াও এটা শতাব্দীর সেরা মার্কেটিং।’’

মেগা লড়াই নিয়ে বিজেন্দ্র-মেরি দুই মেরুতে

নিজস্ব সংবাদদাতা • নয়াদিল্লি

গোটা বিশ্ব যখন একটা লড়াইয়ের দিকে তাকিয়ে, তখন ভারতীয় বক্সাররা কি করে দূরে সরে থাকবেন? ভারতীয় বক্সিং সার্কিটের দুই তারকার সঙ্গে কথা বলে বোঝা গেল, এখানেও বিভাজন হয়ে গিয়েছে সমর্থন। এক জন গলা ফাটাবেন ফ্লয়েড মানি মেওয়েদারের জন্য। আর অন্যজন চেঁচাবেন মানি পাকিয়াওয়র জন্য। প্রথমজন বেজিং অলিম্পিকের ভারতের ব্রোঞ্জজয়ী বক্সার বিজেন্দ্র সিংহ। আর দ্বিতীয়জন লন্ডন অলিম্পিকের ব্রোঞ্জজয়ী বক্সার মেরি কম। তিনি নিজে একজন ডিফেন্সিভ বক্সার। তাই বিজেন্দ্র সিংহের পছন্দ মেওয়েদার। আর মেরিকে টানছে পাকিয়াওয়ের মানসিকতা। যে মানসিকতা বলে— লড়ে জিতে নেব গোটা দুনিয়া। এ দিন ফোনে মেরি বলছিলেন, ‘‘আমার মতোই পাকিয়াওকে অনেক লড়াই করে এই জায়গায় পৌঁছতে হয়েছে। আমার সমর্থন তো ওর দিকেই থাকবে। নিজের ছায়া যেন আমি ফিলিপিন্সের ওই বক্সারের মধ্যে দেখতে পাই।’’ দুই বক্সারের বিশেষত্বটা কী? বিজেন্দ্র বলছেন, ‘‘মেওয়েদার একটু ডিফেন্সিভ বক্সার। আর একটু স্লো। এটা সমস্যা হতে পারে।’’ মেরি কম আবার মেওয়েদারের প্রতিদ্বন্দ্বী নিয়ে বললেন, ‘‘আক্রমণই ওর সেরা অস্ত্র।’’ মেরি চান দুনিয়ার কাউকে পরোয়া না করা ‘প্যাকম্যান’ জিতুন শতাব্দির সেরা এই বক্সিং যুদ্ধটা। কারণ মেরির মতে যে পরিবেশ থেকে পাকিয়াও উঠে এসেছেন, সেখানে কাউকে পাশে পাওয়া বেশ কঠিন ব্যাপার। তার উপর এই লড়াইয়ে যে ‘প্যাকম্যান’ আন্ডারডগ। তাই আজ মেরি গলা ফাটাবেন পাকিয়াওয়র জন্য। আর বিজেন্দ্র চান তাঁর পছন্দের অপরাজিত মেওয়েদারই অপরাজিত আখ্যাটাকে আজও ধরে রাখুন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হার্টথ্রবই কখন যেন বিজেন্দ্র সিংহেরও হার্টথ্রব হয়ে উঠেছেন।

আরও পড়ুন

Advertisement