Advertisement
১৯ জুলাই ২০২৪

সেই চিলি, সেই পেনাল্টি, চোখের জলে মাঠ ছাড়তে হল মেসিদের

খেলা শেষ হয়ে গিয়েছে অনেকক্ষণ। উৎসবে মাতোয়ারা চিলি। মাঠের মধ্যে ইতস্ত বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছেন আগুয়েরো, মাসচেরানোরা। লিওনেল মেসি তখনও একা বসে রিজার্ভ বেঞ্চের এক কোণায়। থমথম করছে মুখ।

হতাশ মেসি। ছবি: এএফপি

হতাশ মেসি। ছবি: এএফপি

নিজস্ব প্রতিবেদন
শেষ আপডেট: ২৭ জুন ২০১৬ ১৪:৫০
Share: Save:

আর্জেন্তিনা ০ (২)
মেসি (মিস), মাসচেরানো (গোল), আগুয়েরো (গোল), বিগলিয়া (সেভ)

চিলি ০ (৪)
ভিদাল (সেভ), ক্যাস্তিলো (গোল), আরাঙ্গুয়েজ (গোল), ইমানুয়েল (গোল), ফ্রান্সিসকো (গোল)

খেলা শেষ হয়ে গিয়েছে অনেক ক্ষণ। উৎসবে মাতোয়ারা চিলি। মাঠের মধ্যে ইতস্তত বিক্ষিপ্ত ভাবে ছড়িয়েছিটিয়ে রয়েছেন আগুয়েরো, মাসচেরানোরা। লিওনেল মেসি তখনও একা বসে রিজার্ভ বেঞ্চের এক কোণায়। থমথম করছে মুখ। বার বার দু’হাত দিয়ে মুখ ঢেকে ফেলছেন। দলের হয়ে প্রথম পেনাল্টি নিতে এসেছিলেন তিনিই। মিস। এটাই মেসি? যে মেসি সেমিফাইনালে ২৫ গজ দূর থেকে সরাসরি ফ্রি-কিকে স্বপ্নের মতো গোল করেছিলেন! মেলাতে কষ্ট হচ্ছিল। ফুটবলের রাজপুত্রের দুর্বল শট গোলের ধারে কাছেই গেল না! ওখানেই ভেঙে গেল আর্জেন্তিনার আত্মবিশ্বাস। গত বছরের ইতিহাস আবার ফিরে এল কোপা ফাইনালে। আর্জেন্তিনাকে টাইব্রেকারে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেল চিলি।

ইতিহাসকে উস্কে দিয়ে কোপা আমেরিকার ফাইনালে পৌঁছেছিল আর্জেন্তিনা ও চিলি। সেই ইতিহাসের পাতায় শুরুতেই লেখা থাকল রেফারি হেবার রবার্তো লোপেজের নাম। পুরো ম্যাচে মেসি, স্যাঞ্চেজদের গর্জে ওঠার কথা ছিল। কিন্তু, সেই গর্জন দেখা গেল লোপেজের মধ্যেও। প্রথমার্ধে জোড়া লাল কার্ড নাও দেখানো যেত। কিন্তু, তিনি দেখালেন। প্রথমে চিলি পরে আর্জেন্তিনা। প্রথমার্ধেই ১০ জনে হয়ে গেল দুই দল। ৯০ মিনিটে গোলের মুখ খোলার মতো পরিস্থিতিও যে খুব একটা তৈরি হল তেমনটা নয়। খেলাও চলল সমানে সমানে— কিছুটা রক্ষনাত্মক। যেন টাইব্রেকার পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাওয়ার একটা অদম্য প্রচেষ্টা। দিয়াজ রোজাসের জোড়া হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ার ১৩ মিনিটের মধ্যেই অ্যালবার্তো রোজোকে সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়ে দিলেন সেই হেবার। যেন আগের ভুলের খেসারত দিতে গিয়ে আরও একটা ভুল করে বসলেন তিনি।

কোপা জয়ের পর উচ্ছ্বসিত চিলির খেলোয়াড়রা। ছবি: এএফপি

গোলশূন্য প্রথমার্ধে গোলমুখী আক্রমণের থেকে শরীরী আক্রমণেই বেশি মনোনিবেশ করতে দেখা গেল দুই পক্ষের ফুটবলারদেরই। যার ফল প্রথমার্ধে জোড়া লাল কার্ডের সঙ্গে লেখা থাকল তিনটি হলুদ কার্ডও।

চোটের জন্য লাভেজ্জির না থাকার মধ্যেই দলে ফিরেছিলেন ডি’মারিয়া। কিন্তু, সেই চেনা ডি’মারিয়াকে খুঁজে পাওয়া গেল না পুরো ম্যাচে। দ্বিতীয়ার্ধে তাঁকে তুলে নিতে বাধ্যই হলেন আর্জেন্তিনা কোচ। বরং দ্বিতীয়ার্ধে গোলের মুখ খুলতে সেমিফাইনালের জোড়া গোলদাতা হিগুয়াইনকে তুলে মাঠে নামলেন সার্জিও আগুয়েরো। তাতে আর্জেন্তিনার আক্রমণে ধার বাড়ল ঠিকই কিন্তু, কাজের কাজ তেমন কিছু হল না। বরং ৮৪ মিনিটে সহজ সুযোগ নষ্টের তালিকায় নাম লিখিয়ে ফেললেন সিটি ম্যান।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আর্জেন্তিনা বক্সে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিলেন স্যাঞ্চেজ। কিন্তু, বাঁচিয়ে দিল রেফারির বাঁশি। ফাউল। ৫০ মিনিটের এই আক্রমণের পর আবার ৯০ মিনিটে একই পরিস্থিতি তৈরি হলেও গোলের মুখ খুলতে পারেনি চিলি। বরং কাউন্টার অ্যাটাকে চিলি বক্সে পাল্টা আক্রমণ হেনেছিল আর্জেন্তিনা। কিন্তু, সব কিছুরই ফল শেষ পর্যন্ত শূন্য। এর মধ্যেই রোমেরোর একটি অসাধারণ সেভ স্বস্তি দিল আর্জেন্তাইন শিবিরকে। ম্যাচ গড়াল অতিরিক্ত সময়ে।

অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে চিলি গোলের নীচে ব্রাভোর হাত ভগবানের হাত ধরে নেমে না এলে তখনই আগুয়েরোর হেডে লেখা হয়ে যেতে পারত আর্জেন্তিনার জয়ের কাহিনি। আর্জেন্তা‌ইন গোলে অবশ্য প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত নিজের ঝলক দেখিয়ে গেলেন রোমেরো। ঝুঁকি নিলেন বেশ কয়েক বার। যাতে রক্ষা হল আর্জেন্তাইন দুর্গ। পুরো ম্যাচটাই ঘোরা ফেরা করল মাঝমাঠে। সেখান থেকে বার কয়েক একে অপরের বক্সে উঠে আসা। শেষ পর্যন্ত পেনাল্টি শুটআউটে কোপা আমেরিকা ২০১৬-এর চ্যাম্পিয়ন সেই চিলি। কিন্তু, হাই ভোল্টেজ কোপা ফাইনাল ফুটবলের উচ্চতাকে ছুঁতে পারল কোথায়? মেসি, আগুয়েরো, ডি’মারিয়া, স্যাঞ্চেজ, ভিদালের মতো তারকা সর্বস্ব ম্যাচ রয়ে গেল সাদা-মাটাই।

আরও পড়ুন আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা মেসির

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আর্জেন্তিনা বক্সে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিলেন স্যাঞ্চেজ। কিন্তু বাঁচিয়ে দিল রেফারির বাঁশি। ফাউল। ৫০ মিনিটের এই আক্রমণের পর আবার ৯০ মিনিটে একই পরিস্থিতি তৈরি হলেও গোলের মুখ খুলতে পারেনি চিলি। বরং কাউন্টার অ্যাটাকে চিলি বক্সে পাল্টা আক্রমণ হেনেছিল আর্জেন্তিনা। কিন্তু সবকিছুরই ফল শেষ পর্যন্ত শূন্য। এর মধ্যেই রোমেরোর একটি অসাধারাণ সেভ স্বস্তি দিল আর্জেন্তাইন শিবিরকে। ম্যাচ গড়াল অতিরিক্ত সময়ে।

অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে চিলি গোলের নিচে ব্রাভোর হাত ভগবানের হাত হয়ে নেমে না এলে তখনই আগুয়েরোর হেডে লেখা হয়ে যেতে পারত আর্জেন্তিনার জয়ের কাহিনি। আর্জেন্তা‌ইন গোলে অবশ্য প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত নিজের ঝলক দেখিয়ে গেলেন রোমেরো। ঝুঁকি নিলেন বেশ কয়েকবার। যাতে রক্ষা হল আর্জেন্তাইন দুর্গ। পুরো ম্যাচটাই ঘোরাফেরা করল মাঝমাঠে। সেখান থেকে বার কয়েক একে অপরের বক্সে উঠে আসা। শেষ পর্যন্ত পেনাল্টি শুটআউটে কোপা আমেরিকা ২০১৬-এর চ্যাম্পিয়ন সেই চিলি। কিন্তু হাই ভোল্টেজ কোপা ফাইনাল ফুটবলের উচ্চতাকে ছুঁতে পারল কোথায়? মেসি, আগুয়েরো, ডি’মারিয়া, স্যাঞ্চেজ, ভিদালের মতো তারকা সর্বস্ব ম্যাচ রয়ে গেল সাদা-মাটাই।

পেনাল্টি মিস মেসির। দেখুন সেই ভিডিও

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)

অন্য বিষয়গুলি:

Copa final 2016 argentina chile
সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:
Advertisement

Share this article

CLOSE