উচ্চশিক্ষার কথা উঠলেই ছেলেমেয়েদের ভিনরাজ্যে পাঠানোর একটা চাপা দুশ্চিন্তা বাবা-মায়ের মনে ভিড় করে আসে। ভাল কলেজ, মানসম্মত শিক্ষা আর তার সঙ্গে সাধ্যের মধ্যে খরচ— সবটা মিলিয়ে যেন এক জটিল অঙ্ক। কিন্তু এই অঙ্কটা বেশ সহজ করে দিয়েছে আসাম ডাউন টাউন ইউনিভার্সিটি। সঠিক খরচে উন্নত শিক্ষার মাধ্যমে সফল ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে তারা ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে। গুয়াহাটিতে অবস্থিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ফ্যাকাল্টি এবং ডিপার্টমেন্টের অধীনে ৬০টিরও বেশি কোর্সে ভর্তির আবেদন চলছে। উত্তর-পূর্ব ভারতের সর্বোচ্চ ন্যাক (NAAC) 'এ প্লাস' (A+) রেটিং পাওয়া এই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়টি বরাবরই সেই সব পড়ুয়াদের স্বাগত জানায়, যাঁরা সত্যিই ভাল মানের উচ্চশিক্ষার খোঁজে রয়েছেন। তবে বেশ কিছু কোর্সে আসন সংখ্যা সীমিত থাকায়, আগ্রহী শিক্ষার্থীদের একটু তাড়াতাড়িই আবেদন করতে বলা হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বা ইউজিসি (UGC) দ্বারা স্বীকৃত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে অনেক কিছু নিয়েই। ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন, অ্যালায়েড হেলথকেয়ার সায়েন্সেস থেকে শুরু করে ম্যানেজমেন্ট (বিবিএ ও এমবিএ), হোটেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্ট, ডিজাইন, সিভিল ও মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, এমনকি এগ্রিকালচার সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজির মতো কোর্সও এখানে পড়ানো হয়। বাদ নেই ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্স, বায়োটেকনোলজি, মাইক্রোবায়োলজি, ফরেনসিক সায়েন্স, সাইকোলজি, পারফর্মিং আর্টস, বি.এ. (অনার্স) এবং নার্সিং-এর মতো বিষয়গুলিও।
পড়াশোনার সঙ্গে শিল্পের বা ইন্ডাস্ট্রির সরাসরি যোগসূত্র তৈরি করতে এই বিশ্ববিদ্যালয় রীতিমতো বদ্ধপরিকর। আর সেই কারণেই তারা এসএপি (SAP), আইবিএম (IBM), এলটিএম (LTM), এলঅ্যান্ডটি এডুটেক (L&T EduTech), ভিএফএস গ্লোবাল অ্যাকাডেমি (VFS Global Academy)-র মতো প্রথম সারির সংস্থাগুলির সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। পাশাপাশি, জ়েল এডুকেশনের (Zell Education) সহযোগিতায় নলেজ পার্টনার হিসেবে রয়েছে ডেলয়েট ইন্ডিয়া (Deloitte India)। এই পার্টনারশিপগুলোর দৌলতে ছাত্রছাত্রীরা অনায়াসেই ইন্ডাস্ট্রি সার্টিফিকেশন, ইন্টার্নশিপ, লাইভ প্রজেক্ট, মাস্টারক্লাস, মেন্টরশিপ, প্লেসমেন্ট সাপোর্ট এবং হাতেকলমে কাজের প্রশিক্ষণ পেয়ে থাকে।সম্প্রতি উত্তর-পূর্ব ভারতে প্রথমবার ফিনটেক (FinTech)-এ বিবিএ কোর্স চালু করে এক নতুন মাইলফলক ছুঁয়েছে এই প্রতিষ্ঠান, যেখানে জ়েল এডুকেশনের সহযোগিতায় নলেজ পার্টনার হিসেবে রয়েছে সেই ডেলয়েট ইন্ডিয়া। এ ছাড়া আইবিএম-এর সঙ্গে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও মেশিন লার্নিং, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও ডিপ লার্নিং এবং ডেটা অ্যানালিটিক্স-এর মতো আধুনিক কোর্সের মাধ্যমে তারা নিজেদের অ্যাকাডেমিক পোর্টফোলিয়ো আরও মজবুত করেছে। রয়েছে এসএপি-র সঙ্গে ক্লাউড ইআরপি, এলটিএম-এর সঙ্গে সাইবার সিকিউরিটি, ভিএফএস গ্লোবাল-এর সঙ্গে ট্রাভেল ও ট্যুরিজম, এবং এলঅ্যান্ডটি এডুটেক-এর সহযোগিতায় সিভিল ও মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সুযোগ। এর ফলে পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি ব্যবহারিক জ্ঞান ও শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অনায়াসেই অর্জন করতে পারছে পড়ুয়ারা।
পড়াশোনা শেষে একটা ভাল চাকরি তো সবারই লক্ষ্য থাকে। অ্যাডটিইউ-এর নিজস্ব 'ডিরেক্টরেট অফ কেরিয়ার অ্যাডভান্সমেন্ট' ঠিক এই কাজটাই করে, তারা ছাত্রছাত্রীদের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাজারের জন্য প্রস্তুত করতে বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করে যায়। ২০২৬ সালের প্লেসমেন্টের মরসুমে আইটি, ব্যাঙ্কিং, ম্যানুফ্যাকচারিং, ফার্মাসিউটিক্যালস থেকে শুরু করে রিটেল সেক্টরের ১২০টিরও বেশি সংস্থা ৯০০-র বেশি চাকরির অফার দিয়েছে পড়ুয়াদের। সব থেকে বেশি বেতনের অফারটি ছিল বার্ষিক ৯ লক্ষ টাকার। আর গড় বেতন দাঁড়িয়েছে ৪.৬০ লক্ষ টাকায়। নজরকাড়া বিষয় হলো, ৩০০টিরও বেশি অফার ছিল ৫ লক্ষ টাকার ঊর্ধ্বে। নিয়োগকারী সংস্থাগুলোর তালিকায় জ্বলজ্বল করছে এইচসিএলটেক, পিডব্লিউসি, উইপ্রো, লারসেন অ্যান্ড টুব্রো, এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক এবং এশিয়ান পেইন্টস-এর মতো নাম। প্লেসমেন্টের এই পুরো ইকোসিস্টেমটাকে ইন্টার্নশিপ, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ভিজিট, স্কিল ডেভেলপমেন্ট এবং ক্যারিয়ার গাইডেন্সের মতো উদ্যোগ দিয়ে আরও জোরদার করা হয়েছে।
শুধু চাকরি নয়, গবেষণা আর পড়াশোনার পরিবেশেও এরা জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরে স্বীকৃতি পেয়ে চলেছে। জানলে অবাক হবেন, ২০২৫ সালের সাইর্যাঙ্ক গ্লোবাল রেজিস্ট্রিতে (SciRank Global Registry) বিশ্বের শীর্ষ ৫% বিজ্ঞানীদের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই পাঁচজন দিকপাল শিক্ষাবিদ। এই সম্মানজনক তালিকায় রয়েছেন স্বয়ং উপাচার্য অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র তালুকদার, ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্স ফ্যাকাল্টির ডিন অধ্যাপক সৈকত সেন, একই ফ্যাকাল্টির অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর অধ্যাপক পার্থ প্রতিম দত্ত, সায়েন্স ফ্যাকাল্টির অধ্যাপক ও উপদেষ্টা অধ্যাপক সুরেশ ডেকা এবং কৃষি বিজ্ঞান ফ্যাকাল্টির অধ্যাপক ডঃ রবিন গগৈ।
এই ভর্তির মরসুম নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক মুখপাত্র খুব সুন্দর একটা কথা বলেছেন। তাঁর কথায়, তাঁদের লক্ষ্যই হল অসম বা উত্তর-পূর্বের যে কোনও ছাত্রছাত্রীকে যেন উন্নত এবং ভবিষ্যৎমুখী শিক্ষার জন্য নিজেদের বাড়ি ছেড়ে দূরে যেতে না হয়, আর গ্লোবাল কোম্পানিগুলোর সঙ্গে তাঁদের এই পার্টনারশিপ সেই প্রতিশ্রুতিরই সরাসরি প্রতিফলন। আজ এই প্রতিষ্ঠান শুধু উত্তর-পূর্ব ভারত নয়, দেশের নানা প্রান্ত এমনকী বিদেশের পড়ুয়াদেরও আপন ঘর হয়ে উঠেছে। অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরি, সেন্টার অফ এক্সেলেন্স, শিল্পের সঙ্গে যুক্ত পাঠ্যক্রম, গবেষণার সুযোগ আর চাকরি পাওয়ার এই দারুণ সহায়তার জন্য পড়ুয়ারা বারবার ছুটে আসছেন এখানে।
আপনি বা আপনার পরিচিত কেউ যদি ভর্তির কথা ভাবেন, তবে সমস্ত কোর্স সম্পর্কে জানতে এবং অনলাইনে আবেদন করতে পারেন www.adtu.in ওয়েবসাইটে, অথবা সরাসরি ইমেল করতে পারেন admission@adtu.in-এ। পাশাপাশি 91 9864137777 নম্বরে ফোন করেও জেনে নিতে পারেন যাবতীয় তথ্য।
এই প্রতিবেদনটি ‘আসাম ডাউন টাউন ইউনিভার্সিটি’-এর সঙ্গে আনন্দবাজার ব্র্যান্ড স্টুডিয়ো দ্বারা যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত।