Advertisement
E-Paper

আশি ভাগ সুস্থ, প্রস্তুতিতে নেমে বললেন স্বপ্না

প্রথম দিন অনুশীলনে নেমে হাঁটুতে সামান্য ব্যথা অনুভব করেছেন বাংলার অ্যাথলিট। তবে তা নিয়ে চিন্তিত নন তিনি। বলে দিলেন, ‘‘আমি আশি ভাগ সুস্থ। যেটুকু সমস্যা আছে, রি-হ্যাব করলেই ঠিক হয়ে যাবে আশা করছি। ডাক্তাররাও সেটাই বলেছেন। যে চোট নিয়ে জাকার্তায় সোনা জিতেছি, এই ব্যথা তার কাছে কিছুই নয়।’’ 

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৭ নভেম্বর ২০১৮ ০৩:২৬
প্রত্যয়ী: দীপাবলির সকালে অনুশীলন স্বপ্নার। নিজস্ব চিত্র

প্রত্যয়ী: দীপাবলির সকালে অনুশীলন স্বপ্নার। নিজস্ব চিত্র

কালী-ভক্ত স্বপ্না বর্মন তাঁর অনুশীলন শুরু করলেন মঙ্গলবার, দীপাবলির সকালে। আর বিকেলে দ্বিতীয় দফার অনুশীলন শেষে রাতে সল্ট লেক সাইয়ের হস্টেলে ভোগ ও পায়েস রান্না করে কালীপুজো সেরে ফেললেন জাকার্তা এশিয়াডে সোনাজয়ী মেয়ে। বলছিলেন, ‘‘আমার ঘরে কালী ঠাকুরের ছবি আছে। পুজো করি প্রতি বছর। যে কোনও লক্ষ্যে পৌঁছনোর জন্য মানসিক শক্তির প্রয়োজন। তাই শক্তির আরাধনা করেই এ বার অনুশীলন শুরু করলাম।’’

প্রথম দিন অনুশীলনে নেমে হাঁটুতে সামান্য ব্যথা অনুভব করেছেন বাংলার অ্যাথলিট। তবে তা নিয়ে চিন্তিত নন তিনি। বলে দিলেন, ‘‘আমি আশি ভাগ সুস্থ। যেটুকু সমস্যা আছে, রি-হ্যাব করলেই ঠিক হয়ে যাবে আশা করছি। ডাক্তাররাও সেটাই বলেছেন। যে চোট নিয়ে জাকার্তায় সোনা জিতেছি, এই ব্যথা তার কাছে কিছুই নয়।’’

জাকার্তা এশিয়াডে সোনা জিতে আসার পরে শরীরের চারটি জায়গায় চোটের কারণে প্রায় নয় সপ্তাহ অনুশীলন করেননি স্বপ্না। সঙ্গে দাঁতের ব্যথাও ছিল। ডাক্তাররা প্রথমে তিনটি অস্ত্রোপচারের কথা বললেও পরে মত বদলান। রিহ্যাব করে সুস্থ হওয়ার পরামর্শ দেন। গত এক মাসে মুম্বইতে গিয়ে ডাক্তারের বারবার পরামর্শ নেওয়া, জলপাইগুড়ির বাড়িতে ঘুরে আসা এবং প্রচুর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন স্বপ্না। এখন সব বন্ধ। অনুশীলনের পরে স্বপ্না বলে দিলেন, ‘‘আর কোথাও যাব না। এখন শুধুই অনুশীলন করব। এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে পদক জিততেই হবে। পদক না পেলে এই যে আমাকে সবাই এত সম্মান দিচ্ছে, সে সবই শেষ হয়ে যাবে।’’

প্রথম দিন ছাত্রীকে সকাল- বিকেল মিলিয়ে পাঁচ ঘণ্টা অনুশীলন করালেও এখনই তাঁর উপর বেশি চাপ দিতে চাইছেন না কোচ সুভাষ সরকার। বলছিলেন, ‘‘স্বপ্নার হাঁটুর মিনিস্কাসের একটি অংশ ছিঁড়ে গিয়েছে। পাঁচ সপ্তাহ সময় লাগবে ওকে পুরোপুরি অনুশীলনে ফেরাতে। সে জন্য ডাক্তারের পরামর্শ মতো সূচি তৈরি করছি অনুশীলনের। এখনই বেশি চাপ বাড়াতে চাই না।’’ গোয়ার জাতীয় গেমসে বাংলার পতাকাবাহক হিসেবে স্বপ্নাকে নির্বাচন করতে চলেছে বিওএ। কিন্তু গেমসের তারিখ পিছিয়েই চলেছে। তাই পাতিয়ালায় ১৬-১৯ মার্চ যে ফেডারেশন কাপ হবে, সেটাকেই পাখির চোখ করেছেন স্বপ্না। ওই প্রতিযোগিতা থেকেই এশীয় চ্যাম্পিয়নশিপের দল নির্বাচন করা হবে। স্বপ্না বলছিলেন, ‘‘এপ্রিলে দোহায় এশীয় চ্যাম্পিয়নশিপ আছে। ওই প্রতিযোগিতায় যোগ্যতা অর্জন করতে গেলে ফেডারেশন কাপে ভাল করতে হবে। এশিয়াডে ৬০২৬ স্কোর করেছিলাম। এ বার তার থেকে বেশি পয়েন্ট পেতে হবে। স্যর এখনও অবশ্য লক্ষ্য বেঁধে দেননি।’’

হেপ্টাথলনের সাতটি ইভেন্টের জন্য স্বপ্নার সাত জোড়া জুতো তৈরি করছে জার্মানির একটি সংস্থা। জুতোর প্রাথমিক সংস্কারণ কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁর কাছে আসার কথা। স্বপ্না বলছিলেন, ‘‘ফেডারেশন কাপের আগে অনুশীলন করে সিদ্ধান্ত নেব ওটা পরে নামব কি না।’’

Swapna Barman Jalpaiguri Athelete
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy