Advertisement
E-Paper

ইরানে হামলায় আমরা জড়িত নই! বললেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী, দাবি, ইরাক যুদ্ধের ‘ভুল থেকে শিক্ষা’ নিয়েছে ব্রিটেনের বাহিনী

ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় জড়িত ছিল না ব্রিটেন। ভেবেচিন্তেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। এমনটাই জানালেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মার। একই সঙ্গে এ-ও জানান, আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করছে ব্রিটেনের বাহিনী।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০২ মার্চ ২০২৬ ১০:৩০
ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মার।

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মার। ছবি: রয়টার্স।

ইরানের উপর হামলায় ব্রিটেনের কোনও যোগ নেই। এমনটাই দাবি করলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মার। তিনি জানান, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্রগুলিতে হামলার জন্য মার্কিন বাহিনী কিছু ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করছে। তবে নির্দিষ্ট ভাবে শুধুমাত্র ‘আত্মরক্ষামূলক’ উদ্দেশ্যেই সীমিত পরিসরে ওই ঘাঁটিগুলি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ইরাক যুদ্ধের কথাও উল্লেখ করেন স্টার্মার। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি খুব স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই, ইরাকের ভুলগুলির কথা আমাদের সকলেরই মনে আছে। এবং আমরা তা থেকে শিক্ষা নিয়েছি। আমরা ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় জড়িত ছিলাম না। এখনও আমরা কোনও আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ করব না।” বস্তুত, দু’দশক আগে, ২০০৩ সালে ইরাকের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে একসঙ্গে সামরিক অভিযান চালিয়েছিল আমেরিকা এবং ব্রিটেন। ওই সামরিক অভিযান পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক স্তরে যথেষ্ট সমালোচিতও হয়েছিল। প্রাক্তন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের ২০০৭ সালে পদত্যাগের অন্যতম কারণ হিসাবেও ধরা হয় এই বাড়তে থাকা সমালোচনাকে।

তবে পশ্চিম এশিয়ায় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ব্রিটেন যে আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ চালিয়ে যাবে, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন স্টার্মার। তাঁর কথায়, “আমরা এই হামলায় যোগ দিচ্ছি না। তবে আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ চালিয়ে যাব।” তিনি এ-ও জানান, ব্রিটিশ যুদ্ধবিমান বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ার আকাশে রয়েছে। আত্মরক্ষামূলক উদ্দেশ্যেই সেগুলি পশ্চিম এশিয়ায় রয়েছে। ইরানের বেশ কিছু হামলা ঠেকাতে ওই যুদ্ধবিমানগুলি সফলও হয়েছে। স্টার্মারের দাবি, ইরানের দিক থেকে হামলার আশঙ্কা বন্ধ করার একমাত্র উপায় হল তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্রগুলিকে ধ্বংস করা। মার্কিন সেনাকে শুধুমাত্র সেই আত্মরক্ষামূলক উদ্দেশ্যেই ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি স্টার্মারের।

আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল গত শনিবার ইরানে হামলা চালানোর পরে গোটা পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি ছড়িয়ে পড়ে। ইজ়রায়েলে পাল্টা আক্রমণ শুরু করে ইরান। পশ্চিম এশিয়ায় যে সব দেশে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে, সেখানেও হামলা চালায় তেহরান। এমনকি ব্রিটিশ ঘাঁটিকেও লক্ষ্য করে আক্রমণ শুরু করেছে তারা। এ অবস্থায় স্টার্মারের মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। সোমবার এক ভিডিয়োবার্তায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, “গত দু’দিন ধরে ইরান পশ্চিম এশিয়ায় এমন দেশগুলির উপরেও ধারাবাহিক আক্রমণ চালাচ্ছে, যারা তাদের উপরে হামলা করেনি। ব্রিটিশ নাগরিকেরা রয়েছেন, এমন হোটেল এবং বিমানবন্দরে হামলা করছে তারা। এটি খুবই বিপজ্জনক পরিস্থিতি। পশ্চিম এশিয়ায় অন্তত দু’লক্ষ ব্রিটিশ নাগরিক রয়েছেন।”

ইরানে হামলায় গত শনিবারই নিহত হয়েছেন সে দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। কিন্তু তার পরেও সামরিক সংঘাত থামেনি। বরং, আরও ছড়িয়েছে। এই উত্তেজনার পরিস্থিতিতে ঝুঁকির মুখে পড়ছে পশ্চিম এশিয়ায় ব্রিটিশ ঘাঁটিগুলিও। স্টার্মার জানান, ইরানের এই সব কাজকর্মের ফলে গোটা পশ্চিম এশিয়ায় ছড়িয়ে থাকা ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বাহরিনে একটি সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্টার্মার। তাঁর দাবি, ব্রিটিশ সেনাকর্মীরা অল্পের জন্য ওই হামলা থেকে রেহাই পেয়েছেন।

পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন স্টার্মার বলেন, “সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুতেও ইরান এই হামলা থেকে বিরত থাকবে না। তারা এখন আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আমরা ইচ্ছা করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় ব্রিটেন জড়িত থাকবে না। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করাই এই অঞ্চল (পশ্চিম এশিয়া) এবং গোটা বিশ্বের জন্য ভাল।”

Keir Starmer UK Iran US
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy