Advertisement
E-Paper

রাজ্যে এ বার স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ আদানির! বানাবে হাসপাতাল, ১০০০ বেড রাখা থাকবে শুধু দরিদ্রদের জন্য! ঘোষণা শুভেন্দুর

পূর্বতন সরকারের আমলে তাজপুরে গভীর সমুদ্র বন্দরে বিনিয়োগে আগ্রহী হয়েছিল আদানি গোষ্ঠী। তবে শেষপর্যন্ত তা হয়নি। এ বার বিজেপি সরকারে আসার পর রাজ্যে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বিনিয়োগে আগ্রহী হল আদানি গোষ্ঠী।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬ ২৩:১২
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। — ফাইল চিত্র।

আদানি গোষ্ঠীর হাত ধরে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বিনিয়োগ আসতে চলেছে রাজ্যে। নিউ টাউনে তৈরি হবে ২০০০ শয্যার অত্যাধুনিক হাসপাতাল। পূর্বতন সরকারের আমলে তাজপুরে গভীর সমুদ্র বন্দরে বিনিয়োগে আগ্রহী হয়েছিল আদানি গোষ্ঠী। কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি। এ বার রাজ্যের স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বিনিয়োগে আগ্রহী হয়েছে তারা। শনিবার এমনটাই জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

শনিবার নিজের বিধানসভা নির্বাচনী কেন্দ্র ভবানীপুরের নাগরিক সমাজের সঙ্গে এক আলোচনাচক্রে বসেন মুখ্যমন্ত্রী। আলিপুর নাগরিক সমিতি আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে ব্যবসায়ীদেরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন। সেখানেই মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন আদানি গোষ্ঠীর বিনিয়োগ পরিকল্পনার কথা। রাজ্য সরকার গত দু’মাসে কী কী কাজ করেছে, তার বিবরণ দেওয়ার সময়ে তিনি বলেন, “আদানি লিখিত ভাবে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ২০০০ শয্যার একটি আধুনিক হাসপাতাল তৈরি করবে নিউ টাউনে। তাতে ১০০০ শয্যা গরিবদের জন্য থাকবে। ১০০০ শয্যা বাণিজ্যিক ভাবে ব্যবহার হবে।”

সিঙ্গুর থেকে টাটা গোষ্ঠী চলে যাওয়ার পর রাজ্যে আর কোনও বড় বিনিয়োগ আসেনি। তৃণমূল জমানার গত দেড় দশকে রাজ্যে বিনিয়োগ-চিত্র ক্রমশ খারাপ রয়েছে। এ অবস্থায় রাজ্যে শিল্প এবং বিনিয়োগের হাল ফেরাতে শুরু থেকেই তৎপর হয়েছে শুভেন্দুর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার। সেই ভাবনার প্রতিফলন রয়েছে রাজ্য বাজেটেও। শনিবারের বক্তৃতার সময়েও শিল্পপতিদের রাজ্যে বিনিয়োগের জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে সব আছে। সব সুযোগসুবিধা আছে। নির্দিষ্ট প্রস্তাব নিয়ে আসুন। জমি আপনার হাতে রয়েছে, না কি জমি দরকার, তা আমাদের জানান। এলাকা চিহ্নিত করে আসুন। কী কী সাহায্য চাই, তা আমাদের জানান।”

বিনিয়োগকারী এবং শিল্পপতিদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর আহ্বান, “আপনারা আসুন। আপনাদের ঘনিষ্ঠদের অনুপ্রাণিত করুন। এখানে বিনিয়োগ হওয়া দরকার। আমাদের শিল্পোন্নয়ন নিগমের সঙ্গে, শিল্পমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করুন।” অন্যদেরও বিনিয়োগে উৎসাহ দেওয়ার জন্য শিল্পপতিদের অনুরোধ করেন তিনি। আশ্বস্ত করেন শিল্পের স্বার্থে যা যা সাহায্যের দরকার, সরকার সেই সহায়তা দিতে প্রস্তুত। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতেও যে রাজ্য সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, তা-ও বুঝিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। ভরসা দেন, শিল্পক্ষেত্রে কোনও সমাজবিরোধী ব্যাঘাত ঘটানোর চেষ্টা করলে তা সরকার দেখে নেবে।

শুভেন্দু বলেন, “বিনিয়োগের জন্য প্রথমে চাই (সঠিক) আইনশৃঙ্খলা। ভাল রাজ্য হওয়ার জন্য এটা সবার আগে দরকার।” পূর্বতন সরকারের প্রসঙ্গে বলেন, “এখানে কোনও আইনশৃঙ্খলা ছিল না। গুন্ডা ট্যাক্স ছিল। সিন্ডিকেটরাজ ছিল। (তৎকালীন শাসকশিবির) ঘনিষ্ঠ কিছু শিল্পপতি রাজত্ব করত এখানে।” তবে নতুন সরকারের জমানায় এ ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না বলেও আশ্বস্ত করেন মুখ্যমন্ত্রী।

পূর্বতন সরকারের জমানায় রাজ্যে শিল্প এবং বিনিয়োগ টানতে ‘বিশ্ব বাংলা বাণিজ্য সম্মেলন’ আয়োজিত হত। এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, যে পরিমাণ খরচ হয়েছে সেই তুলনায় বিনিয়োগ আসেনি। তাঁর কথায়, “পুরো খরচ ৬০০ কোটির বেশি। ১৬ লক্ষ কোটির এগ্রিমেন্ট। প্রকৃত বিনিয়োগ হয়েছে ২৫-৩০ হাজার...”

রাজ্যে মাথার উপর যে ঋণের বোঝা রয়েছে, সে কথাও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। সঙ্গে যে বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পও চালু রয়েছে, সে কথাও তুলে ধরেন। শুভেন্দু জানান, এ সবের মধ্যেও বাজেটে শিল্পের জন্য জমি বিক্রয়, সিঙ্গল উইন্ডো সিস্টেম থেকে শুরু করে ১০০ কোটির বেশি বিনিয়োগকারীকে পঞ্চায়েত-পুরসভার লাইসেন্স সংক্রান্ত সুবিধার মতো বিষয়গুলি রাখা হয়েছে। পরবর্তী বাজেটে আরও বেশি সুযোগসুবিধা থাকবে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।

Suvendu Adhikari West Bengal government Investment

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy