দু’দলের ক্রিকেটারদের নাম দেখে ভ্রম হতে বাধ্য। অনেকের মনে হবে ভারতীয় ক্রিকেটারেরা নিজেদের মধ্যেই একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলছেন। আসলে তা নয়। বৃহস্পতিবার অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ভারত বনাম আমেরিকা ম্যাচে মাঠে ছিলেন ২২ জন ভারতীয়। তাঁদের মধ্যে ১১ জন খেলছিলেন আমেরিকার হয়ে। আমেরিকার অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সকল ক্রিকেটারই ভারতীয় বংশোদ্ভূত। তাঁদের হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করল ভারত।
ছোটদের বিশ্বকাপের শুরুটা ভাল হল না বৈভব সূর্যবংশীর। প্রথম ম্যাচে আমেরিকার বিরুদ্ধে মাত্র চার বলে শেষ হয়ে গেল তার ইনিংস। ২ রান করে বোল্ড হল ভারতের ১৪ বছরের ব্যাটার। আমেরিকার বিরুদ্ধে ১০৮ রান তাড়া করতে নেমে বৈভব যে শুরু থেকেই চালিয়ে খেলবে তার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল। চালাতে গিয়েই নিজের উইকেট দিয়ে এল সে।
ভারতের ইনিংসের তৃতীয় ওভারে ঋত্ত্বিক আপ্পিডির বলে পুল মারার চেষ্টা করে বৈভব। বলের লাইনে পৌঁছোয়নি সে। ব্যাট ও প্যাডের মধ্যে ছিল বড় ফাঁক। ফলে বল ব্যাটের কানায় লেগে লেগ স্টাম্পে লাগে। স্টাম্প ছিটকে পিছনের দিকে চলে যায়। আউট হয়ে সাজঘরে ফেরার পথে বৈভবকে হতাশ দেখায়। বৈভব বুঝতে পারছিল, ম্যাচ জিতিয়ে ফেরার একটা সুযোগ নষ্ট করল সে।
রান পাননি অধিনায়ক আয়ুষ মাত্রেও। ১৯ রান করে আউট হন তিনি। বেদান্ত ত্রিবেদী (২), বিহান মলহোত্রও (১৮) বড় রান করতে ব্যর্থ। বার বার বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হওয়ায় ব্যাটারদের সমস্যাও হচ্ছিল। ভারতের মান বাঁচালেন বাঙালি অভিজ্ঞান কুন্ডু। দলের উইকেটরক্ষক ব্যাটার একার কাঁধে ভারতকে জেতালেন। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকলেন তিনি। ছক্কা মেরে খেলা শেষ করলেন তিনি। অভিজ্ঞান ৪১ বলে করলেন ৪২ রান। তাঁর ব্যাটে ভর করে মাত্র ১৭.২ ওভারে ৬ উইকেটে ম্যাচ জিতল ভারত।
আরও পড়ুন:
টস জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেন আয়ুষ। ভারত অধিনায়কের সিদ্ধান্ত সঠিক প্রমাণিত করেন বোলারেরা। অমরিন্দর গিল, সাহিল গর্গ, অর্জুন মহেশরা রান পাননি। শূন্য রানে আউট হন আমেরিকার অধিনায়ক উৎকর্ষ শ্রীবাস্তব। মাত্র ৩৯ রানে ৫ উইকেট পড়ে যায় তাদের। শেষ দিকে নীতীশ সুদিনি ৩৬ রান করে দলকে ১০৭ রানে নিয়ে যান।
ভারতের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল পেসার হেনিল পটেল। ১৬ রান দিয়ে ৫ উইকেট নেন তিনি। ব্যাট হাতে রান না পেলেও বল হাতে উইকেটে পেয়েছে বৈভব। মাত্র দু’বল করে আমেরিকার শেষ ব্যাটারকে আউট করে সে। ৩৫.২ ওভারে ১০৭ রানে অল আউট হয়ে যায় আমেরিকা। দেখে মনে হচ্ছিল, ১০ উইকেটে জিতবে ভারত। কিন্তু সেই ম্যাচও জিততে পরিশ্রম করতে হল তাদের।