Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ ই-পেপার

খেলা

Tokyo Paralympics: কারও পা নেই, কারও হাত, কেউ পোলিয়োতে আক্রান্ত, টোকিয়োর আকাশে ঝলমলে ভারতীয় তারারা

নিজস্ব প্রতিবেদন
কলকাতা ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৫:২৩
প্যারালিম্পিক্সে ভারতের সব চেয়ে বেশি পদক এল টোকিয়ো থেকেই। এর আগে প্যারালিম্পিক্সে ভারতের মোট পদক সংখ্যা ছিল ১২। শুধু টোকিয়ো থেকেই এ বার ১৯টি পদক এনেছেন ভারতীয় অ্যাথলিটরা। দেখে নেওয়া যাক কারা পদক জিতলেন, কোন ইভেন্টে।

নিষাদ কুমার: এ বারের প্যারালিম্পিক্সে ভারতকে প্রথম পদক দিয়েছিলেন তিনিই। ২৯ অগস্ট হাই জাম্পার (টি ৪৭) নিষাদ রুপো জিতেছিলেন। ২১ বছরের এই হাই জাম্পার এক দুর্ঘটনায় ডান হাত হারান। আট বছর বয়স থেকে এক হাতেই লড়াই করছেন তিনি।
Advertisement
ভাবিনা পটেল: দ্বিতীয় মহিলা হিসাবে প্যারালিম্পিক্সে পদক জেতেন এই টেবিল টেনিস খেলোয়াড়। ফাইনালে হেরে রুপো নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাঁকে। ছোট থেকেই পোলিয়ো আক্রান্ত ভাবিনা। হুইলচেয়ারে বসেই পদক জয়ের স্বপ্ন সত্যি করলেন তিনি।

অবনী লেখারা: এ বারের প্যারালিম্পিক্সে সব চেয়ে উল্লেখযোগ্য নাম। ১০ মিটার এয়ার রাইফেল ইভেন্টে সোনা জেতেন তিনি। প্রথম ভারতীয় মহিলা হিসাবে সোনা জয়। গাড়ি দুর্ঘটনায় শিরদাঁড়ায় আঘাত পান। তারপর থেকে হুইলচেয়ারে বসেই সব যুদ্ধ জয় করে চলেছেন তিনি।
Advertisement
যোগেশ কাঠুনিয়া: রুপো জেতেন এই ডিসকাস থ্রোয়ার (এফ ৫৬)। মাত্র আট বছর বয়স থেকে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েন সেনাকর্মীর ছেলে যোগেশ। বাবার কাছ থেকেই মানসিক জোর পেয়েছেন তিনি। লড়াই করার সেই শক্তিই পদক এনে দিল যোগেশকে।

দেবেন্দ্র ঝাঝারিয়া: তৃতীয় বার পদক জিতলেন দেবেন্দ্র। গত প্যারালিম্পিক্সে সোনাজয়ী জ্যাভলিন থ্রোয়ার (এফ ৪৬) এ বার রুপো জেতেন। বৈদ্যুতিক তারের স্পর্শে ছোটবেলায় বাঁ হাত পঙ্গু হায় যায় তাঁর। সেই নিয়েই তিন বার প্যারালিম্পিক্সে পদক জিতলেন দেবেন্দ্র।

সুন্দর সিংহ গুরজার: দেবেন্দ্রর ইভেন্টেই ব্রোঞ্জ জিতেছেন সুন্দর। একই ইভেন্টে জোড়া পদক ভারতের। ২০১৫ সালে একটি দুর্ঘটনায় বাঁ হাতের কব্জি কেটে বাদ দিতে হয় তাঁর। সেই থেকে প্যারা অ্যাথলিটিক্সে অংশ নিতে শুরু করেন তিনি। ২০১৬ সালের রিয়ো প্যারালিম্পিক্সেও সুযোগ পেয়েছিলেন সুন্দর। কিন্তু ইভেন্টের দিন দেরি করে আসায় বাদ যান তিনি।

সুমিত অন্তিল: জ্যাভলিনে (এফ ৬৪) সোনা জেতেন সুমিত। নীরজের পর জ্যাভলিনে ফের সোনা জয় টোকিয়োতে। বিশ্ব রেকর্ড গড়ে সোনা জেতেন সুমিত। পরের বার নীরজের সঙ্গে অলিম্পিক্সে নামতে চান বাঁ পা হারানো সুমিত।

সিংহরাজ আধানা: শ্যুটিংয়ে ভারতের দ্বিতীয় পদক আনেন সিংহরাজ। ১০ মিটার এয়ার পিস্তল (এসএইচ ১) বিভাগে ব্রোঞ্জ জেতেন তিনি। ৩৯ বছরের এই শ্যুটার পোলিয়ো আক্রান্ত। চার বছর আগে শ্যুটিং শুরু করে পদক জয় সিংহরাজের।

মারিয়াপ্পন থঙ্গভেলু: গত বারের সোনাজয়ী শ্যুটার এ বারের প্যারালিম্পিক্সে রুপো জেতেন। পাঁচ বছর বয়স থেকেই পঙ্গু তিনি। বাসের চাকা চলে যায় তাঁর ডান পায়ের উপর দিয়ে। হাঁটু গুঁড়িয়ে যায় মারিয়াপ্পনের। সারা জীবন এক পা নিয়েই লড়াই করতে হবে তাঁকে।

শরদ কুমার: হাই জাম্পে (টি ৪২) ব্রোঞ্জ জেতেন তিনি। দু’বছর বয়স থেকে তাঁর বাঁ পা পোলিয়োর জন্য নষ্ট হয়ে যায়। দার্জিলিঙের কলেজে পড়াশোনা করেছেন শরদ। প্যারালিম্পিক্সে অংশ নেওয়ার জন্য তিন বছর ধরে ইউক্রেনে অনুশীলন করেছিলেন তিনি।

প্রবীণ কুমার: কোমরের সঙ্গে বাঁ পায়ের হাড়ের যোগে সমস্যা রয়েছে তাঁর। সেই নিয়েই হাই জাম্পে (টি ৬৪) রুপো জিতলেন প্রবীণ। ১৮ বছরের এই অ্যাথলিট ভারতীয়দের মধ্যে সব চেয়ে কম বয়সে পদক জয়ের রেকর্ড গড়েছেন।

অবনী লেখারা: দ্বিতীয় পদক অবনীর। অলিম্পিক্স বা প্যারালিম্পিক্সে এই রেকর্ড কারও নেই। তিনিই একমাত্র ভারতীয় যিনি একই প্যারালিম্পিক্সে দুটো পদক জিতেছেন। ৫০ মিটার পিস্তল (এসএইচ ১) ইভেন্টে ব্রোঞ্জ জেতেন তিনি। ১৯ বছরেই এই কীর্তি গড়লেন অবনী।

হরবিন্দর সিংহ: তিরন্দাজিতে ব্রোঞ্জ জেতেন হরবিন্দর। কোরিয়ার কিম মিন সু-কে হারিয়ে দেন তিনি। পঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা করছেন হরবিন্দর। দেড় বছর বয়সে ডেঙ্গি হয়েছিল তাঁর। সেই সময় ভুল ইঞ্জেকশন দেন চিকিৎসক। তাতে হরবিন্দরের পা কাজ করা বন্ধ করে দেয়। সেই নিয়েই ব্রোঞ্জ জয় তাঁর।

মণীশ নারওয়াল: ভারতের তৃতীয় সোনা আসে তাঁর হাত ধরে। অকেজো ডান হাত। বাঁ হাত দিয়ে লড়েই সোনা জিতলেন ৫০ মিটার পিস্তল (এসএইচ ১) ইভেন্টে। মাত্র ১৯ বছর বয়সে এই কৃতিত্ব গড়লেন মণীশ।

সিংহরাজ আধানা: ৫০ মিটার পিস্তল (এসএইচ ১) ইভেন্টেই সিংহরাজ রুপো জেতেন। পোলিয়ো আক্রান্ত সিংহরাজ ১৮ তম শ্যুট অবধি শীর্ষে ছিলেন। পরের দু’টি শটে তাঁকে টপকে সোনা জিতে নেন মণীশ।

প্রমোদ ভগত: প্যারালিম্পিক্সে প্রথম বার ব্যাডমিন্টনকে যুক্ত করা হয়েছে। ছেলেদের ব্যক্তিগত ইভেন্টে এসএল ৩ বিভাগে সোনা জেতেন প্রমোদ। চার বছর বয়স থেকে পোলিয়ো আক্রান্ত তিনি। প্রতিবেশীদের খেলতে দেখে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন প্রমোদ। দেশের অন্যতম সেরা প্যারা ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় তিনি।

মনোজ সরকার: এসএল ৩ বিভাগে ব্রোঞ্জ জেতেন মনোজ। তিনি পোলিয়ো আক্রান্ত। পাঁচ বছর বয়স থেকে ব্যাডমিন্টন খেলেন মনোজ। ২০১১ সাল থেকে প্যারা বিভাগে লড়াই শুরু করেন তিনি। তার আগে পর্যন্ত সাধারণ খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধেই খেলতেন মনোজ।

সুহাস যথীরাজ: প্যারালিম্পিক্সের শেষ দিনেও ভারতকে খালি হাতে ফিরতে হল না। ব্যাডমিন্টনের এসএল ৪ বিভাগে রুপো জেতেন তিনি। আইএএস অফিসার সুহাস উত্তর প্রদেশের গৌতম বুদ্ধ নগরের জেলাশাসক। পোলিয়োতে ডান পা হারান তিনি। তাতে যদিও তাঁর আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরেনি।

কৃষ্ণ নগর: রাজস্থানের এই শাটলার তাঁর বিভাগে বিশ্বের দুই নম্বর তারকা। দুই বছর বয়সে তাঁর পরিবার বুঝতে পারেন অন্য শিশুদের তুলনায় কৃষ্ণের গঠনে কিছু সমস্যা রয়েছে। তাঁর শরীরের বৃদ্ধি বয়সের তুলনায় বেশ কম। সেই নিয়েই ব্যাডমিন্টনে সোনা জয় কৃষ্ণের।