জলপাইগুড়ি মেডিক্যালের জেলা সদর হাসপাতাল এবং সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ওয়ার্ড মাস্টারের পদ শূন্য পড়ে রয়েছে দীর্ঘদিন ধরেই। মেডিক্যাল সূত্রের খবর, চুক্তির ভিত্তিতে নিয়োজিত চতুর্থ শ্রেণির কর্মীদের দিয়েই ওয়ার্ড মাস্টারের কাজ চালানো হচ্ছে। প্রয়োজনীয় চতুর্থ শ্রেণির কর্মীরও অভাব রয়েছে হাসপাতালে। অতিরিক্ত মেডিক্যাল সুপার-সহ সহকারী সুপারেরাও নিয়মিত হাসপাতাল পরিদর্শন করেন না বলে অভিযোগ। রাতে কোনও সহকারী সুপার হাসপাতালের দায়িত্বে থাকেন না বলেও অভিযোগ। যদিও কর্তৃপক্ষের দাবি, রাতে সহকারী সুপারেরা অন-কলে থাকেন। যে কোনও প্রয়োজনে তাঁদের পাওয়া যায়।
সূত্রের খবর, মেডিক্যালে অন্তত আট জন ওয়ার্ড মাস্টারের পদ থাকলেও, দীর্ঘদিন ধরে ওই পদগুলি শূন্য পড়ে রয়েছে। স্থায়ী চতুর্থ শ্রেণির কর্মীর অভাবেও যথাযথ পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে যথেষ্টই অসুবিধে হচ্ছে হাসপাতালে। চতুর্থ শ্রেণির কর্মী ৩৫০ জন থাকার কথা থাকলেও রয়েছেন মাত্র ৬৪ জন। চুক্তিভিত্তিক চতুর্থ শ্রেণির কর্মীর সংখ্যা ৪৪ জন। এছাড়াও বেসরকারি সংস্থা নিয়োজিত চতুর্থ শ্রেণির কর্মীদের সংখ্যা অন্তত চারশো।
মেডিক্যালের এক শিক্ষক চিকিৎসক বলেন, ‘‘ওয়ার্ড মাস্টার পদে চতুর্থ শ্রেণির কর্মীরা দায়িত্ব পালন করায় প্রশাসনিক কাজে যথেষ্টই অসুবিধে হচ্ছে। বিশেষ করে রাতে হাসপাতালে পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে খুবই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।’’ মেডিক্যালের এক পদস্থ আধিকারিক বলেন, ‘‘ওয়ার্ড মাস্টার না থাকায় সমস্যা তো হচ্ছেই। স্থায়ী চতুর্থ শ্রেণির কর্মীর অভাবেও যথাযথ পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে যথেষ্টই অসুবিধে হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সব জানানো হলেও কোনও কাজ হয়নি এখনও পর্যন্ত।’’ মেডিক্যালের সুপার তথা ভাইস প্রিন্সিপাল কল্যাণ খান বলেন, ‘‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মেনে সংবাদ মাধ্যমের কাছে কোনও মন্তব্য করতে পারব না।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)