গত বারের মতো এ বারও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে জয়ী হয়েছে প্যারিস সঁ-জরমঁ ওরফে পিএসজি। টাইব্রেকারে আর্সেনালকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে এই শিরোপা অর্জন করেছে তারা। শনিবার (৩০ মে) এই সাফল্য লাভ করে তারা। এই জয় উদ্যাপন করতে আইফেল টাওয়ারকে ক্লাবটির প্রতীকী রং লাল, সাদা ও নীলে আলোকিত করা হয়।
কিন্তু এর পরই ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের রাস্তায় চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, আনন্দের আতিশয্যে পোড়ানো হতে থাকে আতশবাজি, এমনকি জ্বলতে শুরু করে যানবাহনও। ধোঁয়ায় ঢেকে যায় চারপাশ। পরিস্থিতি এমন দিকে চলে যায় যে ভিড়ের চাপে বহু মানুষ পদপিষ্ট হন।
আরও পড়ুন:
এমন একাধিক ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমে। যদিও ভিডিয়োগুলির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম। একটি ভিডিয়ো দেখে মনে হচ্ছিল যেন পুড়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী আইফেল টাওয়ারটিই। ঘন কালো ধোঁয়ায় আবৃত হয়ে রয়েছে সেটি। শ্যেন নদীর তীরের কাছে আগুন লেগে আকাশে ঘন ধোঁয়ার মেঘ ছড়িয়ে পড়ে। একটি ভাইরাল ভিডিয়োয় এমনও দেখা যায়, একদল পুরুষ একটি জ্বলন্ত গাড়ির উপরে নাচছেন এবং লাফাচ্ছেন।
সংবাজমাধ্যম সূত্রে খবর, গত বছর পিএসজি-র জয়ের পর একই ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছিল। তাই এই বছর ফ্রান্স জুড়ে প্রায় ২২,০০০ পুলিশ মোতায়েন করা হয়, যার মধ্যে ৮,০০০ পুলিশকর্মী ছিলেন প্যারিসেই। বিশৃঙ্খলা কমানোর চেষ্টায় প্যারিসের ট্রামলাইন বন্ধ করে দেওয়া হয়, বেশ কয়েকটি মেট্রো স্টেশন বন্ধ ছিল এবং কিছু জায়গায় বাস চলাচলও করতে দেওয়া হয়নি। কিন্তু শেষরক্ষা হল না।
সে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ সম্প্রচারকারী সংস্থা ‘ফ্রান্স ইন্টার’কে বলেন, “আমরা প্রায় ৯০০ জনকে গ্রেফতার করেছি। সব মিলিয়ে, এই সংখ্যা গত বছরের তুলনায় ৪৫ শতাংশ বেশি।” সেই সঙ্গে এ-ও জানান, প্রায় ১৮০ জন আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা আহত হয়েছেন।
ঘটনাটি তীব্র প্রতিক্রিয়া জন্ম দিয়েছে নেটপাড়ায়। এক নেটাগরিক লিখেছেন, “পশ্চিমি বিশ্বের পতন।” আর এক জন আবার আবেগতাড়িত হয়ে লিখেছেন, “ছোটবেলায় আমি স্বপ্ন দেখতাম একদিন প্যারিসে যাব, ব্রিজে তালা লাগাব, আইফেল টাওয়ারের নীচে দাঁড়াব এবং আসল ফরাসি পেস্ট্রি ও খাবার খাব। সেই স্বপ্ন পুড়িয়ে ও ছিন্নভিন্ন করে এখন মুছে দেওয়া হচ্ছে।”