ম্যাচ ফিক্সিং কেলেঙ্কারি থেকে শুরু করে রাফায়েল নাদালের অপ্রত্যাশিত হার, অস্ট্রেলীয় ওপেন গত দু’দিনে অনেক কিছুই দেখে নিয়েছে। বুধবারের অস্ট্রেলীয় ওপেন অবশ্য দেখল সেরিনার অভিনব শট থেকে উদাসীন ফেডেরার-কে। তীব্র গরম ও বিপক্ষকে উড়িয়ে পরের রাউন্ডের টিকিট কেটে রাখলেন টেনিস নক্ষত্ররা।
রড লেভার এরিনায় কোনও সেট নষ্ট না করে আলেকজান্ডার ডোগোপোলভকে ৬-৩, ৭-৫, ৬-১ উড়িয়ে দিলেন ফেডেরার। কোর্টে দাপট দেখালেও ম্যাচ শেষে সাংবাদিক সম্মলনে অবশ্য ফেডেরারকে অন্য সমস্ত সার্ভ সামলাতে হয়। কারণ তাঁর যমজ মেয়ে মায়লা ও শার্লিন। যারা বাবার খেলা দেখতে এসেও গোটা সময়ে মগ্ন ছিল বই পড়তে। তা হলে কি এতটাই বোরিং হয়ে উঠেছেন ফে়ডেরার? ফেডেরারের জবাব, ‘‘ওরা আমার খেলা দেখতে ভালবাসে না। এখনও কোনও আগ্রহ নেই। কিন্তু আস্তে আস্তে ওদের টেনিস সম্পর্কে বোঝাচ্ছি। তবে আমি খুশি হব ওরা যদি কোনওদিন কোর্টে না নামে।’’ তার মানে ১৭ বার গ্র্যান্ড স্ল্যাম চ্যাম্পিয়ন চান না তাঁর মেয়েরা টেনিস প্লেয়ার হোক? ‘‘আমি নিজেও প্রায় ৪০ বছর ট্যুরে কাটিয়ে দিলাম। আমি খারাপ কিছু বলতে চাইনি। আসলে ওদের টেনিস নিয়ে অত বেশি আগ্রহ নেই। কোনও দিন রড লেভার এরিনায় ওরা খেলছে সেটা এখনই আমি কল্পনা করতে পারছি না। তবে ওরা আমাকে চমকে দিতেই পারে,’’ বলছেন ফে়ডেরার।
ছ’বার অস্ট্রেলীয় ওপেন জেতার দৌড় টিকিয়ে রাখলেন নোভাক জকোভচিও। এ দিন ফ্রান্সের কোয়েন্টিন হেলিসকে আরাম করেই ৬-১,৬-২, ৭-৬ হারালেন জোকার।
প্রথম বার নিজের কেরিয়ারে ‘অ্যারাউন্ড দ্য নেট শট’ মেরে টুইটারে ঝড় তুলে দেন সেরিনা। অর্থাত্ কোর্টের বাইরে গিয়ে নেটের ধার দিয়ে শট মারা। প্রতিটা পোস্টেই তাঁর সেই শটের প্রশংসা হতে থাকে। সিয়ে সু ওয়েই-কে ৬-১, ৬-২ হারানোর থেকেও তাই সেরিনা বেশি উত্সুক ছিলেন প্রথম বার অভিনব শট মেরে। ‘‘সব সময় ভাল লাগে নতুন কিছু করলে। কোনওদিন এ রকম শট আগে মেরেছি বলে মনে পড়ছে না।’’ সেরিনা যখন অভিনব শট মারলেও, মারিয়া শারাপোভা তাঁর শক্তিশালী ড্রপ-শটের উপরেই ভরসা রাখলেন। যা তাঁকে সাহায্য করল আলিয়াকসান্দ্রা সাসনোভিচকে ৬-২,৬-১ হারাতে। গ্র্যান্ড স্ল্যাম শুরু হওয়ার আগে এমনিতেই চোটের সমস্যায় ভুগেছেন শারাপোভা। কিন্তু এ দিন তাঁর খেলায় চোটের কোনও ছাপ দেখা যায়নি।