বলের পিছনে দৌঁড়চ্ছিলেন হঠাৎই হাঁটুর নীচ থেকে খুলে ছিটকে গেল নকল পায়ের অংশ। স্তম্ভিত পুরো মাঠ ভেবেছিল ওখানে খেলা থামিয়ে চিকিৎসা করতে হবে। কিন্তু না সবাই থমকে গেলেও থামলেন না লিয়াম থমাস। দ্রুত গতিতে বাউন্ডারির দিকে ছুটে যাওয়া বলের পিছনে দৌড়লেন তিনি। না বাউন্ডারি হয়নি। হতে দেননি লিয়াম। বাউন্ডারির আগেই সেই বল আটকে ফেরত পাঠিয়েছিলেন উইকেট কিপারের কাছে।
প্রতিবন্ধী ক্রিকেট চলছিল ইংল্যান্ড আর পাকিস্তানের মধ্যে। টি২০ টুর্নামেন্ট। দুবাই আইসিসি অ্যাকাডেমির আমন্ত্রণমূলক টুর্নামেন্টে ঘটেছে এই ঘটনা। ডিপ ব্যাকওয়ার্ড স্কোয়্যারে যখন তিনি বল ধরতে ঝাঁপিয়েছেন, তখনও কেউ ভাবেননি তিনি পারবেন। কিন্তু সবাইকে চমকে দিয়ে দারুণ ভাবে বলের গতি আটকেছেন তিনি। এর পর ফিরে গিয়েছে ছিটকে পড়া নকল পায়ের কাছে। যদিও ইংল্যান্ডকে হারতে হয়েছে ফাইনালে। কিন্তু যে উদাহরণ রেখে গিয়েছেন লিয়াম সেটা ছাপিয়ে গিয়েছে চ্যাম্পিয়ন না হওয়ার দুঃখকে। যে কোনও শারীরিক প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য লিয়াম হয়ে উঠতে পারেন প্রেরণা। প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশকে হারিয়েছিল ইংল্যান্ড। সেই ম্যাচে ব্যাট হাতে দারুণ সফল লিয়াম থমাস।
বাংলাদেশ, পাকিস্তানও ইংল্যান্ড, এই তিন দলকে নিয়ে আয়োজন করা হয়েছিল এই টুর্নামেন্টের। লিয়ামের এই লড়াই হয়তো এই টুর্নামেন্টের আবেগকে আরও বেশি করে উসকে দিয়েছে। ভবিষ্যতে আরও অনেকেই স্বপ্ন দেখবে ক্রিকেট খেলার। অঙ্গহীনতা যে কোনও প্রতিবন্ধকতা নয় বুঝিয়ে দিয়েছেন ইংল্যান্ডের এই ক্রিকেটার।