Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২২ মে ২০২২ ই-পেপার

URL Copied
Something isn't right! Please refresh.

শিলিগুড়ির দ্বিতীয় অর্জুন সেই টিটি-রই সৌম্যজিৎ

খবরটা হাওয়া ভাসছিল কয়েকদিন ধরেই। অপেক্ষা ছিল শুধু ক্রীড়া মন্ত্রক থেকে কবে পাকাপাকি ভাবে জানানো হবে। রবিবার সকালে সেটাই ঘটল। এ বছর অর্জুন পু

নিজস্ব সংবাদদাতা
শিলিগুড়ি ২২ অগস্ট ২০১৬ ০২:০৮
Save
Something isn't right! Please refresh.
সৌম্যজিৎ ঘোষ।

সৌম্যজিৎ ঘোষ।

Popup Close

খবরটা হাওয়া ভাসছিল কয়েকদিন ধরেই। অপেক্ষা ছিল শুধু ক্রীড়া মন্ত্রক থেকে কবে পাকাপাকি ভাবে জানানো হবে। রবিবার সকালে সেটাই ঘটল। এ বছর অর্জুন পুরস্কার পাচ্ছেন শিলিগুড়ির টেবল টেনিস খেলোয়াড় সৌম্যজিৎ ঘোষ। এ দিন সকালেই ক্রীড়ামন্ত্রক থেকে ইমেলে বিস্তারিত তাঁকে জানানো হয়েছে। ২৩ বছরের তরুণের অদম্য প্রচেষ্টাই তাঁকে ওই সম্মান পেতে সাহায্য করেছে বলে একবাক্যে স্বীকার করেন শিলিগুড়ির অপর অর্জুন মান্তু ঘোষ, শুভজিৎ সাহা বা টেবল টেনিস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ার কর্তারা।

এ বছর রিও দে জেনেইরো এবং তার আগে লন্ডন অলিম্পিকে খেলেছেন সৌম্যজিৎ। গত বছর কমনওয়েলথে ফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে পুরুষ বিভাগে ভারতীয় টেবল টেনিস দল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পিছনে এই তরুণের অবদান অনেকটাই। ক্যাডেট থেকে সিনিয়র সব বিভাগেই জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার খেতাব রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরে পেয়েছেন প্রচুর পদক। যা তাঁকে ওই সম্মানের জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে বলে মনে করছেন মান্তু, শুভজিৎরা।

সৌম্যজিতের ওই সম্মানে উচ্ছ্বসিত টেবল টেনিস ফেডারেশনের কর্তারাও। ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল ধনরাজ চৌহ্বান বলেন, ‘‘ওর লড়াকু মানসিকতা, টেবল টেনিসের প্রতি দায়বদ্ধতা, আনুগত্য এবং পরিশ্রম করার ক্ষমতাই ওকে এই জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে।’’ শহরে ফিরলে নর্থবেঙ্গল টেবল টেনিস অ্যাসোসিয়েশনের তরফে তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়ার কথা জানানো হয়। সৌম্যজিৎকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মেয়রও।

Advertisement

টেবল টেনিস কোচ ভারতীয় ঘোষের কথায়, ‘‘ও এই সম্মান পাওয়ার যোগ্য। খুবই ভাল লাগছে। আবার যে প্রস্তুতি নিয়ে ও অলিম্পিকে গিয়েছিল তাতে ভাল কিছু করতে না পারায় একটু খারাপ লাগছে। ভবিষ্যতে ও আরও ভাল খেলুক এটাই চাইব।’’

শিলিগুড়ির মেয়র অশোক ভট্টাচার্য অভিনন্দন জানিয়েছেন। পুরসভার তরফে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেবের ওয়ার্ডের বাসিন্দা সৌম্যজিৎ। তিনি বলেন, ‘‘এটা আমাদের কাছে গর্বের। আনুষ্ঠানিক ভাবে আমরা তাঁকে সংবর্ধনা জানাব।’’

১৯৯৮ সালে শিলিগুড়ি টেবল টেনিস অ্যাকাডেমিতে কোচ অমিত দামের কাছে অনুশীলন শুরু। নর্থ বেঙ্গল টেবল টেনিস অ্যাসোসিয়েশন গঠনের পর পরবর্তীতে মান্তু ঘোষের কাছে প্রশিক্ষণ নেওয়া। তার মধ্যে সম্ভাবনা দেখে ফেডারেশনের তরফে তাকে সুইডেনে পিটার কার্লসনের কাছে প্রশিক্ষণের সুযোগ করে দেওয়া হয়। যেটা তাকে আরও পরিণত হতে সাহায্য করেছে বলে সৌম্যজিৎ নিজেও মনে করেন।

মান্তু ঘোষের কথায়, ‘‘সৌম্যজিৎ এক কথায় যাকে বলে খেলা পাগল। টেবল টেনিসের জন্য ও সব কিছু ছাড়তে রাজি। আগে ওর খেলা তার পর বাকি সব কিছু। জ্বর নিয়েও জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের মতো ম্যাচে ওকে খেলতে দেখেছি। এই নিষ্ঠাটাই ওকে এই জায়গায় পৌঁছতে সাহায্য করেছে। এ বছর যখন ওর নাম ওই সম্মানের জন্য মনোনয়ন করে পাঠানো হয় তখন থেকেই আমরা আশাবাদী ছিলাম। এদিন খবর পেয়ে সকলেই গর্বিত।’’

উচ্ছ্বসিত তাঁর পরিবার, শিলিগুড়ির ক্রীড়ামহল। বাবা হরিশঙ্করবাবু মা মীনাদেবী দিন কয়েক হল কলকাতায় গিয়েছেন সৌম্যজিতের কাছে। শিলিগুড়ির বাড়িতে রয়েছেন কাকা পঙ্কজ ঘোষ এবং তাঁদের পরিবার। খুডতুতো বোন সৌমিও টেবল টেনিস খেলে। তাঁর মোবাইলে ‘স্ক্রিন সেভার’-এ এখন সৌম্যজিতের খেলার মুহূর্তের একটি ছবি জ্বলজ্বল করছে। শিলিগুড়ির চিলড্রেন পার্কে তাঁদের একটি মিষ্টির দোকান রয়েছে। এ দিন খুশির খবর মেলার পর দোকানে পরিচিতদের মিষ্টি খাওয়ানোর পালা চলে। শিলিগুড়ির রাসবিহারী সরণির বাড়ি আলো দিয়ে সাজানো হয়েছে যেন দেওয়ালি উৎসব। ২৯ অগস্ট রাষ্ট্রপতির হাত থেকে সৌম্যজিতের অর্জুন সম্মান নেওয়ার মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে চায় গোটা পরিবারই।

এ দিন সকালে কলকাতায় সাইয়ের ক্যাম্পে অনুশীলনে যাওয়া হয়নি। সকাল থেকেই অভিনন্দন জানাতে প্রচুর ফোন আসছে। সৌম্যজিতের কথায়, ‘‘আজ সকালে ক্রীড়ামন্ত্রক থেকে ইমেল পেয়ে অর্জুন সম্মান মেলার বিষয়টি জানতে পেরেছি। খুবই ভাল লাগছে।’’ ভবিষ্যতে আরও ভাল কিছু করে দেখানোর ক্ষেত্রে এটা তাঁকে প্রেরণা দেবে বলে জানান তিনি।



Something isn't right! Please refresh.

আরও পড়ুন

Advertisement