ভারতকে বিশ্বকাপ জেতানো বৈভব সূর্যবংশী স্কুলের পরীক্ষায় বসতে পারল না। ১৪ বছরের এই ক্রিকেটারের সিবিএসই দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষায় বসার কথা ছিল। একই ঘটনা ঘটেছে ভারতের বিশ্বকাপজয়ী দলের উইকেটরক্ষক অভিজ্ঞান কুন্ডুর ক্ষেত্রেও। ১৭ বছরের এই ক্রিকেটারের দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল।
দু’জনেই খেলার ব্যাস্ততার কারণে পরীক্ষা দিতে পারেননি। বৈভব ক্রিকেট প্রশিক্ষণ, ক্যাম্প এবং বিভিন্ন টুর্নামেন্টে ব্যস্ত থাকায় পরীক্ষা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অভিজ্ঞান একটি পরীক্ষা দেওয়ার পর কর্নেল সিকে নাইডু প্রতিযোগিতায় মুম্বইয়ের হয়ে খেলার জন্য বাকি পরীক্ষা দিতে পারছেন না।
বিহারের তাজপুরের বৈভব 'মডেস্টি স্কুল তাজপুর'-এর ছাত্র। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১১ মার্চ তার পরীক্ষায় বসার কথা ছিল। এনডিটিভি জানিয়েছে, ক্রিকেটীয় ব্যস্ততার কারণে তাকে প্রায় গোটা বছর পড়াশোনা ও স্কুল থেকে দূরে থাকতে হয়েছে। এর ফলে সে বোর্ড পরীক্ষায় বসার প্রস্তুতি নিতে পারেননি।
মডেস্টি স্কুল তাজপুরের ডিরেক্টর আদর্শ কুমার পিন্টু জানান, বৈভবের পরীক্ষার ফর্ম পূরণ করা হয়েছিল এবং অ্যাডমিট কার্ডও দেওয়া হয়েছিল। তার পরীক্ষার কেন্দ্র নির্ধারিত হয়েছিল পোদ্দার ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে। কিন্তু বৈভবের বাবা সঞ্জীব সূর্যবংশীর সঙ্গে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, সে এই বছর পরীক্ষায় বসবেন না।
আরও পড়ুন:
অভিজ্ঞান ভারতের অনূর্ধ্ব ১৯ দলের সঙ্গে গত রবিবার দেশে ফিরেছিলেন। মঙ্গলবার থেকে তাঁর পরীক্ষা শুরু হয়েছিল। প্রথম দিনের পরীক্ষাও তিনি দিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর বাবা অভিষেক কুন্ডু আনন্দবাজার ডট কম-কে জানিয়েছেন, বাকি পরীক্ষা তাঁর পক্ষে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। অভিষেক বলেছেন, “ও একটা পরীক্ষা দেওয়ার পরেই মুম্বই ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন থেকে জানানো হয় ওকে সিকে নাইডু প্রতিযোগিতার জন্য মুম্বই দলের সঙ্গে হোটেলে থাকতে হবে। তাই বাকি পরীক্ষা আপাতত দেওয়া হচ্ছে না।”
বৈভব এবং অভিজ্ঞান ভারতকে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বৈভব দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হিসেবে টুর্নামেন্ট শেষ করেছে। সাত ম্যাচে ৬২.৭১ গড়ে এবং ১৬৯.৪৯ স্ট্রাইক রেটে ৪৩৯ রান করেছে, যার মধ্যে একটি সেঞ্চুরি ও তিনটি হাফ-সেঞ্চুরি রয়েছে এবং তার সর্বোচ্চ স্কোর ১৭৫। অভিজ্ঞান ভারতীয় ক্রিকেটারদের মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক। সাত ম্যাচে তিনি ৫৯.৭৫ গড়ে ২৩৯ রান করেছেন।