পূর্বনির্ধারিত বৈঠকে সিংহভাগ বিধায়ক অনুপস্থিত। কেউ কেউ মুখ খুলছেন শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে। কেউ দলবিরোধী কাজ করে বরখাস্ত হচ্ছেন। তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই পরিস্থিতির জন্য দুষলেন দলের একাংশ এবং বিজেপিকে। তাঁর অভিযোগ, ভয় দেখিয়ে, টাকা ছড়িয়ে তাঁর দলের বিধায়ক-সাংসদকে ভাঙিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে পদ্মশিবির। সেখানে মাধ্যম হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে পুলিশকে। আবার তাঁর দলের কয়েক জন নেতাও বিশ্বাসঘাতকের মতো কাজ করছেন।
তবে মমতার দাবি, তৃণমূলকে ভাঙা অত সোজা নয়। কিছু নেতা শিবির পাল্টাতে পারেন। তবে তৃণমূলে কর্মীরাই সম্পদ। তৃণমূলকে আবার শক্তিশালী করবেন নেত্রী নিজে। সোমবার ফেসবুক লাইভে মমতা বলেন, ‘‘আমাকে চার জন এমএলএ (বিধায়ক) কমপ্লেন (অভিযোগ) করে গিয়েছেন। তাঁদের পুলিশ দিয়ে বলানো হচ্ছে, আপনি যদি মিটিংয়ে যান অস্ত্র আইন, গাঁজা কেস দিয়ে ধরা হবে।’’ তৃণমূলনেত্রীর সংযোজন, ‘‘এটা কোন গণতন্ত্রের উদাহরণ? অত্যাচারের সমস্ত সীমা লঙ্ঘিত হয়েছে রাজ্যে।’’ উল্লেখ্য, শনিবার কালীঘাটের বৈঠকে তৃণমূলের ৮০ জনের বিধায়কের মধ্যে ৬০ জনই অনুপস্থিত ছিলেন।
শুভেন্দু অধিকারীর পুলিশের বিরুদ্ধে মমতার অভিযোগ, তৃণমূল থেকে নেতা-বিধায়ক ভাঙানোর কাজ প্রাথমিক ভাবে করেছে তারাই। পুলিশ বলে দিচ্ছে কোন বিজেপি নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। তার পর তৃণমূলের সেই বিধায়ককে ফোন করা হচ্ছে বিজেপি কার্যালয় থেকে। সোমবারই দলবিরোধী কাজের অভিযোগে দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কার করেছে তৃণমূল। চিঠি দিয়ে ওই দু’জনকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কারের কথা জানিয়েছেন তৃণমূলের সহ-সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। এই আবহে নাম-না করে ঋতব্রতকে নিয়ে মন্তব্য করেছেন মমতা। তিনি বলেন, ‘‘একজন নীতিহীন লোক। এই একটি বিষয়ে অন্তত সিপিএমকে আমি অ্যাপ্রিসিয়েট (প্রশংসা) করছি। ওরা ওকে তাড়িয়েছিল। আমরা সাংসদ-বিধায়ক করলাম। পায়ে ধরে টিকিট নিল... আমি হাওড়ায় এক জনের টিকিট কেটে ওকে টিকিট দিয়েছিলাম। সকলের কাছে এ জন্য হাতজোড় করে ক্ষমা চাইছি।’’ একই সঙ্গে বিক্ষুব্ধ এবং বিদ্রোহী বিধায়ক-সাংসদেরা আদতে আপসে বিশ্বাসী বলে মন্তব্য করেছেন মমতা। তাঁর দাবি, তিনি নিয়মিত কালীঘাটে অফিসে বসছেন। যাঁরা আলোচনার সুযোগ নেই বা কথা বলতে পারছেন না বলে অভিযোগ করে দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, আদতে তাঁরা অজুহাত দিয়ে পালাতে চাইছেন। তাঁরা শুধু ক্ষমতার সঙ্গে থাকতে চান।
তৃণমূলনেত্রী বলেন, ‘‘নেতারা ভয় পান। কর্মীরা ভয় পান না। পার্টি থেকে টিকিট পেয়ে এমএলএ হয়েছেন, এমপি হয়েছেন। ক্ষমতা এনজয় (উপভোগ) করেছেন। আজ যেই পার্টি হেরে গিয়েছে, তখন অন্য পার্টির সঙ্গে আন্ডারস্ট্যান্ডিং করছেন! কেউ বলছেন, সম্পদ বাঁচাতে, কেউ বলছেন, পলিশ থ্রেট করছে। কেউ বলছেন, পুলিশ অ্যারেস্ট করবে বলে... তা হলে হাজার হাজার কর্মী যাঁরা গ্রেফতার হয়েছেন, তাঁরা কী করবেন? তাঁরা আপনার জন্য খাটেননি? তাঁদের কথা একবার ভেবে দেখুন।’’ ওই প্রসঙ্গে মমতা টেনে আনেন সোনারপুরে অভিষেকের হেনস্থা হওয়ার প্রসঙ্গ। তিনি বলেন, ‘‘আমার পরিবারের একজনের জীবন যাচ্ছিল... লিঞ্চিং করেছেন তাঁকে। একটা ইয়ং ছেলে ফাইট করেছে। মাথানত করেনি। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে মেরেছে। তিনি ফাইট করছেন।’’
আরও পড়ুন:
শিবির বদলের জন্য পা বাড়ানো তৃণমূল নেতা-নেত্রীর উদ্দেশে মমতার মন্তব্য, ‘‘যাঁরা বিজেপিতে যাওয়ার জন্য মনস্থির করেছেন, তাঁরা এটা বলবেন না যে, পার্টির কেউ দেখেননি। আমি রোজ অফিস খুলে বসছি। অভিষেক এখন অসুস্থ। তার আগে সে-ও বসত। প্রতি দিন আমরা কাগজ (অভিযোগ, অনুযোগ, সমস্যা সংক্রান্ত চিঠি) নিয়েছি। আইনত সাহায্য দিই।’’ তৃণমূলনেত্রীর সংযোজন, ‘‘টাকার মোহে বা ভয় পেয়ে তৃণমূল ভাঙার চক্রান্তের খেলা খেলছেন? লাভ নেই। আপনারা যদি এই খেলা খেলেন, আমি কিন্তু বড় খেলোয়াড়! সে জন্য অপেক্ষা করতে হবে।’’