মাঝরাতে আচমকা অগ্নিকাণ্ডে ছাই হয়ে গেল একটি বহুতল বাড়ি এবং কাপড়ের দোকান। অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে তিন জনকে। ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলের সালানপুর থানার রূপনারায়ণপুর সংলগ্ন আছড়া গ্রামে।
ভস্মীভূত বাড়িটি তৃণমূলের এক নেত্রীর। তাঁর বাড়ির পাশাপাশি দোকানও পুড়ে গিয়েছে। স্বাভাবিক ভাবে এ নিয়ে শোরগোল এলাকায়।
আসানসোল-চিত্তরঞ্জন সংযোগকারী সামডি রোডের উপর আছড়া গ্রামের বাসিন্দা উদয় ঘোষের ত্রিতল বাড়ি নীচতলায় ছিল তাঁদের পোশাকের দোকান। পুজো উপলক্ষে প্রচুর মালপত্র মজুত করা হয়েছিল। রাত দেড়টা নাগাদ ওই দোকানেই প্রথমে আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে গোটা বাড়িতে। ঘুম থেকে উঠে উদয় বাড়ির ভিতরের দিকের দরজা খুলে আগুন নেবানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু দরজা খুলতেই আগুনের লেলিহান শিখা এবং প্রচণ্ড উত্তাপ তাঁদের গ্রাস করে। উদয় এবং তাঁর স্ত্রী দু’জনেরই পা থেকে হাঁটু পর্যন্ত পুড়ে যায়। পরিবারের ১২ বছরের এক সদস্য ঝলসে যায়।
খবর পেয়ে রাতেই রূপনারায়ণপুর ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের তৎপরতায় এবং পুলিশের সহযোগিতায় ছাদ থেকে তিন জন দগ্ধ এবং অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার হন। তিন জনকেই পিঠাকিয়ারি গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। কিন্তু তাঁদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় আসানসোলের একটি নার্সিংহোমে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানেই তাঁদের চিকিৎসা চলছে।
আরও পড়ুন:
উদয়ের স্ত্রী পম্পা সালানপুর পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সদস্যা। তৃণমূলের সঙ্গে অনেক দিন ধরে যুক্ত। তবে সম্প্রতি রাজনীতি থেকে দূরে সরে গিয়েছেন বলে পরিবারের দাবি। পাশাপাশি এই অগ্নিকাণ্ড শর্ট সার্কিটের কারণে, না কি নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সালানপুর থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
পাশাপাশি রূপনারায়ণপুর এলাকায় একটি স্থায়ী দমকলকেন্দ্র গড়ে তোলার দাবি জোরালো হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় দমকলকেন্দ্র না থাকায় অগ্নিকাণ্ড হলে দূর থেকে ইঞ্জিন আনাতে আনাতে সব ছাই হয়ে যায়।