E-Paper

মৃতের নামেও আবাসের টাকা, চলল বিক্ষোভ

এ দিন পঞ্চায়েত প্রধানের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা করে বাসিন্দা পূর্ণিমা দাস দাবি করেন, কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬ ০৮:৩২
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি। Sourced by the ABP

প্রধানমন্ত্রী আবাস প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে শুক্রবার পঞ্চায়েত কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ দেখালেন পূর্বস্থলী ২ ব্লকের মাজিদা পঞ্চায়েতের বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, বহু প্রকৃত উপভোক্তা ঘর পাননি। অনেকের নামে ঘরের অর্থ বরাদ্দ হলেও, টাকা চলে গিয়েছে অন্য ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। এমনকি মৃত্যুর তিন বছর পরেও এক ব্যক্তির নামে আবাসের অর্থ বরাদ্দ হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন তাঁরা।

২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আওতায় ঘর তৈরির জন্য বিপুল অর্থ বরাদ্দ হয়। এলাকাবাসীর দাবি, সেই সময়েই ঘর বণ্টনকে কেন্দ্র করে অনিয়ম হয়েছে। অভিযোগের সমর্থনে তাঁরা জানান, সাগর ঘোষ নামে এক ব্যক্তির ২০১৮ সালে মৃত্যু হয়। অথচ সরকারি নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালে তাঁর নামে আবাস যোজনার অর্থ বরাদ্দ হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা পঞ্চায়েত কার্যালয়ের সামনে মৃত ব্যক্তির মৃত্যু শংসাপত্রও তুলে ধরেন।

আরও এক বাসিন্দার উদাহরণ টেনে তাঁরা অভিযোগ তোলেন, উত্তম দাস এখনও টিনের ঘরে বসবাস করেন। অথচ তাঁর নামে বহু আগে আবাসের ঘর বরাদ্দ হয়েছে। উত্তম বলেন, “২০১৮ সালে আমার নামে সরকারি প্রকল্পে ঘর বরাদ্দ হয়। বহু চেষ্টা করেও টাকা হাতে পাইনি। ওই টাকা অন্যের অ্যাকাউন্টে চলে গিয়েছে।” বাসিন্দা দিলীপ রাজবংশীর অভিযোগ, তিনিও ত্রিপলে ছাদ ঢেকে কোনও রকমে থাকছেন। তাঁর নামেও ঘর বরাদ্দ হয়েছিল, কিন্তু পাননি।

এ দিন পঞ্চায়েত প্রধানের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা করে বাসিন্দা পূর্ণিমা দাস দাবি করেন, কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। এই অনিয়মের জেরে তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও তিনি ঘর পাননি। বিষয়টি প্রশাসনকে তদন্ত করে দেখার দাবি জানান তিনি। বাসিন্দা কার্তিক ঘোষ বলেন, “দুর্নীতির কারণে প্রকৃত উপভোক্তারা বঞ্চিত হয়েছেন। তাঁরা যাতে ঘর পান এবং দুর্নীতির সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে যাতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেই দাবিতেই আমরা সরব হয়েছি।”

বিক্ষোভকারীদের আরও অভিযোগ, ১০০ দিনের কাজ নিয়েও এই পঞ্চায়েতে অনিয়ম হয়েছে। তাঁদের দাবি, সুপারভাইজ়ার এবং কয়েক জন পঞ্চায়েত সদস্য বহু জব কার্ড নিজেদের কাছে রেখে দিতেন। তবে মাজিদা পঞ্চায়েতের প্রধান মুজিবর রহমান বলেন, “আমার সময়ের কোনও অভিযোগ নেই। এক বাসিন্দা আবাস যোজনা নিয়ে দুর্নীতির যে অভিযোগ করেছেন, বিষয়টি ব্লক প্রশাসনের নজরে আনা হবে।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Purbasthali

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy