Advertisement
E-Paper

তিন মাসে অন্তত ২০টি মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছে ইরান! ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিমান, অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও

পেন্টাগনের দাবি, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু হওয়ার পর থেকে তারা ইরানের ১৩ হাজারের বেশি নিশানায় আঘাত হেনেছে। তবে ইরানও ধারাবাহিক ভাবে ‘জবাব’ দিয়ে গিয়েছে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০১ জুন ২০২৬ ১৭:৪৯
আমেরিকা-ইরান সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত বিমান।

আমেরিকা-ইরান সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত বিমান। —ফাইল চিত্র।

তিন মাসের বেশি সময় কেটে গিয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা এখনও অব্যাহত। এই তিন মাসে যতটা তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে, মার্কিন ঘাঁটিগুলিতে তার চেয়েও বেশি জোরালো আক্রমণ শানিয়েছে ইরান। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পশ্চিম এশিয়ায় অন্তত ২০টি মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছে ইরান। উপগ্রহচিত্র এবং ভিডিয়ো বিশ্লেষণ করে এমনটাই জানাচ্ছে বিবিসি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল যৌথ ভাবে ইরানে হামলা চালায়। তাতে নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। ওই হামলার পর পরই পশ্চিম এশিয়া জুড়ে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে প্রত্যাঘাত শুরু করে তেহরান। ‘বিবিসি ভেরিফাই’-এর তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত পশ্চিম এশিয়ার অন্তত আটটি দেশে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে ইরান। তাতে লক্ষ লক্ষ ডলারের উন্নত মানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে র‌্যাডার এবং বিমানে জ্বালানি ভরার ব্যবস্থাও।

পেন্টাগনের দাবি, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ (ইরানে সামরিক অভিযানের পোশাকি নাম) শুরু হওয়ার পর থেকে তারা ইরানের ১৩ হাজারের বেশি নিশানায় আঘাত হেনেছে। তবে ইরানও ধারাবাহিক ভাবে ‘জবাব’ দিয়েছে। যুদ্ধের খরচ সামলাতে গিয়ে বেগ পেতে হচ্ছে পেন্টাগনকেও। এ অবস্থায় ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ আর কত দিন চলবে, তা নিয়ে আমেরিকার অন্দরেই প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনকে। এরই মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, পশ্চিম এশিয়ায় কোনও মার্কিন ঘাঁটিই আর নিরাপদ নয়।

বিবিসি-র বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কাতার, কুয়েত, ইরাক, জর্ডন, বাহরিন এবং ওমানে মার্কিন ঘাঁটিতে সফল ভাবে হামলা করেছে ইরান। দাবি করা হচ্ছে, অন্তত ২০টি মার্কিন ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইরানি হানায়। বিশ্লেষকদের কারও কারও মতে, এমন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ঘাঁটির সংখ্যা ২৮টি পর্যন্ত হতে পারে। এই তালিকায় রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির আল রুওয়াইস এবং আল সাদার বিমানঘাঁটি এবং জর্ডনের মুওয়াফ্ফক সলতি বিমানঘাঁটি। এই দু’টি ঘাঁটি মিলিয়ে মোট তিনটি অত্যাধুনিক অ্যান্টি-ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (ব্যাটারি সিস্টেম) ছিল। তিনটিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আমেরিকার হাতে মাত্র আটটি ‘টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স’ (ব্যাটারি সিস্টেম) রয়েছে। এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য আনুমানিক ১০০ কোটি ডলার খরচ হয় আমেরিকার। পাশাপাশি এর থেকে ছোড়া ইন্টারসেপ্টর (ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক)-এর এক একটির জন্য ব্যয় হয় প্রায় ১ কোটি ২৭ লক্ষ ডলার।

উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে সৌদি আরবের প্রিন্স সুলনাম বায়ুসেনা ঘাঁটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এই যুদ্ধের সময়ে। সেখানে মার্কিন বাহিনীর জ্বালানি সরবরাহকারী এবং নজরদারি বিমানগুলি ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। কিছু ছবিতে ক্ষতিগ্রস্ত বিমানের স্পষ্ট ছবি দেখা গিয়েছে। হামলার পর ওই অঞ্চল থেকে ধোঁয়া বেরোতেও দেখা গিয়েছে। পাশাপাশি কুয়েতে আলি আল সালেম বায়ুসেনা ঘাঁটিতে এবং ক্যাম্প আরিফজ়ানেও হামলা হয়েছে। উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে, কুয়েতের ওই মার্কিন ঘাঁটিগুলিতে বাঙ্কার, বিমান থাকার হ্যাঙ্গার এবং বাহিনীর থাকার জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংঘর্ষের সময়ে এখানে একাধিক বার হামলা হয়েছে বলেও জানাচ্ছে বিবিসি।

ট্রাম্প এবং তাঁর প্রশাসন বার বার দাবি করে এসেছেন, মার্কিন হানায় ইরানের সামরিক বাহিনী প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। তবে সাম্প্রতিক উত্তেজনার পরে সেই দাবি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এমন এক পরিস্থিতিতে উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণ করে বিবিসি জানাল, গত তিন মাসে আমেরিকার অন্তত ২০টি ঘাঁটিতে আক্রমণ করেছে ইরান। বিশ্লেষকদের মতে, এর থেকে বোঝা যায়— আমেরিকা আগে যতটা স্বীকার করেছিল, তার চেয়েও বেশি জোরদার ছিল ইরানের প্রত্যাঘাত।

US Iran West Asia
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy