Advertisement
E-Paper

রাজ্যের স্কুলগুলিতে একদিকে নেই শিক্ষক, এ বার আসছে কেন্দ্রীয় বাহিনী, প্রশ্নের মুখে পঠন-পাঠন

ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) জন্য স্কুলগুলি থেকে নেওয়া হয় শিক্ষক-শিক্ষিকাদের। সেই প্রক্রিয়া শেষ হতে না হতেই এ বার কেন্দ্রীয় বাহিনীর জন্য নেওয়া হচ্ছে স্কুলগুলি। সব মিলিয়ে রাজ্যের ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনায় ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে বলে মনে করে রাজ্যের শিক্ষকমহল।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:১০
প্রতীকী চিত্র।

প্রতীকী চিত্র।

রাজ্যে এখন‌ও ঘোষণা হয়নি ভোট। কিন্তু তার আগেই ২৪০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী আসতে চলেছে কলকাতা-সহ বিভিন্ন জেলায়। আর তাদের জন্য নেওয়া হচ্ছে স্কুলগুলো। তাই স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা। কেন্দ্রীয় বাহিনী এলে ক্লাস ও পরীক্ষা, কোনওটাই হবে না। প্রায় তিন মাসের জন্য সব কিছু বন্ধ হয়ে যাবে, বলছেন প্রধান শিক্ষকেরা।

ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) জন্য স্কুলগুলি থেকে নেওয়া হয় শিক্ষক-শিক্ষিকাদের। সেই প্রক্রিয়া শেষ হতে না হতেই এ বার কেন্দ্রীয় বাহিনীর জন্য নেওয়া হচ্ছে স্কুলগুলি। সব মিলিয়ে রাজ্যের ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনায় ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে বলে মনে করে রাজ্যের শিক্ষকমহল।

বিএল‌ও-র কাজ করার জন্য বিভিন্ন স্কুল থেকে ১৫ থেকে ৩০ জন করে শিক্ষক-শিক্ষিকাকে ডাকা হয়েছিল। এর ফলে প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত পঠন-পাঠনে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ বার স্কুলগুলিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী চলে এলে আর পঠন-পাঠন করানো সম্ভব হবে না। নারায়ণ দাস বাঙ্গুর স্কুলের প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় বড়ুয়া বলেন, ‘‘শিক্ষক না থাকায় ছাত্র-ছাত্রীদের পঠন-পাঠনে ইতিমধ্যেই ক্ষতি হয়েছে। আর কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকার জন্য যদি তিন মাস তাদের স্কুলমুখী না করা যায়, তা হলে আরও বেশি ক্ষতি হবে। আমার স্কুলে যারা পড়ে তারা দুঃস্থ পরিবার থেকে আসে। ফলে অনলাইনেও ক্লাস নেওয়া কার্যত অসম্ভব।’’ শিক্ষকদের প্রশ্ন, এপ্রিল মাসে ছাত্র-ছাত্রীদের সামিটিভ পরীক্ষা রয়েছে। তার প্রস্তুতি কী ভাবে হবে?

স্কুলে কেন্দ্রীয় বাহিনী এলে আর কোন‌ও ক্লাস করানো যাবে না। তার পরে এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে যদি ভোট শুরু হয়, তা হলে ক্লাস হওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই। তার পরে মে মাস থেকে গরমের ছুটি পড়ে যায় রাজ্যে।

যে সব স্কুলে কেন্দ্রীয় বাহিনী আসছে না, তাদের কাছ থেকে ঘর ভাড়া নিয়ে কিছু স্কুল ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাস নেওয়ার চেষ্টা করছে। দমদম সর্বোদয় বালিকা বিদ্যাপীঠ (মাধ্যমিক)-এর প্রধান শিক্ষক স্নিগ্ধা সেন মণ্ডল বলেন, ‘‘ভোটের এত আগে কেন্দ্রীয় বাহিনী আসায় স্কুলের পঠন-পাঠন নিয়ে যথেষ্ট দুশ্চিন্তায় আমরা। ছাত্র-ছাত্রীরা যাতে পড়াশোনা করতে পারে, তার জন্য পাশের প্রাথমিক স্কুলের দুটি ঘর ভাড়া নিয়েছি। স্কুল যদি তিন মাস বন্ধ রাখা হয়, তা হলে স্কুল ছেড়ে বহু ছাত্র-ছাত্রী অন্যত্র চলেও যেতে পারে। পরে কী ভাবে অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়া যাবে তা নিয়েও প্রশ্ন থাকছে।’’

ইতিমধ্যেই বেশ কিছু শিক্ষক সংগঠন নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠিও দিয়েছে, যাতে ভোটের কারণে রাজ্যের পড়ুয়াদের পঠন-পাঠন ব্যাহত না হয়। শিক্ষানুরাগী মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারী বলেন, ‘‘কেন্দ্রীয় বাহিনী রাখার জন্য নির্বাচন কমিশনের বিকল্প ব্যবস্থা করা উচিত। বিভিন্ন ব্লকে কৃষক মান্ডি বা অডিটোরিয়াম রয়েছে যেখানে প্রচুর জায়গা পড়ে রয়েছে। কিন্তু তা না করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে পঠন-পাঠনের ক্ষতি করার হচ্ছে। এত দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলে ছাত্র-ছাত্রীদের ক্ষতি হবে।’’

CRPF Jawan school WB Teachers
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy