জন্মের ১৭ দিন থেকে শুরু করে এখনও পর্যন্ত ১৭ বার জটিল অস্ত্রোপচার। তাতেও পুরোপুরি সফল হয়নি হাত ফিরে পাওয়ার কঠিন লড়াই। ডান হাত একেবারে অকেজো, আঙুলগুলো ভাঁজ করা যায় না। বাঁ হাতের বুড়ো আঙুলও অকেজো। কিন্তু, এ সব কোনও বাধাই হয়নি অনন্যা শিকদারের কাছে। আজ তিনি দেশের অন্যতম শীর্ষ স্থানীয় সংস্থা পিরামল ফিনান্সের ডাটা সায়েন্টিস্ট।
খড়গপুর আইআইটি থেকে ইন্টিগ্রেটেড বি টেক (ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড ইলেকট্রিক্যাল কমিউনিকেশনস) সম্পন্ন করে প্রথম কাউন্সেলিংয়েই লোভনীয় চাকরির প্রস্তাব পেয়েছেন অনন্যা। আগামী ১৩ জুলাই মুম্বইয়ের হেড কোয়ার্টার্সে যোগ দেবেন তিনি। রূপনারায়ণপুর দুর্গা মন্দির এলাকার বাসিন্দা অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী অনিমা শিকদার ও নিলয় শিকদারের মেয়ে অনন্যা লেখাপড়া শুরু করেন রূপনারায়ণপুর ডিএভি পাবলিক স্কুলে। দশম শ্রেণিতে স্কুলের সেরা তো বটেই, সর্বভারতীয় স্তরে দশম স্থান অর্জন করেছিলেন। প্রতি ক্লাসে প্রথম স্থান ধরে রাখা এই মেধাবী ছাত্রী এনটিএসই-সহ একাধিক স্কলারশিপ পেয়েছেন।
ডিএভি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি উত্তীর্ণ হয়ে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উতরে খড়গপুর আইআইটিতে ভর্তি হন। পড়াশোনার পাশাপাশি শেষ সেমেস্টারে বসেন চাকরির ইন্টারভিউয়ে। প্রথম সুযোগেই পিরামল ফিনান্স তাঁকে ডাটা সায়েন্টিস্ট পদে চাকরির প্রস্তাব দেয়। অষ্টম শ্রেণি থেকেই ডাটা সায়েন্টিস্ট হওয়ার স্বপ্ন দেখা অনন্যা কোনও দ্বিধা করেননি।
অনন্যা জানান, ডিএভি থেকে আইআইটি— সর্বত্রই সহপাঠী ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ভালবাসা পেয়েছেন। আইআইটিতে পড়াকালীন তিনি কয়েক জন বন্ধুর সঙ্গে একটি এনজিও শুরু করেন। দুঃস্থ ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা, বই-খাতা, ভরণপোষণের দায়িত্ব নেওয়ার পাশাপাশি স্কুলে যাতায়াতের জন্য স্থায়ী বাসের ব্যবস্থাও করেছেন। নিজেদের স্কলারশিপের বাঁচানো টাকা এবং হস্টেল থেকে সংগৃহীত অর্থে চালানো এই উদ্যোগ আইআইটির নজর কেড়েছে বলেও অনন্যা জানান।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)