×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

১১ মে ২০২১ ই-পেপার

শেষ মুহূর্তে গোল করে লাল-হলুদের ত্রাতা স্কট

নিজস্ব সংবাদদাতা
কলকাতা ১৬ জানুয়ারি ২০২১ ০৫:৩৮
উচ্ছ্বাস: সংযুক্ত সময়ে গোল করার পরে স্কট (ডান িদকে)। আইএসএল

উচ্ছ্বাস: সংযুক্ত সময়ে গোল করার পরে স্কট (ডান িদকে)। আইএসএল

আইএসএল

এসসি ইস্টবেঙ্গল ১ কেরল ব্লাস্টার্স ১

Advertisement

রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে নাটকীয় পরিসমাপ্তি। শেষ মুহূর্তে গোল করে কেরল ব্লাস্টার্সের বিরুদ্ধে স্কট নেভিল শুধু এসসি ইস্টবেঙ্গলের হার বাঁচাননি, ভুলের প্রায়শ্চিত্তও করলেন!

অ্যান্টনি পিলকিংটন সুস্থ হয়ে ওঠায় কেরলের বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে বিশেষজ্ঞেরা লাল-হলুদকেই এগিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু তাঁকে বাদ দিয়েই শুক্রবার প্রথম একাদশ গড়েছিলেন রবি ফাওলার। লাল-হলুদ সমর্থকেরা তা দেখে হতাশ হয়ে পড়লেও নিশ্চয়ই খুশি হয়েছিলেন কেরল কোচ কিবু ভিকুনা। তাঁর কাজ যে অনেক সহজ হয়ে গিয়েছিল।

এসসি ইস্টবেঙ্গলকে বদলে দেওয়া ব্রাইট এনোবাখারেকে শুরু থেকেই চক্রব্যূহে বন্দি করে রাখলেন কেরলের ফুটবলারেরা। জা মাগোমার সঙ্গে কেরলের অন্তত দু’জন ফুটবলার সর্বক্ষণ ছায়ার মতো লেগে থাকলেন। এখানেই শেষ নয়। জর্ডান মারে, গ্যারি হুপার ও আব্দুল সাহাল সামাদকে আক্রমণের ঝড় তোলার দায়িত্ব দেন কিবু। চোটের কারণে শেষ মুহূর্তে রাজু গায়কোয়াড় ছিটকে যাওয়ায় লাল-হলুদের রক্ষণ যে সমস্যায় পড়বে তা খুব ভালই জানতেন কেরল কোচ।

খেলা শুরু হওয়ার ছয় মিনিটের মধ্যেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল কেরল। পেনাল্টি বক্সের মধ্যে থেকে নেওয়া জর্ডানের শট বাঁচান গোলরক্ষক দেবজিৎ মজুমদার। এসসি ইস্টবেঙ্গল প্রথম গোল করার সুযোগ পায় ১১ মিনিটে। কিন্তু হরমনপ্রীত সিংহের শট শরীর ছুড়ে বাঁচান কেরল গোলরক্ষক অ্যালবিনো গোমস। ৪৭ মিনিটে বল নিয়ে কেরলের বক্সে ঢুকে ব্রাইট পাস দিয়েছিলেন হরমনপ্রীতকে। কিন্তু তিনি বলের কাছে পৌঁছতেই পারেননি। কেরল অধিনায়ক জেসেল কার্নেরো বল বিপন্মুক্ত করতে গিয়ে প্রায় নিজের গোলেই ঢুকিয়ে দিচ্ছিলেন। দ্রুত ভুল শুধরে গোললাইন থেকে বল বাঁচান তিনি। ৫৫ মিনিটে হুপারের শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। নয় মিনিটের মধ্যেই কেরলকে এগিয়ে দেন জর্ডান।

কেরলের বিরুদ্ধে প্রথম পর্বের ম্যাচে রক্ষণের ভুলেই গোল খেয়েছিল লাল-হলুদ। শুক্রবারও ছবিটা বদলাল না। ৬৪ মিনিটে কেরল গোলরক্ষক নিজেদের বক্স থেকে জর্ডানকে লক্ষ্য করে বল দেন। লাল-হলুদের ডিফেন্ডারেরা তখন জায়গায় ছিলেন না। কেরল স্ট্রাইকার নেভিল ও রানা ঘরামিকে গতিতে পরাস্ত করে পেনাল্টি বক্সে ঢুকে পড়েন। দেবজিৎ গোল ছেড়ে বেরোতে দেরি করায় বল জর্ডানের পায়ে লেগে গোলে ঢুকে যায়। এর পরেই মাঠি স্টেনম্যানকে তুলে পিলকিংটনকে নামান ফাওলার। গতি বাড়ে আক্রমণের।

ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে অবশেষে স্বস্তি ফেরে লাল-হলুদে। ব্রাইটের কর্নার থেকে উড়ে আসা বল দুরন্ত হেডে জালে জড়িয়ে দেন স্কট। সেই সঙ্গে টানা ছ’ম্যাচে অপরাজিত রাখলেন লাল-হলুদকে। তবে ড্রয়ের ফলে ১১ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবলে নবম স্থানেই থাকল এসসি ইস্টবেঙ্গল।

এসসি ইস্টবেঙ্গল: দেবজিৎ মজুমদার, স্কট নেভিল, রানা ঘরামি, ড্যানি ফক্স (অ্যারন জোসুয়া আমাদি), নারায়ণ দাস, অঙ্কিত মুখোপাধ্যায় (সুরচন্দ্র সিংহ), মাঠি স্টেনম্যান (অ্যান্টনি পিলকিংটন), মিলন সিংহ (অজয় ছেত্রী), জা মাগোমা, হরমনপ্রীত সিংহ (মহম্মদ রফিক) ও ব্রাইট এনোবাখারে।

কেরল ব্লাস্টার্স: অ্যালবিনো গোমস, নিশু কুমার, সন্দীপ সিংহ, কোস্তা হামোইনেসু, জেসেল কার্নেরো (খুয়ান লোপেস), সাহাল আব্দুল সামাদ (রোহিত কুমার), জিকসন সিংহ, ভিসেন্ত গোমস, ফাকুন্দো পেরেরা (লালথাথাঙ্কা খাওয়ালরিং), গ্যারি হুপার ও জর্ডান মারে (রাহুল কে পি)।

Advertisement