E-Paper

ফিফা-প্রক্রিয়ায় অভিনব ‘লাইভ’ সূচির পরিকল্পনা

কী ভাবে কাজ করে এই পদ্ধতি? লাইভ সূচি তৈরি করা সম্ভব এই প্রক্রিয়ায়। এই লাইভ অর্থাৎ সরাসরি সূচি তৈরি গুরুত্বপূর্ণ কারণ সব দল হাজির থেকে তা স্বচক্ষে দেখতে পাবে।

সুমিত ঘোষ

শেষ আপডেট: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:২৬
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

আইএসএলে মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল ডার্বি কবে দেখা যাবে?

১৪ ফেব্রুয়ারি থেমে থাকা লিগ শুরু হচ্ছে ঘোষণা হওয়ার পর থেকে কলকাতার ক্রীড়াপ্রেমীদের মনে এখন এটাই সব চেয়ে বড় প্রশ্ন। জানিয়ে দেওয়া যাক, এ বারে অভিনব পদ্ধতিতে আইএসএলের সূচি চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন। এমন এক প্রক্রিয়ার সাহায্য নেওয়া হবে সূচি তৈরির জন্য, যা আগে কখনও হয়নি। কী সেই প্রক্রিয়া? ফিফার মাইক্রোসফ্‌ট এক্সেল প্রোগ্রামিং।

কী ভাবে কাজ করে এই পদ্ধতি? লাইভ সূচি তৈরি করা সম্ভব এই প্রক্রিয়ায়। এই লাইভ অর্থাৎ সরাসরি সূচি তৈরি গুরুত্বপূর্ণ কারণ সব দল হাজির থেকে তা স্বচক্ষে দেখতে পাবে। কারও অভিযোগ করার জায়গা থাকবে না যে, অমুককে সুবিধা করে দেওয়া হল বা আমাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় কোনও মনুষ্য-হস্তক্ষেপ থাকছেই না। যা করবে বিশেষ সফ্টওয়্যারের মাধ্যমে তৈরি এই প্রক্রিয়া করবে। দলগুলিকে একটি পটে (পাত্রে) রাখা হবে, তার পরে এক-এক করে বার করা হবে। সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, প্রত্যেকটি দলকে সূচি তৈরির এই প্রক্রিয়ার দিন আমন্ত্রণ জানাবে। সকলের চোখের সামনে লাইভ চলবে এ বারের আইএসএলের সূচি তৈরি প্রক্রিয়া।

প্রতিযোগিতা শুরুর দিন, ক’টা দল, ফর্ম্যাট ইত্যাদি তথ্য কম্পিউটারে দিয়ে দিতে হবে। যেমন এ ক্ষেত্রে ১৪ ফেব্রুয়ারি শুরুর তারিখ। এ দিন ওড়িশা এফসি জানিয়ে দিয়েছে, তারাও আইএসএলে খেলতে চায়। অর্থাৎ, ১৪টি দলই খেলছে। তা হলে ১৪টি দলের নাম দিতে হবে। সঙ্গে ফর্ম্যাট— ওয়ান লেগ হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে। অর্থাৎ, প্রত্যেক দল এক বার করেই সব প্রতিপক্ষকে খেলবে। সেই ম্যাচ হয় নিজেদের ঘরে খেলবে বা প্রতিপক্ষের মাঠে। এ বার কোন প্রতিপক্ষকে হোমে খেলবে আর কাদের বিরুদ্ধে অ্যাওয়ে ম্যাচ হবে, তা এই প্রক্রিয়াই ঠিক করে দেবে। ইলিশ বনাম চিংড়ি এই মরসুমের সংক্ষিপ্ত আইএসএলে একবারই হবে। কবে হবে, তা ফিফার এই বিশেষ প্রক্রিয়া বলে দেবে। যে-হেতু ডার্বির দু’টো দলই কলকাতার, তাই ম্যাচ কোথায় হবে, তা নিয়ে নাটকের কোনও জায়গা নেই। ম্যাচ যুবভারতীতেই হবে। মেসি-কাণ্ডের জেরে যুবভারতী নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছিল, তা কেটে যাবে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে। শুধু এটা দেখার যে, কার হোম ম্যাচ হয়। মশাল না পালতোলা নৌকার? যারই হোক, একটা দলেরই এ বার হোম ম্যাচ হতে পারে যে-হেতু ডার্বি একবারই হবে। মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল দু’দলেরই হোম হবে যুবভারতী। মহমেডানের হোম কিশোর ভারতী। ইন্টার কাশীর বারাসত ও কল্যাণী স্টেডিয়াম। বাকি সব দলের হোম তাদের নিজেদের শহরেরঘরের মাঠ।

এআইএফএফ প্রথমে ভেবেছিল, কে কোন ম্যাচগুলি নিজেদের মাঠে খেলতে চায়, তা ক্লাবগুলির হাতে ছেড়ে দেবে। কিন্তু পরে বুঝতে পারে এই মুক্ত ময়দান করতে গেলে পুরো বিষয়টি খুব জটিল আকার নিতে পারে। সবাই চাইবে নিজেদের সুবিধা মতো ঘরের মাঠে ম্যাচ নিতে। এ ব্যাপারে সহমত হওয়াও খুব কঠিন। ফেডারেশন সভাপতি কল্যাণ চৌবে তখন প্রস্তাব দেন, ফিফার বিশেষ প্রোগ্রামিং রয়েছে যখন, তা হলে তার ব্যবহার করব না কেন? অনেক স্বচ্ছতাও তো আনা যাবে। সকলের সামনে সূচি তৈরি হবে এমন একটা পদ্ধতিতে যেখানে কোনও মানুষের ভূমিকাই নেই। পুরোটাই কম্পিউটার সিস্টেম দ্বারা চালিত। সভাপতির প্রস্তাব ফেডারেশনের মধ্যে সকলে তো মেনে নিয়েছেনই, ক্লাবেদেরও খুশি হওয়ার কথা যে, বিশ্বের সমস্ত বড় প্রতিযোগিতার সূচি যে ভাবে লাইভ হয়, এই প্রথম ভারতীয় ফুটবলেওতা দেখা যাবে।

এ দিন এএফসি-কেও চিঠি পাঠিয়ে দিয়েছে ফেডারেশন এ বারের সংক্ষিপ্ত আইএসএলের অনুমোদন চেয়ে। সকলে আশাবাদী, এএফসি পরিস্থিতি বুঝতে পারবে এবং লিগকে স্বীকৃতিও দেবে। মোটামুটি ধরা ছিল, ১৩ সপ্তাহ লাগবে আইএসএল শেষ করতে। কিন্তু ৩১ মার্চ হংকংয়ের সঙ্গে ভারতের ম্যাচ রয়েছে। সেই সময়ে সপ্তাহখানেকের বিরতি দিতে হবে, কারণ অনেক ফুটবলার জাতীয় দলের হয়ে খেলবেন। তাই মোটামুটি ভাবে ধরা যেতে পারে ১৪ সপ্তাহ লাগবে এ বারের আইএসএল সম্পন্ন করতে।

কবে হতে পারে এই লাইভ সূচি তৈরির প্রক্রিয়া? তা ঠিক করার দায়িত্ব পড়বে আইএসএলের গভর্নিং কাউন্সিল বা বোর্ডের উপরে। আজ, মঙ্গলবার ফেডারেশন ও ক্লাব জোটের বিশেষ সভা বসছে ছয় সদস্যের বোর্ড ঠিক করার জন্য। তিন জন সদস্যকে নেওয়া হবে ফেডারেশন থেকে, তিন জন থাকবেন ক্লাবেদের দিক থেকে। এই মুহূর্তে কমার্শিয়াল পার্টনার বা বাণিজ্যিক সঙ্গী কেউ নেই। তারা এলে ক্লাব থেকে দু’জন, তাদের এক জন প্রতিনিধি থাকবে।

সোমবার রাত পর্যন্ত যা খবর, এ বছরে বাণিজ্যিক সঙ্গী পাওয়া কার্যত অসম্ভব। আর সেই সময় নেই। কুড়ি বছরের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে রিলায়্যান্সের এফএসডিএল ফিরতে পারে। তাদের সঙ্গে ক্লাব জোটের আলোচনা চলছে। এ বারে তা হলে আইএসএল সম্প্রচার করবে কারা? কয়েকটি চ্যানেল, ওটিটি-র সঙ্গে কথাবার্তা চলছে। মনে রাখতে হবে, সেই সময় দেশের মাঠে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট বিশ্বকাপ চলবে। রিলায়্যান্স সংস্থার জিয়োহটস্টার সেই বিশ্বকাপের সরকারি সম্প্রচারক। ক্রিকেট বিশ্বকাপের ম্যাচ সন্ধ্যাবেলাতেই হবে। সেই প্রাইম টাইমে ক্রিকেট না দেখিয়ে কেউ ফুটবল দেখাবে, এমন কি দুঃস্বপ্নেও ভাবা সম্ভব? এক যদি ক্রিকেটের পাশাপাশি ফুটবল দেখাতেও রাজি হয়, তা হলে অন্য কথা।

বেশির ভাগ নামী সংস্থা বিজ্ঞাপনের জন্য ক্রিকেট বিশ্বকাপে ইতিমধ্যেই লগ্নি করে ফেলেছে। ফলে কোনও চ্যানেল বা ওটিটি যদি আইএসএল দেখাতে রাজিও হয়, তাদের আর্থিক লাভের স্বপ্ন না দেখাই ভাল। একান্তই যদি কোনও প্রাইভেট চ্যানেল বা ওটিটি এগিয়ে না আসে, দূরদর্শনের শরণাপন্ন হয়ে এ যাত্রা বৈতরণী পার করতে হবে ফেডারেশনকে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

ISL 2026 AFC fifa

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy