জঙ্গিহানা, ফুটবল গুণ্ডাদের অশান্তির আশঙ্কা তো ছিলই। এ বার ইউরোর আকাশে আরও একটা দুশ্চিন্তার মেঘ উয়েফার ঘুম উড়িয়ে দিচ্ছে— স্টেডিয়ামের মাঠের অবস্থা।
চব্বিশ টিমের টুর্নামেন্টের সবে ১৮টা ম্যাচ হয়েছে ফ্রান্সে। এর মধ্যেই মাঠের যা হাল, তাতে কপালে ভাঁজ আয়োজকদের। টুর্নামেন্ট ডিরেক্টর মার্টিন ক্যালেন তো স্পষ্ট বলছেন, ‘‘আমরা মাঠের অবস্থা দেখে খুশি নই।’’ ঘটনা হল, ফান্সে প্রচণ্ড বৃষ্টিতে মাঠের এই হাল। অপ্রত্যাশিত বৃষ্টি হচ্ছে ফ্রান্স জুড়েই। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে থেকেই যা ভোগাচ্ছে ইউরো আয়োজকদের। অবস্থা এতটাই খারাপ যে, খেলা চলাকালীন বৃষ্টি হলে ম্যাচ বন্ধ করে দিতে হচ্ছে। বৃহস্পতিবারই নর্দার্ন আয়ার্ল্যান্ড-ইউক্রেন ম্যাচ শিলাবৃষ্টির দাপটে কিছুক্ষণ বন্ধ রাখতে হয়েছিল। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা মার্সেই, সেন্ট ডেনিস আর লিলে স্টেডিয়ামের।
মার্সেইয়ের জন্য সবচেয়ে বেশি সমালোচনা শুনতে হচ্ছে উয়েফাকে। ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশঁ পর্যন্ত দেশজ স্টেডিয়ামের খারাপ অবস্থা নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি। ইউরো শুরু হওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগে মার্সেই স্টেডিয়ামে একটি ব্যান্ডের কনসার্ট করার অনুমতি দেওয়া নিয়ে প্রবল ক্ষুব্ধ দেশঁ। ‘‘কনসার্টটা শেষ হওয়ার পর স্টেডিয়ামের যা অবস্থা ছিল চিনতে পারছিলাম না,’’ বলেছেন তিনি। শুক্রবার তো মার্সেই মাঠের অবস্থা দেখে আইসল্যান্ড আর হাঙ্গেরির প্র্যাকটিসও বাতিল করে দেয় উয়েফা।
এই অবস্থায় স্টেডিয়ামগুলোয় ড্রাই মেশিন, ফার্টিলাইজার-সহ মাঠ শুকনো রাখার ব্যবস্থা আরও জোরদার করার চেষ্টা করছে উয়েফা। অবশ্য সে রকম দেখলে এর আগে মাঠের ঘাস পাল্টে ফেলার মতো পরিস্থিতিও সামলেছে ইউরোপিয়ান ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা। ২০০৮ ইউরোয় বাসেলে বৃষ্টিতে মাঠ খারাপ হয়ে যাওয়ার গোটা মাঠের ঘাস তুলে নতুন করে বসানোর ব্যবস্থা করেছিল উয়েফা।