Advertisement
E-Paper

কৃত্রিম কোমায়, মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন হিউজ

মাইকেল ক্লার্কের চোট, তাই ভারতের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টে তাঁর ডাক পাওয়া প্রায় নিশ্চিত ছিল। ২৫ বছরের তরুণ অস্ট্রেলীয় হয়তো সেটা মাথায় নিয়েই শেফিল্ড শিল্ডের ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন। টেস্ট দলের অনিয়মিত সদস্য বোধহয় ভেবেছিলেন, নিজেকে এ বার প্রমাণ করে দেবেন। তিনি, ফিলিপ হিউজ। আপাতত মাথায় গুরুতর চোট পেয়ে মৃত্যুশয্যায়।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ২৬ নভেম্বর ২০১৪ ০৪:২৪

মাইকেল ক্লার্কের চোট, তাই ভারতের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টে তাঁর ডাক পাওয়া প্রায় নিশ্চিত ছিল। ২৫ বছরের তরুণ অস্ট্রেলীয় হয়তো সেটা মাথায় নিয়েই শেফিল্ড শিল্ডের ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন। টেস্ট দলের অনিয়মিত সদস্য বোধহয় ভেবেছিলেন, নিজেকে এ বার প্রমাণ করে দেবেন।

তিনি, ফিলিপ হিউজ। আপাতত মাথায় গুরুতর চোট পেয়ে মৃত্যুশয্যায়। যাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে চরম ধোঁয়াশা। সুস্থ হবেন কি না দূরের কথা, যাঁর জীবনই এখন ঘোরতর বিপদে। ভারত সিরিজের জমজমাট যুদ্ধের আবহে যাঁকে ঘিরে হঠাৎই নেমে এসেছে শোক ও দুশ্চিন্তার জমাট অন্ধকার।

অকুস্থল, সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে নিউ সাউথ ওয়েলস বনাম সাউথ অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ। যে ম্যাচে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ব্যাট করছিলেন হিউজ। তখন তাঁর স্কোর ৬৩, প্রাক্তন রাজ্যের বিরুদ্ধে ভাল খেলছিলেনও। দ্রুত রান তোলার লক্ষ্যে হঠাৎই শন অ্যাবটের বাউন্সার হুক করতে গিয়ে শেষ মুহূর্তে মাথা সরিয়ে নেন হিউজ। আর তখনই বলটা এসে লাগে তাঁর মাথার পিছনে, বাঁ কানের সামান্য নীচে। হেলমেটের আওতার বাইরে। রক্তপাত শুরুর পরেও কয়েক মুহূর্ত মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে ধাক্কাটা সামলানোর চেষ্টা করেছিলেন হিউজ। কিন্তু প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই হুমড়ি খেয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে যান পিচের উপর। মাথায় যেটা দ্বিতীয় বড় আঘাত।

কয়েক মিনিটের মধ্যে মাঠ যেন ছোটখাটো হাসপাতাল। যান্ত্রিক স্ট্রেচারে করে হিউজকে পিচ থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন তিনি একেবারে নিথর। নিউ সাউথ ওয়েলসের ডাক্তার প্রায় চল্লিশ মিনিট ধরে তাঁর শুশ্রুষা করেন। মাউথ টু মাউথ, অক্সিজেন দেওয়া, ভেন্টিলেশন কোনও কিছুই বাদ যায়নি। অবশেষে তাঁর শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক হয়। মাঠে মেডিভ্যাক হেলিকপ্টার আনানো হলেও শেষ পর্যন্ত অ্যাম্বুল্যান্সে করে সেন্ট ভিনসেন্ট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। মাঠে উপস্থিত হিউজের মা এবং বোনও তাঁর সঙ্গে হাসপাতালে যান।

লাইফ সাপোর্টে হাসপাতাল নিয়ে গিয়ে প্রায় দু’ঘণ্টা অস্ত্রোপচারের পরে হাসপাতালের মুখপাত্র ডেভিড ফ্যাক্টর বলেন, “হিউজ গুরুতর অবস্থায় ভর্তি হন, এখনও ওঁর অবস্থা গুরুতর। বেশ কয়েক বার স্ক্যানের পরে অস্ত্রোপচার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।” হিউজের টিম সাউথ অস্ট্রেলিয়ার ম্যানেজার টিম নিয়েলসেন বলেন, “অস্ত্রোপচারের ফলাফল চব্বিশ থেকে আটচল্লিশ ঘণ্টা পর্যন্ত জানা যাবে না।” হিউজের সঙ্গে যিনি ব্যাট করছিলেন, সেই ডেভিড ওয়ার্নার প্রায় পুরো সময়টাই সতীর্থের পাশে ছিলেন। বোর্ডকর্তাদের পাশাপাশি হাসপাতালে তাঁকে দেখতে যান মাইকেল ক্লার্কও। শেন ওয়ার্ন থেকে মাইকেল ভন, বিরাট কোহলি থেকে রোহিত শর্মা, মিচেল জনসন থেকে স্টিভ স্মিথ ‘গেট ওয়েল সুন’ বার্তা ভেসে আসছে ক্রিকেটবিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। টিম ইন্ডিয়ার তরফে বিবৃতিও দেওয়া হয়, হিউজের আরোগ্য কামনা করে।

হিউজের চোট কতটা গুরুতর? সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডক্টর এডুয়ার্ড ফার্দিনান্দস, যিনি ক্রিকেট-বিজ্ঞানেরও বিশেষজ্ঞ, বলছেন, “বলটা এত ছোট যে, সেটা লাগলে মনে হবে বন্দুকের গুলি লেগেছে। আর বলটা যেখানে লেগেছে, সেটা মস্তিষ্কের খুব গুরুত্বপূর্ণ অংশ।” অন্যান্য বিশেষজ্ঞরা হিউজের চোটের সঙ্গে দ্রুত গতির গাড়ি দুর্ঘটনা বা স্কাইডাইভিং করতে গিয়ে পাওয়া চোটের তুলনা করছেন। কারও কারও আবার মত, মিশায়েল শুমাখারের স্কি দুর্ঘটনার চেয়ে কোনও অংশে কম সাংঘাতিক নয় হিউজের আঘাত।

হিউজ-দুর্ঘটনার প্রভাব যে কতটা গভীর, বুঝতে হয়তো একটা তথ্যই যথেষ্ট। মাঠে হাজির দুই দলের সদস্য, যাঁরা ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী, তাঁরা সবাই দৃশ্যত এতটাই প্রভাবিত যে তাঁদের সবাইকে কাউন্সেলিংয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ঘটনা হচ্ছে, তরুণ হিউজ অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটমহলে খুব জনপ্রিয়। এ দিন দুর্ঘটনার সময় তাঁর সঙ্গে ব্যাট করা ওয়ার্নার ২০১১-এ যে দিন টেস্ট অভিষেক ঘটান, সে দিনও তাঁর উল্টো দিকে ছিলেন হিউজ। যাঁর নিজের টেস্ট অভিষেক ২০০৯ সালে। দেশের হয়ে ২৬টা টেস্ট খেলেছেন হিউজ। সাতাশ নম্বরটাও যাতে খেলতে পারেন, সেই আশায় এখন ক্রিকেটবিশ্ব।


সবিস্তার দেখতে ক্লিক করুন

phil hughes sean anthony abbott bouncer Australia batsman head injury critical sports news online news
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy