E-Paper

দুর্নীতি রুখতে ১২৫ দিন নিয়ে সতর্ক প্রশাসন

বৃক্ষরোপণ, কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার মতো নানা কাজে প্রকল্পের টাকা নয়ছয় করা, প্রকল্প-বহির্ভূত একাধিক কাজ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন কেন্দ্রের প্রতিনিধিরা।

সৌমেন দত্ত

শেষ আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬ ০৮:২৮
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

কেন্দ্রের নতুন ১২৫ দিনের কাজের প্রকল্প মূল মন্ত্র: ‘স্থায়ী সম্পদ নেই, কাজও নেই।’ পূর্ব বর্ধমান জেলায় পূর্বের একশো দিনের কাজ প্রকল্পের (মনরেগা) সঙ্গে যুক্তদের অভিজ্ঞতা, সম্পদ তৈরির নামে কার্যত দুর্নীতির বাসা তৈরি হয়েছিল। কেন্দ্রীয় দলের কাছে তা ধরাও পড়ে। ওই প্রকল্পের দুর্নীতির ছোঁয়া যাতে নতুন প্রকল্পে (ভিবি-জি রামজি) না লাগে, তার জন্য আটঘাট বেঁধেছে প্রশাসন। জোর দেওয়া হচ্ছে স্বচ্ছতার উপরে। দুর্নীতি আটকাতে কী কী করতে হবে, তার নির্দেশিকাও দিয়েছে রাজ্য। সেখানে সামাজিক নিরীক্ষণ (সোশাল অডিট) ও পরিদর্শনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

‘দুর্নীতির’ কারণে যে চারটি জেলায় মনরেগা প্রকল্পের কাজ চার-পাঁচ বছর আটকে ছিল, তার মধ্যে অন্যতম পূর্ব বর্ধমান। প্রকল্প খতিয়ে দেখতে টানা কয়েক বছর কেন্দ্রীয় দল রাজ্যে এসেছিল। জেলায় প্রকল্প পরিদর্শনে আসা কেন্দ্রীয় দল একাধিক ক্ষেত্রে দুর্নীতির খোঁজ পেয়েছিল। সব মিলিয়ে প্রায় পৌনে দু’কোটি টাকা জেলাকে ফেরত দিতে হয়েছিল। একাধিক আধিকারিক, জনপ্রতিনিধিকে শো-কজ় করা হয়। দায়ের হয় এফআইআর। দুর্নীতি সংক্রান্ত রিপোর্টে কাজের গুণমান নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। খেলার মাঠ ও তার সঙ্গে থাকা পুকুর সংস্কার নিয়ে ‘মিথ্যা তথ্য’ দেওয়া, সেচ দফতরের অনুমতি ছাড়া সেচখাল সংস্কার করার ক্ষেত্রে দুর্নীতির সন্ধান পেয়েছিল কেন্দ্রের দল। বৃক্ষরোপণ, কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার মতো নানা কাজে প্রকল্পের টাকা নয়ছয় করা, প্রকল্প-বহির্ভূত একাধিক কাজ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন কেন্দ্রের প্রতিনিধিরা।

বিজেপি সরকারের নেওয়া নতুন প্রকল্পে দুর্নীতি রুখতে সজাগ প্রশাসন। বলা হয়েছে, ভুল পরিকল্পনা, যথাযথ তদারকির অভাব, কাজের অনুমোদন, তথ্য যাচাইয়ে গাফিলতি, কাজ সম্পূর্ণ করতে বিলম্ব, অপর্যাপ্ত পরিদর্শন এবং দুর্বল সামাজিক নিরীক্ষার জন্য বার বার প্রকল্প আটকেছে। সে কারণে কাজের গুণমান দেখার জন্য পরিদর্শন দলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আরও বলা হয়েছে, ছ’মাস অন্তর প্রকল্পের সামাজিক নিরীক্ষণ করতে হবে। শক্তিশালী করতে হবে সামাজিক নিরীক্ষণের দলকে। সেই রিপোর্ট গ্রামসভাতে পেশ করে দ্রুত সংশোধনের নির্দেশও রয়েছে। এ ছাড়া, কাজের জায়গা সরেজমিন পরিদর্শন করা ও আর্থিক বিষয়গুলির অডিট করতে হবে। পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদ অভ্যন্তরীণ অডিট করবে। গ্রামস্তরে গঠিত ভিজিল্যান্স টিম (পর্যবেক্ষণ দল) রিপোর্ট পাঠাবে। গরমিল ধরা পড়লে জেলাশাসক রাজ্যকে জানাবেন।

নির্দেশিকায় ইমারতি দ্রব্য বা অন্য সামগ্রী কেনায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বলা হয়েছে। ১০০ দিনের কাজের মতো এ বারও প্রকল্পস্থলে বিস্তারিত তথ্য লেখা বোর্ড (পোশাকি নাম ‘জনতা বোর্ড) বসাতে হবে। কেউ তথ্য চাইলে বিনামূল্যে তিন দিনের মধ্যে দিতে হবে, নির্দেশ পঞ্চায়েত সচিবের। প্রকল্পে আর্থিক গরমিল হলে টাকা ফেরত, এফআইআর দায়েরের নির্দেশও রয়েছে। এক আধিকারিক বলেন, “প্রকল্পের কোনও আধিকারিকের কাছে লিখিত অভিযোগ না দিয়ে কেউ সরাসরি অন্য স্তরে বা সমাজমাধ্যমে অভিযোগ করলেও তদন্ত করে ১৫ দিনের মধ্যে উচ্চ আধিকারিককে রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে।” প্রকল্পের প্রতিটি পর্বে কড়া নজরদারি ও আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পরিদর্শনে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, পঞ্চায়েতের আধিকারিকদের ১০০ শতাংশ কাজ পরিদর্শন করতে হবে। ব্লক স্তরের আধিকারিকেরা ৬০ শতাংশ আর জেলা পর্যায়ের আধিকারিকেরা ১০ শতাংশ কাজ পরিদর্শন করবেন।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

West Bardhaman

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy