মরণ-বাঁচন ম্যাচ ছিল। সেমিফাইনালে উঠতে গেলে হারাতেই হত ওয়েস্ট ইন্ডিজ়কে। ইডেন গার্ডেন্স খালি হাতে ফেরাল না ভারতকে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়কে পাঁচ উইকেটে হারাল সূর্যকুমার যাদবের দল। ম্যাচের পর ভারতের অধিনায়ক বুকে জড়িয়ে নিলেন সঞ্জু স্যামসনকে। জয়ের কৃতিত্ব পুরোপুরি দিলেন তাঁকেই। জানালেন, ভাল মানুষের সঙ্গেই ভাল জিনিস হয়।
কয়েক দিনের মধ্যে সূর্যকুমারের কথায় বদল দেখা গেল। কিছু দিন আগে একটি ম্যাচের আগে সূর্যকে প্রশ্ন করা হয়েছিল সঞ্জুকে খেলানো নিয়ে। কিছুটা মস্করা করেই তিনি বলেছিলেন, “আপনারা কি চান আমরা অভিষেক শর্মাকে বসিয়ে দিই?” পর পর ব্যর্থ হয়ে চলা অভিষেককে বাঁচাতেই ভারত অধিনায়ক এমন কথা বলেছিলেন। অথচ সেই সূর্যের দলকেই এমন একজনের উপর ভরসা করে শেষ চারে উঠতে হল, যাঁর এই বিশ্বকাপে ডাগআউটেই থাকার কথা ছিল!
সঞ্জু স্যামসনকে কুর্নিশ অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের। ছবি: পিটিআই।
ম্যাচের পর সূর্য বলেন, “আমি বরাবরই বলে এসেছি, ভাল জিনিস সেই সমস্ত ভাল মানুষদের সঙ্গেই হয় যারা অপেক্ষা করতে জানে। যাদের অনেক ধৈর্য রয়েছে। যে সব ম্যাচে সঞ্জু খেলেনি, সেই সব ম্যাচে ও যে পরিমাণ পরিশ্রম করেছে, তার ফল পেল আজ। একদম নিখুঁত একটা মঞ্চ তৈরি করা ছিল ওর সামনে। সেটাকেই ও কাজে লাগিয়েছে।”
গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
সূর্যকুমার জানালেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজ় প্রায় ২০০-র কাছাকাছি রান তুলে ফেললেও তাঁরা ঘাবড়ে যাননি। বরং এ রকম কিছুর জন্য তৈরি ছিলেন। সূর্যের কথায়, “আমার মতে, সকলে পরিকল্পনামাফিক বল করেছে। আমরা জানতাম এই মাঠে ২০০ রান তাড়া করা যায়। বিশেষ করে পরের দিকে শিশির পড়ায় বল ভাল ভাবে ব্যাটে আসবে। যে ভাবে ব্যাটারেরা ছোট ছোট জুটি গড়ে ম্যাচটা এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে, সেটাই পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।”
গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
ম্যাচের মাঝে কোনও মুহূর্তে কি চাপ তৈরি হয়েছিল? সূর্যের জবাব, “চাপ তো সব সময়েই থাকবে। কিন্তু মাঠে নেমে কী করতে হবে সেটা আপনাকে জানতে হবে। আমি ছেলেদের বলেই দিয়েছিলাম, এ ধরনের ম্যাচে চাপ এবং প্রচুর মানুষের প্রত্যাশা থাকবে। তাই সাহসী হয়ে খেলতে হবে এবং চাপে পড়লে ইতিবাচক দিক খুঁজতে হবে। চাপ না থাকলে খেলে মজা কোথায়! চাপ থাকলে তবেই তো পেট গুড়গুড় করবে। আপনি কী ভাবে সামলাবেন সেটা আপনার উপরেই নির্ভর করছে।”
আরও পড়ুন:
সূর্যের মতে, তাঁরা যোগ্য দল হিসাবেই ফাইনালে উঠেছেন। ভারতের অধিনায়কের কথায়, “দারুণ লাগছে ম্যাচটা জিতে। মরণ-বাঁচন ম্যাচে যে ভাবে আমরা খেলেছি তা প্রশংসা করার মতোই। প্রথম ম্যাচ থেকে আমরা যে ভাবে খেলেছি তাতে যোগ্য দল হিসাবেই সেমিফাইনালে উঠেছি।”