E-Paper

আগুনখেকো তৃণ শিক্ষকেরা শান্ত বিজেপির ছায়াতলে

রাজ্যে কলেজগুলির চেহারার বহিরঙ্গ কেমন দেখতে লাগবে, তা স্থির হওয়ার আগেই একাধিক কলেজে ছাত্র নিগ্রহের অভিযোগ উঠেছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৭ মে ২০২৬ ০৮:৫১

—প্রতীকী চিত্র।

আশুতোষ কলেজের বাইরে ডাঁই হয়ে পড়ে আছে তৃণমূলের পতাকা। তার মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এমনকি কলেজের প্রভাবশালী হেড ক্লার্ক তথা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রথম সারির নেতা সার্থক বন্দ্যোপাধ্যায়েরও ছবি। সেই স্তূপ ঘিরে উল্লসিত গেরুয়া আবির মাখা অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ বা এবিভিপি-র নেতা-কর্মীরা।

এত দিন ওই সব ছবি, পতাকাই কলেজের শিক্ষাকর্মীদের ঘরে বা অন্যত্রসসম্মানে ঠাঁই পেত। রাষ্ট্রীয় স্বয়সেবক সঙ্ঘের ছাত্র সংগঠন এবিভিপি-র নেতাদের অবশ্য দাবি, ‘‘এ সব ছবি বিক্ষুব্ধ তৃণমূলীরাই বাইরে ফেলেছেন। কিন্তু আমরা কলেজে নরেন্দ্র মোদীর ছবির রাখব না। মা সরস্বতী, স্বামী বিবেকানন্দের ছবি থাকবে।’’

রাজ্যে কলেজগুলির চেহারার বহিরঙ্গ কেমন দেখতে লাগবে, তা স্থির হওয়ার আগেই একাধিক কলেজে ছাত্র নিগ্রহের অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে উত্তর কলকাতার মণীন্দ্র কলেজে ছাত্র এবং ছাত্রীদেরও ইউনিয়ন রুমে এনে শাসানো, নিগ্রহের অভিযোগ রয়েছে। কখনও এবিভিপি-র দিকে অভিযোগের তির, কখনও সদ্য তৃণমূল বা টিএমসিপি থেকে শিবির বদলানো নব্য স্বঘোষিত এবিভিপি বা বিজেপিদের দিকে। বিজেপি-র মিডিয়া সেলের সঙ্গে যুক্ত অধ্যাপক বিমলশঙ্কর নন্দ বলছিলেন, ‘‘গত দু’দিনে কয়েকশো ফোন পেয়েছি, অধ্যাপক, শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, আরও উচ্চপদস্থদের। সবাই বিজেপিতে আসতে চান। কেউ সমর্থন করলে করবেন। কিন্তু সংগঠনের মাথায় বসানো হবে না।’’

তবু কলেজে কলেজে পরিচালন সমিতির সদস্য হওয়ার সুবাদে নানা জুলুম বা হুমকি-সংস্কৃতিতে অভিযুক্ত শিক্ষকদের মধ্যেও কার্যত ডিগবাজির হিড়িক লেগেছে। আশুতোষ কলেজের অধ্যক্ষ তথা নিখিল বঙ্গ অধ্যক্ষ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মানস কবি বলেন, ‘‘আমি সব সময়েই সরকারের পক্ষে। আমাদের সংগঠনও সরকারের পক্ষে। এত বড় কলেজ চালাতে গেলে সরকারের পক্ষে থাকতে হবেই।’’ সূত্রের খবর, এ দিনই আশুতোষ কলেজের শিক্ষক, স্যাক্ট শিক্ষক, শিক্ষাকর্মীদের তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়েন মানস। তিনি কলেজে পদে পদে সরকারের সঙ্গে চলার অঙ্গীকার করলে শিক্ষকদের একাংশের কাছে শুনতে হয়, ‘‘এত দিন কলেজটাকে পার্টি অফিস বানিয়েছিলেন, এ বার যেন আর একটি পার্টির অফিস না বানানো হয়।’’ মানস সবাইকে শান্ত করতে মার্জনা চান বলেও সূত্রের খবর। প্রথমে ‘নকল এবিভিপি’রা কলেজে গালিগালাজ করছিল বলে মানসের অভিযোগ। এর পরে ‘আসল এবিভিপি’-র ব্যবহারে তিনি মুগ্ধ বলে তিনি জানান।

এবিভিপি-র নেতাদের এ দিন আশুতোষ কলেজের সঙ্ঘ ঘনিষ্ঠ ছাত্রেরা বলছিলেন, ‘‘দয়া করে আরএসএস করার জন্য আমাদের হুমকি দিতেন এমন কাউকে নেবেন না।’’ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারে অভিযুক্ত এক জন উচ্চ আধিকারিকও বিজেপির দিকে ঘেঁষছেন বলে দাবি। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়েও এ দিন এবিভিপি-র ছাত্রেরা দেশ-বিরোধী স্লোগান লেখার দায়ে অভিযুক্ত ছাত্রদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উপাচার্যের কাছে আর্জি জানান।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

TMC BJP

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy