কনফেডারেশন অফ আফ্রিকান ফুটবলের (সিএএফ) বিতর্কিত সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ সেনেগাল। আফ্রিকা কাপ অফ নেশনস ফাইনালে মরক্কোর বিরুদ্ধে ১-০ ব্যবধানে জেতে সেনেগাল। কিন্তু ফাইনালের দু’মাস পর সেনেগালের খেতাব কেড়ে নিয়ে মরক্কোকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে সিএএফ। তার প্রতিবাদে এ বার আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেনেগালের ফুটবল সংস্থা।
ফাইনালের শেষ মুহূর্তে আয়োজক মরক্কো পেনাল্টি পাওয়ার প্রতিবাদে সেনেগালের কয়েক জন ফুটবলার মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যান। পরে অধিনায়ক সাদিয়ো মানের অনুরোধে মাঠে ফেরেন তাঁরা। মরক্কো অবশ্য পেনাল্টি থেকে গোল করতে পারেনি। চ্যাম্পিয়ন হয় সেনেগাল। কিন্তু ফুটবলারদের মাঠ ছাড়ার শাস্তি হিসাবে সেনেগালের খেতাব কেড়ে নেওয়া হয়েছে। সিএএফ জানিয়েছে, মরক্কোর আবেদন বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সেনেগাল ম্যাচটি ‘পরিত্যাগ’ করে। তাই ফাইনালের ফল মরক্কোর অনুকূলে ৩-০ নথিভুক্ত করা হয়েছে। যুক্তি হিসাবে বলা হয়, খেলা শেষ হওয়ার আগে রেফারির অনুমতি ছাড়া কোনও দলের ফুটবলারেরা মাঠ ছাড়তে পারেন না।
সিএএফ-এর এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ সেনেগালের ফুটবল কর্তারা। তাঁরা এই সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ। তাদের অভিযোগ, আফ্রিকার ফুটবল ধ্বংস করার চক্রান্ত চলছে। দ্রুত তারা আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতের দ্বারস্থ হবে। এক বিবৃতিতে সেনেগাল ফুটবল ফেডারেশন বলেছে, ‘‘আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতের সততা এবং ন্যায়বিচারের মূল্যবোধের প্রতি আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। দেশের ফুটবলপ্রেমীদের সময় মতো সব কিছু জানানো হবে।’’ আরও বলা হয়েছে, ‘‘সিএএফ-এর সিদ্ধান্ত অনৈতিক, নজিরবিহীন এবং গ্রহণযোগ্য নয়।’’ সেনেগালের জাতীয় দলের সদস্য অলিম্পিক লিঁওর ফুটবলার মুসা নিয়াখাতে ক্ষোভ গোপন করেননি। সমাজমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘‘পাগলের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’’ মিডফিল্ডার পাথে কিসিস সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘‘ছিঁচকাঁদুনেদের আরও ৩টে গোল দিয়ে দিতে পারত।’’ সিএএফ-এর সিদ্ধান্ত বিস্মিত মানে বলেছেন, ‘‘লক্ষ লক্ষ ফুটবলপ্রেমীর সঙ্গে প্রতারণা করা হল।’’
অন্য দিকে মরক্কোর ফুটবল সংস্থার বক্তব্য, প্রতিযোগিতার নিয়ম সঠিক ভাবে যাতে মানা হয়, তা নিশ্চিত করতেই আবেদন করেন তাঁরা। সিএএফ-এর সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে আফ্রিকার ফুটবলমহলেও। উল্লেখ্য, আফ্রিকা কাপ অফ নেশনস ফাইনাল হয়েছিল গত ১৮ জানুয়ারি।