E-Paper

ফাইল ‘লোপাট’ ঠেকাতে কড়াকড়ি স্বাস্থ্য ভবনে

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল হতেই ভোলবদল হয়েছে চিকিৎসক মহলেরও। বিরোধী শিবির তো বটেই, তৃণমূল ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত চিকিৎসকদের একাংশও, যাঁরা এত দিন প্রকাশ্যে কিছু বলতেন না, তাঁরাও এখন দীর্ঘদিনের ক্ষোভের কথা সামনে আনছেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৭ মে ২০২৬ ০৮:৩৩

—প্রতীকী চিত্র।

স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ঘিরে বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে অনেক দিন ধরেই। কোনও ফাইল যাতে স্বাস্থ্য ভবন থেকে বেরিয়ে না যায় সে জন্য ভোটের ফল ঘোষণার পরেই মুখ্যসচিবকে চিঠি দিয়েছিল চিকিৎসকদের যৌথ মঞ্চ। বুধবার থেকে শুরু হয়েছে কড়াকড়ি। স্বাস্থ্য ভবনে ঢোকার মুখে রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাহারা। আর মূল ভবনের দরজার সামনে বসেছে বিশেষ ডেস্ক। কোন ফাইল নিয়ে কে ঢুকছেন, এবং বেরোনোর সময়ে কোন ফাইল নিয়ে বেরোচ্ছেন তা লিখে রাখা হচ্ছে। এ দিন খোদ স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগমের ব্যাগও পরীক্ষা করা হয় বলে খবর। যদিও তা অস্বীকার করেতিনি শুধু বলেন, ‘‘মুখ্যসচিবের নির্দেশ মতো সর্বত্রই নিরাপত্তার কড়াকড়ি করা হয়েছে।’’

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল হতেই ভোলবদল হয়েছে চিকিৎসক মহলেরও। বিরোধী শিবির তো বটেই, তৃণমূল ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত চিকিৎসকদের একাংশও, যাঁরা এত দিন প্রকাশ্যে কিছু বলতেন না, তাঁরাও এখন দীর্ঘদিনের ক্ষোভের কথা সামনে আনছেন। বলছেন, ‘‘বদলির হুমকি, মেডিক্যাল কাউন্সিলকে দিয়ে হেনস্থার জন্য মুখ বুজে সব মানতে হয়েছে।’’

রাজ্যের স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বামপন্থীদের বিভিন্ন শাখা সংগঠনের নিজেদের মতো করে চিকিৎসক সংগঠন ছিল। তৃণমূলের নিজেদেরই বিভিন্ন গোষ্ঠীর একাধিক সংগঠন ছিল। যদিও বিজেপির তেমন ভাবে কোনও সংগঠন ছিল না। তবে ওই দলের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত কয়েক জন চিকিৎসক রাজনীতির পরিচয় সরিয়ে বামপন্থী সংগঠনের চিকিৎসকদের সঙ্গে একযোগে লড়াই করেছেন মেডিক্যাল কাউন্সিলের নির্বাচন থেকে শুরু করে অন্য আন্দোলনে। তবে ইতিহাস বলছে, ২০১১-য় রাজ্যে পরিবর্তনের পরে অসংখ্য চিকিৎসক রাতারাতি শাসকদল তৃণমূলের পক্ষ নিয়েছিলেন। ঠিক সেই ভাবেই এ বারও ভোলবদল।

পদোন্নতি-বদলি সহ প্রশাসনিক কাজকর্মে ‘উত্তরবঙ্গ গোষ্ঠী’-র নিয়ন্ত্রণ, প্রতিহিংসামূলক আচরণ নিয়ে শেষ কয়েক বছর ধরেই চিকিৎসকদের ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হয়েছে। তাঁদের অনেকেরই বক্তব্য, চোখের সামনে দুর্নীতি, বেনিয়ম দেখেও অনেকেই প্রকাশ্যে কিছু বলতে পারেননি। যাঁরা বলেছেন তাঁদের উপরে শাস্তির খাঁড়া নেমে এসেছে। অভিযোগ, বিরোধী তো বটেই, তৃণমূল ঘনিষ্ঠ চিকিৎসকদের একাংশকেও সর্বদা বদলির ভয় দেখিয়েছে বিশেষ ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী। মেডিক্যাল কাউন্সিল দিয়ে হেনস্থা করেছে। কিন্তু সেই সময় দল তাঁদের পাশে দাঁড়ায়নি বলেই অভিযোগ উঠছে তৃণমূলপন্থী চিকিৎসকদের থেকে। ২০২৪-এর অগস্টে আর জি করের ঘটনার পরে আন্দোলনে চিকিৎসকদের ক্ষোভেরও বহিঃপ্রকাশ ঘটে। বেহালা পশ্চিমের জয়ী বিজেপি প্রার্থী চিকিৎসক ইন্দ্রনীল খাঁ বলছেন, ‘‘সরকারি চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রায় ৯০ শতাংশই আমাদের ভোট দিয়েছেন। কারণ সকলেই কমবেশি অব্যবস্থার শিকার হয়েছেন।’’ বছরের শুরুর দিকে বাইপাসের ধারের একটি হোটেলে চিকিৎসকদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নড্ডা। সেই বৈঠকে অনেক সরকারি চিকিৎসককেও থাকতে দেখা গিয়েছিল। সূত্রের খবর, আর জি করের সময় থেকেই গোপনে বিজেপিরসঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন অনেক সরকারি চিকিৎসকই।

চিকিৎসক মহলের একাংশের অভিযোগ, ২০২২ সালে রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিল নির্বাচনে ভোট লুট করেছিল উত্তরবঙ্গ গোষ্ঠী। বিধাননগরের জয়ী বিজেপি প্রার্থী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রী দু’জনেই ‘জয়েন্ট প্ল্যাটফর্ম অব ডক্টরস’-এর হয়ে কাউন্সিলের ভোটে প্রার্থী হয়েছিলেন। তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রার্থী হওয়া ১৭ জন চিকিৎসককে ভোটের পরেই রাতারাতি বিভিন্ন জেলায় বদলি করা হয়েছিল। তাতে ছিলেন শারদ্বতের স্ত্রীও। আবার, ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল কাউন্সিলের নির্বাচনেও খোদ তৃণমূল ঘনিষ্ঠ চিকিৎসকদের হেনস্থা হতে দেখা গিয়েছে উত্তরবঙ্গ গোষ্ঠীর হাতে। তাই একদা তৃণমূল ঘনিষ্ঠ চিকিৎসকেরাই এখন বলছেন ‘‘পুঞ্জীভূত মেঘেই বৃষ্টিপাত বেশি হয়।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Health Department

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy