Advertisement
E-Paper

বর্ষা প্রবেশের দিনক্ষণ আবার পিছিয়ে গেল দেশে! কবে শেষ পর্যন্ত কেরলে আসবে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু

গত বছর সময়ের আগে দেশে এসেছিল বর্ষা। ২৪ মে কেরলে প্রবেশ করেছিল। ২০২৪ সালে দেশে বর্ষা প্রবেশ করে সরকারি ভাবে নির্ধারিত সময়ের এক দিন আগে। ৩০ মে কেরলে বর্ষা প্রবেশ করে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০১ জুন ২০২৬ ১৭:৫২
দেশে কবে প্রবেশ করবে বর্ষা?

দেশে কবে প্রবেশ করবে বর্ষা? ছবি: পিটিআই।

খাতায়-কলমে দেশের মূল ভূখণ্ডে বর্ষা প্রবেশ করার কথা ১ জুন, সোমবার। কেরলের মধ্যে দিয়ে দেশের মূল ভূখণ্ডে বর্ষা প্রবেশ করে। সেখানে এখনও দেখা নেই তার। ভারতীয় মৌসম ভবন (আইএমডি) এখনও পর্যন্ত যে পূর্বাভাস দিয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে ৩ জুনের আগে দেশে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রবেশের সম্ভাবনা নেই। আবহবিদদের একাংশ মনে করছেন, এ বছর দেশে বর্ষা প্রবেশ করতে পারে ৩ জুনেরও পরে।

এই নিয়ে চলতি বছরে তিন বার দেশে বর্ষার আগমনের দিনক্ষণ পিছিয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দিল আইএমডি। প্রথমে মনে করা হয়েছিল, এ বছর সময়ের আগে, ২৬ মে কেরলে বর্ষা প্রবেশ করবে। তার পরে সেই দিনক্ষণ পিছিয়ে মৌসম ভবন জানায়, ২৮ মে কেরলে বর্ষা প্রবেশ করতে পারে। পরে সেই আগমনের দিন আবার পিছিয়ে যায়। পূর্বাভাস ছিল, ১ জুন, নির্ধারিত দিনেই ভারতের মূল ভূখণ্ডে বর্ষা প্রবেশ করতে পারে। এ বার তা-ও হল না।

কেন দেরি?

কেরলের মধ্যে দিয়ে দেশের মূল ভূখণ্ডে প্রবেশ করে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু। তার পরে উত্তরের দিকে এগোয়। জুনের শেষ বা জুলাইয়ের শুরুতে সারা দেশে আগমন ঘটে বর্ষার।

তিনটি অবস্থা একসঙ্গে হতে দেখলে দেশে বর্ষা প্রবেশ করেছে বলে ঘোষণা করে মৌসম ভবন— এক, কেরলে যত আবহাওয়া কেন্দ্র রয়েছে, তার ৬০ শতাংশে যদি ধরা পড়ে যে ভাল বৃষ্টি হচ্ছে, দুই, আরব সাগরের উপরে পশ্চিমা বায়ুর গতি যদি নির্ধারিত অঙ্কের বেশি থাকে, তিন, উপগ্রহে যদি দেখা যায়, আকাশে যথেষ্ট মেঘ রয়েছে।

আবহবিদেরা বলছেন, কেরল উপকূলে পশ্চিমা বায়ু এখনও যথেষ্ট দুর্বল। কেরল এবং লক্ষদ্বীপের বাতাসে জলীয় বাষ্প রয়েছে। বিক্ষিপ্ত ভাবে বৃষ্টিও হচ্ছে। কিন্তু বর্ষা এসেছে বলে বলা যাবে না। মৌসম ভবন বলছে, বঙ্গোপসাগরের উপরে একটি ঘূর্ণাবর্ত রয়েছে। সে কারণে বর্ষার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হচ্ছে না। বর্ষাকে মূল ভূখণ্ডে ঠেলে পাঠায় যে বাতাস, তাকে বিক্ষিপ্ত, দুর্বল করে দিচ্ছে ওই ঘূর্ণাবর্ত। আবহবিদদের মতে, ১ জুন থেকে সেই বাতাস শক্তিশালী হতে থাকবে। ক্রমে তা বর্ষাকে ঠেলেঠুলে পাঠাবে মূল ভূখণ্ডের দিকে। তবে এখনও যা অবস্থা, তাতে দেশে বর্ষার আগমনের দিনক্ষণ নিশ্চিত করে বলা যাবে না।

বর্ষার বিলম্বে কি সমস্যা হতে পারে?

বর্ষা দিন কয়েক দেরি করে দেশে প্রবেশ করলে যে, সমস্যা তৈরি হবে, তেমন নয়। মৌসম ভবন জানিয়েছে, খাতায় কলমে যে দিন দেশের মূল ভূখণ্ডে বর্ষার প্রবেশ করার কথা (১ জুন), তার সাত দিন, ৮ জুনের মধ্যেও যদি তা প্রবেশ না করে, তবেই ধরে নেওয়া হবে সে বছর দেশে বর্ষা দেরিতে এসেছে। এ বছর এখনও এটা বলার সময় আসেনি যে, বর্ষা দেরিতে আসছে।

তবে প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণ সামুদ্রিক স্রোত এল নিনোর প্রভাবে স্বাভাবিকের চেয়ে উষ্ণ হতে পারে জুন মাস। মৌসম ভবনের পূর্বাভাস ছিল, বর্ষার বৃষ্টি স্বাভাবিকের চেয়ে কম হতে পারে মধ্য এবং দক্ষিণ ভারতে। উত্তর-পশ্চিম ভারতের কিছু অংশেও বর্ষা দুর্বল হতে পারে। এর ফলে দেশের কোথাও কোথাও খরার সম্ভাবনাও বেড়ে যেতে পারে। চাপ পড়তে পারে পানীয় জলের উৎসগুলিতে। এর ফলে আগে থেকে পর্যাপ্ত পরিকল্পনা প্রয়োজন বলে মনে করে মৌসম ভবন। সেই অনুযায়ী সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশে বর্ষা যদি সঠিক সময়ে প্রবেশ না করে, তা উদ্বেগজনক হতে পারে বলে মনে করছেন আবহবিদদের একাংশ।

গত বছর সময়ের আগে দেশে এসেছিল বর্ষা। ২৪ মে কেরলে প্রবেশ করেছিল। ২০২৪ সালে দেশে বর্ষা প্রবেশ করে সরকারি ভাবে নির্ধারিত সময়ের এক দিন আগে। ৩০ মে কেরলে বর্ষা প্রবেশ করে। ২০২৩ সালে কেরলে বর্ষা প্রবেশ করেছিল ৮ জুন। ২০২২ সালে ২৯ মে, ২০২১ সালে ৩ জুন, ২০২০ সালে ১ জুন কেরলে বর্ষার আগমন ঘটে। ২০১৯ সালে আবার সময়ের বেশ খানিকটা পরে দেশে বর্ষা ঢোকে। সে বছর ৮ জুন বর্ষা প্রবেশ করেছিল। ২০১৮ সালে ২৯ মে, ২০১৭ সালে ৩০ মে বর্ষার প্রবেশ ঘটেছিল। ২০১৬ এবং ২০১৫ সালে বর্ষা একটু দেরিতেই ঢোকে দেশে। ২০১৬ সালে কেরলে বর্ষা প্রবেশ করেছিল ৮ জুন। ২০১৫-য় কেরলে বর্ষা প্রবেশ করে ৫ জুন।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy