সচিন, দ্রাবিড় না সহবাগ, নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্টে সবচেয়ে ভাল গড় কার
টি-টোয়েন্টি সিরিজ, একদিনের সিরিজের পর সামনে এ বার টেস্ট সিরিজ। ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে ওয়েলিংটনে শুরু প্রথম টেস্ট। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের টেকনিকের কড়া পরীক্ষা নেবে এই টেস্ট সিরিজ। জোরে হাওয়ার পাশাপাশি বাড়তি বাউন্সও সমস্যায় ফেলতে পারে বিরাট কোহালির দলকে। তবে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতেই পারেন রাহুল দ্রাবিড়, সচিন তেন্ডুলকররা।
টি-টোয়েন্টি সিরিজ, একদিনের সিরিজের পর সামনে এ বার টেস্ট সিরিজ। ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে ওয়েলিংটনে শুরু প্রথম টেস্ট। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের টেকনিকের কড়া পরীক্ষা নেবে এই টেস্ট সিরিজ। জোরে হাওয়ার পাশাপাশি বাড়তি বাউন্সও সমস্যায় ফেলতে পারে বিরাট কোহালির দলকে। তবে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতেই পারেন রাহুল দ্রাবিড়, সচিন তেন্ডুলকররা।
নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধেই ১৯৯৯ সালে কেরিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন সচিন তেন্ডুলকর। সেটা ১৯৯৯। আবার ২০১০ সালে আমদাবাদে বীরেন্দ্র সহবাগ করেছিলেন ১৭৩। কিউয়িদের বিরুদ্ধে গৌতম গম্ভীরের টেস্ট বাঁচানো ১৩৭ রানের ইনিংসও ঢুকে পড়েছে লোকগাথায়। দেখে নেওয়া যাক ব্ল্যাক ক্যাপসদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের মধ্যে কে সবচেয়ে বেশি সফল।
বীরেন্দ্র সহবাগ কিউয়িদের বিরুদ্ধে টেস্টে খেলেছেন ২১ ইনিংস। ৪৪.১৫ গড়ে করেছেন ৮৮৩ রান। তার মধ্যে রয়েছে দুটো সেঞ্চুরি ও তিনটি হাফ-সেঞ্চুরি। ভারতের সবচেয়ে আক্রমণাত্মক টেস্ট ওপেনার তিনি। একমাত্র ভারতীয় হিসেবে টেস্টে দুটো ট্রিপল সেঞ্চুরি রয়েছে তাঁর। টেস্টে তাঁর স্ট্রাইক রেটও চোখ কপালে তোলার মতো, ৮২.৩৩!
২০০৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি করেছিলেন সহবাগ। মোহালিতে সেই ইনিংসে ১৩০ করেছিলেন তিনি। আর কিউয়িদের বিরুদ্ধে তাঁর দ্বিতীয় সেঞ্চুরি এসেছিল আমদাবাদে, ২০১০ সালে। সেই ইনিংসে ঝড়ের গতিতে মাত্র ১৯৯ বলে ১৭৩ করেছিলেন নজফগড়ের নবাব।
২০০১ থেকে ২০১২, লম্বা টেস্ট কেরিয়ারে ১০৪ ম্যাচ খেলেছেন বীরু। ব্যাট হাতে নেমেছেন ১৮০ বার। ৪৯.৩৪ গড়ে করেছেন ৮৫৮৬ রান। সর্বাধিক ৩১৯। তাঁর কেরিয়ারে আছে ২৩ টেস্ট সেঞ্চুরি ও ৩২ হাফ-সেঞ্চুরি। দেখা যাচ্ছে, বীরুর টেস্ট কেরিয়ারের গড় নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে গড়ের চেয়ে ভাল।
আরও পড়ুন:
অনেকের কাছে সচিন তেন্ডুলকর চিহ্নিত হন ‘ক্রিকেটের ভগবান’ হিসেবে। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধেও তাঁর রেকর্ড বেশ ভাল। কিউয়িদের বিরুদ্ধে ৩৯ ইনিংসে ৪৬.৯১ গড়ে ১৫৯৫ রান করেছেন তিনি। এর মধ্যে চারটি সেঞ্চুরি ও আটটি হাফ-সেঞ্চুরি রয়েছে।
রেকর্ড সমার্থক সচিনের সঙ্গে। একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে ২০০ টেস্ট খেলেছেন তিনি। টেস্টে সবচেয়ে বেশি, ১৫৯২১ রান করেছেন। টেস্টে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি (৫১) ও হাফ-সেঞ্চুরির (৬৮) রেকর্ডও সচিনের। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধেও যথারীতি ধারাবাহিক থেকেছেন সচিন।
নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তাঁর প্রথম সেঞ্চুরি আসে ১৯৯৮ সালের ওয়েলিংটনে। সচিন করেছিলেন ১১৩। দ্বিতীয় সেঞ্চুরি আসে ১৯৯৯ সালে মোহালিতে। ১২৬ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। সেই সিরিজেই আমদাবাদে করেছিলেন ২১৭। ২০০৯ সালে হ্যামিল্টনে তাঁর ব্যাটে আসে ১৬০ রান। সেটাই কিউয়িদের বিরুদ্ধে তাঁর শেষ টেস্ট সেঞ্চুরি।
রাহুল দ্রাবিড়ই নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্টে সফলতম ভারতীয় ব্যাটসম্যান। ২৮ ইনিংসে ৬৩.৮০ গড়ে তিনি করেছেন ১৬৫৯ রান। তার মধ্যে ছয় সেঞ্চুরি ও ছয় হাফ-সেঞ্চুরি রয়েছে। ভারতীয় ক্রিকেটে তাঁকে বলা হয় ‘দ্য ওয়াল’। যা কিউয়িদের বিরুদ্ধে তাঁর পারফরম্যান্সেই প্রতিফলিত।
আরও পড়ুন:
টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এখনও পর্যন্ত দ্রাবিড়ই দ্বিতীয় সর্বাধিক রান সংগ্রহকারী। তাঁর ব্যাটে টেস্টে এসেছে ১৩ হাজার ২৮৮ রান। ভারতীয় ক্রিকেটারদের মধ্যে টেস্টে সবচেয়ে বেশি শতরানের তালিকাতে তিনি রয়েছেন দুইয়ে। দ্রাবিড়ের ব্যাটে এসেছে ৩৬ সেঞ্চুরি।
১৯৯৯ সালে হ্যামিল্টনে দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করেছিলেন দ্রাবিড়। প্রথম ইনিংসে করেন ১৯০। দ্বিতীয় ইনিংসে অপরাজিত থাকেন ১০৩ রানে। ১৯৯৯ সালে মোহালিতে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে করেন ১৪৪। ২০০৩ সালে আহমেদাবাদে করেন ২২২। সেই আমদাবাদেই ২০১০ সালে করেন ১০৪। সেই সিরিজেই নাগপুরে করেন ১৯১।