প্রথম ওয়ান ডে-তে ভারতীয় স্পিনারদের দুর্দান্ত সামলে ম্যাচ জিতে নিল নিউজিল্যান্ড। মাঝের ওভারগুলোয় টম লাথাম এবং রস টেলরের জুটি দলকে কোনও সমস্যায় পড়তে দেয়নি। ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহালি বোলারদের ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ব্যবহার করলেও কেদার যাদবকে আনেনি। আসলে এমন দিনে বোধহয় কোনও ভাবেই ওই জুটি ভাঙা যেত না।
ম্যাচের শুরুতে নিউজিল্যান্ডের ট্রেন্ট বোল্ট প্রথমে ধাক্কা দিয়েছিল ভারতীয় ব্যাটিংকে। তার পর থেকে অবশ্য পুরোটাই বিরাট কোহালি শো। এমনিতেই ক্রিকেট দুনিয়া বিরাটের প্রশংসায় মুখর। কিন্তু ওই ইনিংসটার পরে প্রশংসার ভাষাও যেন ফুরিয়ে যায়। ওয়াংখেড়ে-র গরম, আর্দ্রতা সহ্য করে বিরাট যে সেঞ্চুরিটা করল, সেটা কিন্তু বুঝিয়ে দেয় চ্যাম্পিয়নরা কী মশলা দিয়ে তৈরি। তরুণ ক্রিকটাররা, যারা বিরাটের ব্যাটিং দেখে, তারা একটা জিনিস শেখার চেষ্টা করলে পারে। পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে কী ভাবে ব্যাট করতে হয়।
সচিন তেন্ডুলকরের ওয়ান ডে সেঞ্চুরির মাইলফলকের চেয়ে বিরাট এখনও কিছুটা পিছিয়ে। কিন্তু কেউ যদি সচিনের রেকর্ড ভাঙতে পারে, সেটা কিন্তু বিরাটই। বোল্ট নিউজিল্যান্ডকে যে জায়গায় নিয়ে এসেছিল, সেখান থেকে ম্যাচটা নিজেদের দিকে নিয়ে আসার কাজটা শুরু করে বিরাট। উল্টো দিকে উইকেট পড়তে থাকলেও বিরাট কিন্তু অটল ছিল। জীবনের অন্যতম সেরা সেঞ্চুরিটা ওয়াংখেড়েতে করে গেল ও।
নিউজিল্যান্ড কিন্তু বুঝিয়ে দিল সদ্য খেলে যাওয়া অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে ওদের বোলিং বেশি শক্তিশালী। বোল্ট দুর্দান্ত বোলার। ওই রকম পিচ আর পরিস্থিতিতেও সেরা বোলিংটা করে গেল। নিউজিল্যান্ড এবং ভারত সফরে আসা বাকি টিমগুলোর মধ্যে একটা তফাত আছে। সেটা হল, মিচেল স্যান্টনার। উপমহাদেশের পিচে স্পিন সব সময় বড় ভূমিকা নেয়। আর বাঁ-হাতি স্পিনার স্যান্টনার দেখিয়ে দিল, ভাল ব্যাটসম্যানদের বিরুদ্ধেও ও ঠিক মতো বলটা করতে পারে।
নিউজিল্যান্ড হোমওয়ার্কটা ভালই করে এসেছে বলে মনে হচ্ছে। শুধু বোলিংয়েই নয়, ভারতীয় রিস্ট স্পিনারদের কী ভাবে খেলতে হবে, সে ব্যাপারেও। টম লাথাম ওর প্লাস পয়েন্টটা খুব ভাল করে কাজে লাগাল। সুইপ শট। ভারতীয় স্পিনারদের বিরুদ্ধে সুইপ শটটা ও খুব ভাল কাজে লাগাল। উল্টো দিকে রস টেলর মাথা ঠান্ডা রেখে খেলে গেল। ওয়াংখেড়ে পিচ স্পিনারদের সাহায্য করলেও চাপের মুখে ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে রেখে দিল টেলর এবং লাথাম। আজ, বুধবার দ্বিতীয় এক দিনের ম্যাচের আগে নিউজিল্যান্ড শিবির নিশ্চয়ই একটা প্রার্থনা করছে। সেটা হল, তাদের অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনও যেন রানে ফেরে।
তবে এই একটা হার নিয়ে ভারতের বিশেষ দুশ্চিন্তা করলে চলবে না। বিরাটদের ক্ষমতা আছে সিরিজে ফিরে আসার। তবে তার জন্য ভারতকে নিজেদের খেলা অনেকটা উন্নত করতে হবে।