Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৪ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

টেনিসের মোহিনী রাতে দর্শন টেনিসের শেষ স্টেশনেরও

সুপ্রিয় মুখোপাধ্যায়
নয়াদিল্লি ০৯ ডিসেম্বর ২০১৪ ০৩:১৯
ছোট্ট সোনা। আমিরের ছোট ছেলে আজাদের সঙ্গে খুনসুটি দীপিকা পাড়ুকোন এবং রজার ফেডেরারের। সোমবার নয়াদিল্লিতে।  ছবি: পিটিআই

ছোট্ট সোনা। আমিরের ছোট ছেলে আজাদের সঙ্গে খুনসুটি দীপিকা পাড়ুকোন এবং রজার ফেডেরারের। সোমবার নয়াদিল্লিতে। ছবি: পিটিআই

রাত দশটা বেজে এক। আইপিটিএলে তিন দিনের দিল্লি লেগের শেষ ম্যাচ, থুড়ি শেষ সেট শুরু হল। ফেডেরার বনাম জকোভিচ। টেনিসবিশ্বের দুই বনাম এক ভারতের মাটিতে মহাযুদ্ধে! কুড়ি-পঁচিশ হাত দূর থেকে দেখতে দেখতে মনে হচ্ছিল, এটাই কি এ দেশের টেনিস ইতিহাসের সর্বোত্তম ফ্রেম? না কি ইন্দিরা গাঁধী ইন্ডোরেই কিছুক্ষণ আগে যেটা টেনিসের নামে হয়ে গেল সেটা? টেনিসের উৎসবে টেনিস-তামাশা!

কিন্তু তার ছবিটাও কী অনির্বচনীয়। স্বপ্নের মতো। ডাবলসের সিরিয়ালে কয়েক মিনিট করে জকোভিচ-সানিয়ার বিরুদ্ধে খেলে যাচ্ছে কখনও ফেডেরার-আমির খান জুটি। কোনও সময় গাওস্কর-দীপিকা পাড়ুকোন। কখনও বা অক্ষয় কুমার-রীতেশ দেশমুখ।

সকাল থেকেই আইপিটিএলের টুইটারে লেখা‘যে ম্যাচ কখনও হয়নি, সেই ম্যাচ আজ দিল্লিতে সন্ধে সাড়ে সাতটায়।’ সত্যিই, এক সেটের ফেড এক্স বনাম জোকার নোল (জকোভিচের ডাকনাম) লড়াই বিশ্বের কে কোথায় এর আগে দেখেছে?

Advertisement

আইপিটিএলের প্রাণপুরুষ মহেশ ভূপতি-জায়া লারা দত্তের টুইট দেখলাম: ‘স্টেডিয়ামে আজ ফেডেরার আর নোভাকের সঙ্গে থাকছে আমির-দীপিকা, অক্ষয়, গাওস্কর, বরিস বেকার, আজহারউদ্দিনরাও। টেনিসের সঙ্গে বলিউড, ক্রিকেটের বন্ধন!’

এবং সত্যিই তাই। আইপিটিএলের ‘দ্য ম্যাচ’ দেখতে কোর্টের লাগোয়া বিশেষ বার টুল্স-এ পাশাপাশি বসে জকোভিচের কোচ বেকারের সঙ্গে পিট সাম্প্রাস। গোটা আবহটা কেমন যেন মায়াবী! ফেডেরার-জকোভিচ কোর্টে ঢোকার সময় অত্যাধুনিক ডলবি সিস্টেমে ঘোষকের গলা? না, ডিজে-র বাজনা? না, গ্যালারির চিৎকার কোনটা কাকে ছাপিয়ে যাচ্ছিল, বুঝতে পারছিলাম না। আর ওই ‘ফে-ডে-রা-র, ফে-ডে-রা-র’ শব্দব্রহ্ম? ভারতের খেলার মাঠে যার সঙ্গে একমাত্র তুলনায় আসতে পারে সেই ‘স্যা-চি-ন, স্যা-চি-ন’ গর্জন। “এক এক সময় মনে হচ্ছিল আমি উইম্বলডন বা সুইস ওপেন বা বাসেলে খেলছি। এত সাপোর্ট আমার দীর্ঘ কেরিয়ারে ওই তিন জায়গাতেই পেয়েছি। এ বার দিল্লি যোগ হল,” ম্যাচের শেষে স্বীকার করলেন স্বয়ং ফেডেরার।

কিন্তু উল্টো দিকের লোকটাও জকোভিচ! তিনিও তাঁর মহাপ্রতিদ্বন্দ্বীর মতো সুপার চ্যাম্পিয়ন। ভাঙবেন তবু মচকাবেন না! বললেন, “দু’জনই জিতেছি। এত দুর্দান্ত পরিবেশ, মজার টুর্নামেন্ট। এখানে এক জনই শুধু জিততে কিংবা হারতে পারে না!”

জকোভিচের কথাটা হয়তো সত্যিই। ফেডেরারের ইন্ডিয়ান এসেসকে ২৯-২২ পয়েন্টে জকোভিচের দুবাই রয়্যালস শেষমেশ হারালেও শেষ ম্যাচে রজারের কাছে নোভাক হারেন ৫-৬। ব্যাক-টু-ব্যাক সার্ভিস ব্রেক হল। ৫-৫ হওয়ার পর পাঁচ মিনিটের সুপার শু্যট আউটে ফেডেরার ৬-৫ পয়েন্টে এগিয়ে থেকে সব মিলিয়ে ৬-৫ গেমে ম্যাচ জেতার পর আবার একটা গেম খেলা হল আইপিটিএলের অনেকগুলো অভিনব নিয়মের একটার দাক্ষিণ্যে। যতক্ষণ না পরাজিত জকোভিচ ওই গেমটা জিতবেন খেলা চলবে।

বেশিক্ষণ অবশ্য চলেনি। কারণ, জোকার নিজের সার্ভে একটাও পয়েন্ট রজারকে না দিয়ে জিতলেন। এ রকম ক্ষেত্রে আইপিটিএলে এত দিনের নিয়মে স্কোরলাইন হওয়া উচিত ফেডেরার ৬ : জকোভিচ ৫। কিন্তু স্টেডিয়ামের তিনটে বিশাল ইলেকট্রনিক স্কোরবোর্ডই তখন দেখাচ্ছে ফেডেরার-জকোভিচ ৬-৬।

এমন অনেক অভিনবেরও অভিনব কাণ্ডকারবার হল ইন্ডিয়ান বনাম দুবাই ম্যাচে এ দিন। টুর্নামেন্টের দুই তুরুপের তাস ফেডেরার আর জকোভিচকে দর্শকদের বেশি দেখার সুযোগ দিতে ডাবলস, মিক্সড ডাবলস খেলা চলাকালীন দু’দলেই ফুটবল-হকির মতো প্লেয়ার পরিবর্তন হল। ‘প্রক্সি’ দিতে কখনও বোপান্নার বদলে কোর্টে ফেডেরার। উল্টো দিকে কখনও চিলিচের বদলি জকোভিচ।

কিন্তু দুই গ্রেট চ্যাম্পিয়ন যখন সিঙ্গলসে নিজেদের মধ্যে মুখোমুখি? প্রদর্শনী টেনিস, টেনিস উৎসব, টেনিস তামাশা, নতুন নিয়মসব চুলোয় যাক। এমনকী সিঙ্গাপুর-ম্যানিলা এ দিনের প্রথম খেলার রেজাল্ট রাত বারোটায় প্রেসবক্সে বসে এই রিপোর্ট লেখায় সময় মনে করতে পারছি না! বরং সানিয়ার সন্ধের একটা টুইট মনে পড়ছে‘স্টেডিয়ামের সবচেয়ে দামি সিটটা পেয়েছি আমি। পাশেই রজার। কয়েক ফুট দূরেই নোভাক বসে!’

৩৭ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডের মহাযুদ্ধ তো কী? মহাযুদ্ধ এক সেকেন্ডের জন্য হলেও তার মহিমা আলাদা! তীব্রতা, স্ট্যান্ডার্ডে পৃথক। লাইনকল চ্যালেঞ্জ হল একাধিক বার। গরগরে মেজাজে চেয়ার আম্পায়ারের কাছে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ চলল! যে কোনও গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনালের সঙ্গে যেন তফাত নেই গোটা আবহের তখন।

ফেডেরার যেমন কিছু অপার্থিব ডাউন দ্য লাইন, ব্যাকহ্যান্ড রিটার্ন, সেকেন্ড সার্ভ করলেন, তেমনই জকোভিচের সেই বেসলাইন থেকে অবিস্মরণীয় সব রিটার্ন ছিটকে বেরোচ্ছিল বারবার। আর ৫-৫ হওয়ার পর তো মহাম্যাচটা টাইব্রেকে যেন অন্য মার্গে পৌঁছে গেল! এটাই কি অন্য গ্রহের টেনিস?

এটাই কি তা হলে টেনিসগ্রহের সেই শেষ স্টেশন? যেখানে টেনিসকে পৌঁছে দিয়েছেন কোনও যুগে কোনও রড লেভার। কোনও যুগে কোনও বিয়র্ন বর্গ। কোনও যুগে কোনও রজার ফেডেরার!

ভারত এত দিন জানত না টেনিসগ্রহের সেই শেষ স্টেশনের সন্ধান। ধন্যবাদ আইপিটিএল। তুমি জানালে আমাদের!

আরও পড়ুন

Advertisement