Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

০৩ ডিসেম্বর ২০২১ ই-পেপার

নারিনের রুটি-রুজির উপরই তো প্রশ্ন পড়ে গেল

৩০ এপ্রিল ২০১৫ ০২:৫৭
নারিন হারিয়ে গম্ভীর গৌতম।

নারিন হারিয়ে গম্ভীর গৌতম।

কলকাতায় আমাদের টিম হোটেলের পুলসাইডে বসে বুধবার যখন এই কলাম লিখছি, আবহাওয়াটা বেশ মনোরম। পাশেই দেওয়াল ঘড়ির কাঁটা বলছে, সন্ধে সাতটা বাজতে মিনিট কুড়ি বাকি। এই সময়টা আজকে হোটেলের এ দিকটায় একটু অস্বাভাবিকই শান্ত! সাধারণত এই সময়টায় সুইমিং পুলে বাচ্চাদের মনোরম ক্যাঁচোরম্যাঁচোর লেগে থাকে। যার সঙ্গে ঠিক পাশেই একটা বিরাট কনস্ট্রাকশনের বিকট আওয়াজ শোনা যায়। কিন্তু আজ দু’টোর নীরবতাই যেন চেপে বসছে আমার উপর। হাড়ে হাড়ে বুঝছি সব নিস্তব্ধতাই শান্তিদায়ক হতে পারে না। অন্তত একজন অধিনায়কের কাছে তো নয়ই, যার টিম এক দিন আগেই এমন একটা লড়াইয়ে হেরেছে, যেটা অন্তত তার দলের চেয়ে অর্ধেক শক্তির দলও দশবারে ন’বার জিতবে।

হতে পারে সেটাই ভবিতব্য ছিল। আবার হতে পারে নিজের খেলার উপর আমার নিয়ন্ত্রণ ছিল না। যেটাই হোক না কেন, চেন্নাইয়ের কাছে কেকেআরের হারের জন্য সিংহভাগ দায়ী আমিই।

আরও একটা খারাপ খবর, যেটা আমরা পেলাম কলকাতায় ফিরেই—সুনীল নারিনের অফ-ব্রেক করার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। বোঝা যাচ্ছে ওর যে বোলিং অ্যাকশন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছিল সেটা অফ-ব্রেকই। এটা ভাবলে হৃদয়বিদারক হয়ে দাঁড়াচ্ছে যে, অফস্পিনই হল নারিনের স্টক ডেলিভারি। এটা আমাদের শরীরে আঘাত লাগার সামিল। আর নারিনের কাছে তার চেয়েও বড় ধাক্কা। এটা ওর রুটিরুজির প্রশ্ন। কেসটা যা-ই হোক না কেন, আমরা ভীষণ ভাবে ওর পাশে আছি। এবং আমি জানি ঢেউয়ের মুখ উল্টো দিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো ক্ষমতা ওর ভেতর আছে।

Advertisement

চেন্নাই ম্যাচ কাটাছেঁড়ার জন্যও আমার খুব বেশি পিছন ফিরে তাকানোর দরকার নেই। যেহেতু আমার দিকেই সেটা আঙুল তুলছে। যখন জানতাম যে, জিততে আমাদের মেরেকেটে ১৩৫ তুলতে হবে, তার পরেও আমি একটা জঘন্য শট খেলে আউট হয়েছি। টিমমেটরা জিজ্ঞেস করছিল, কেন আমি ওই শটটা খেলতে গিয়েছিলাম! যার উত্তর আমি এখনও হাঁতড়ে বেড়াচ্ছি। সারা রাত ধরে আমি ওই একই প্রশ্ন নিজেকেও করেছি। ‘কেন আমি ওই শটটা নিতে গেলাম?’ কোনও উত্তর নেই। ভুলটা যে মানসিক সেটাও বলতে পারছি না আমি। কারণ, আমাদের ইনিংস শুরুর সময় আমি মানসিক ভাবে ভাল জায়গায় ছিলাম। সত্যি বলতে, ক্রিজের দিকে যাওয়ার সময় বরং নিজেকে তাতাচ্ছিলাম সিএসকে যখন স্পিনার নিয়ে আসবে কী ভাবে তাদের উপর চড়াও হব।

আমার আরও খারাপ লাগছে যখন ভাবছি আমাদের বোলাররা আরও একবার টপ ক্লাস বোলিং করল। পীযূষ, হগ, রাসেল, উমেশ, কামিন্স— প্রত্যেকে সুপার্ব। আর আমরা ব্যাটসম্যানরা একটা অসাধারণ সুযোগকে হাত ফস্কে যেতে দিলাম। এক-এক সময় আপনার মনে হতে পারে যে, আপনার চার পাশের লোকজন আপনাকে চিৎকার করে গালিগালাজ করুক, আপনার সমালোচনা করুক। কিন্তু আমাদের কোচিং স্টাফ বড্ডই ভাল। আমি জানি না এটা ঠিক না ভুল, তবে ওঁদের কেউ আমাদের এই হারের জন্য একটা কথাও বলেননি। কিংবা কে জানে, ওঁরা আমাদের উপর হয়তো ভীষণ রকম বিরক্ত!



যেটাই হোক, এই নিস্তব্ধতাই আমাদের পিছনে একটা লাথি কষানোর কাজ করতে পারে। নিজেদের জাগাতে যেটা আমাদের খুব দরকার। বৃহস্পতিবারই আমরা আবার সিএসকের বিরুদ্ধে খেলছি। এবং চেষ্টা করব রেকর্ডটাকে সটান ঠিক করে নিতে। দেখা যাক...

নেপাল ভূমিকম্পে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। আমি সত্যিই মনেপ্রাণে প্রার্থনা করছি, উদ্ধারকাজে ব্যস্ত টিমগুলোর শক্তি যেন আরও বাড়ে। নেপালের মর্মান্তিক ঘটনার দিকে যখন তাকাচ্ছি মনে হচ্ছে, তার পাশে কোনও হার বা জয়ই বড় হতে পারে না। হ্যাঁ, খেলা হয় জিততে কিংবা হারতে। কিন্তু জীবনের সত্যিকারের উৎসব পুরোমাত্রায় বেঁচে থাকার মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে।

আমার চিন্তাভাবনা আচমকা ভেঙে গেল সুইমিং পুলের জলে একটা বিরাট আলোড়ন আর তার সঙ্গেই একজনের চিলচিৎকারে— ‘গৌতম ভাইয়া...’। মাথা ঘুরিয়ে দেখি আমার তরুণ তুতোভাই। আরহান। ও দিল্লি থেকে আজই সকালে এসেছে। ‘‘আ যাও পুল মে, পানি বহুৎ ঠান্ডা হ্যায়,’’ আরহানের গলা আবার...

আমি যদিও নেগেটিভ চিন্তায় চিন্তায় ডুবে যাচ্ছি, তবু আমি সাঁতার কাটতে চাইছি!

ছবি: শঙ্কর নাগ দাস

আরও পড়ুন

Advertisement