Advertisement
E-Paper

দিদিই সবচেয়ে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বী

দিদির দেওয়াল টপকানোর পর সেরেনা উইলিয়ামস আর সাতাশ বছর বাদে মেয়েদের টেনিসে ক্যালেন্ডার গ্র্যান্ড স্ল্যামের মাঝে আর মাত্র দু’টো ম্যাচ! যুক্তরাষ্ট্র ওপেনের সেমিফাইনাল আর ফাইনাল। কিন্তু এখনই টেনিসদুনিয়া জুড়ে আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে, সেরেনাই কি সর্বকালের সেরা?

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০৩:৪৮

দিদির দেওয়াল টপকানোর পর সেরেনা উইলিয়ামস আর সাতাশ বছর বাদে মেয়েদের টেনিসে ক্যালেন্ডার গ্র্যান্ড স্ল্যামের মাঝে আর মাত্র দু’টো ম্যাচ! যুক্তরাষ্ট্র ওপেনের সেমিফাইনাল আর ফাইনাল।

কিন্তু এখনই টেনিসদুনিয়া জুড়ে আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে, সেরেনাই কি সর্বকালের সেরা?

ফ্লাশিং মেডোয় শনিবার (ভারতীয় সময় রবিবার ভোরে) উপর্যুপরি চতুর্থ বার চ্যাম্পিয়নশিপ ট্রফি তুলতে পারলে সেরেনা সাতাশ বছরের পুরনো ক্যালেন্ডার গ্র্যান্ড স্ল্যাম আর ২২তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম খেতাব যাঁর স্পর্শ করবেন সেই স্টেফি গ্রাফ এবং মেয়েদের টেনিসে সর্বকালের (ওপেন যুগের আগে-পরে মিলিয়ে) সর্বাধিক গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ী মার্গারেট কোর্ট (২৪)— দুই কিংবদন্তিকেই সেরার প্রশ্নে চ্যালেঞ্জে ফেলে দেবেন বলে টেনিসপণ্ডিতদের মত। এমনকী এখনই সেরেনা-জ্বর ক্রীড়ামহলে এতটাই প্রবল যে, একসঙ্গে তিন মহা ক্রীড়াবিদ হিসেবে নাম উচ্চারিত হচ্ছে— পেলে-ব্র্যাডম্যান-সেরেনা!

এবং ওই রকমই আলোড়নের প্রাবল্য ছিল গত রাতে আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে ‘অল উইলিয়ামস কোয়ার্টার ফাইনাল’ ম্যাচ ঘিরে। মার্কিন টেনিসের ইতিহাসে কিংবদন্তি উইলিয়ামস বোনেদের নিজেদের মধ্যে হাইভোল্টেজ লড়াই দেখতে উপচে পড়া গ্যালারিতে ছিলেন একঝাঁক মহাসেলিব্রিটিও— মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প, টিভি কিংবদন্তি ওপরা উইনফ্রে, হট হলিউডি মডেল ও নায়িকা কিম কার্ডাশিয়ান।

অদ্ভুত ভাবে দ্বিতীয় সেটে দিদির কাছে উড়ে গিয়েও তৃতীয় সেটে ম্যাচ বার করে নেওয়ার পর সেরেনার মন্তব্যটাও যেন তাৎপর্যপূর্ণ— ‘‘ভেনাসের জন্য এটা একটা বিশাল মুহূর্ত। ওহ! হ্যাঁ, আমার জন্যও তো’’ বলে তাঁর আরও সংযোজন, ‘‘খেলাটা দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়েছে। যে খেলায় দুই বোন একে অন্যকে একটা গ্রেট ম্যাচ খেলার স্বাদ দিতে প্রাণপণ চেষ্টা করেছে।’’

যদিও এই ধারণার সঙ্গে টেনিসমহলের কেউ কেউ সহমত নন। অতীব পুরনো একটা কথা তুলে তাঁরা বোঝাতে চেয়েছেন, ভেনাস-সেরেনার বাবা রিচার্ড উইলিয়ামস যেমন একটা সময় সার্কিটে ঠিক করে দিতেন, দুই বোনের নিজেদের মধ্যে লড়াইয়ের কে কোনটা জিতবেন, গত রাতে সেই রকমই কিছু ‘প্রীতিমূলক’ ব্যাপার ঘটেনি তো? দ্বিতীয় সেট কি দিদিকে ছেড়ে দিয়েছিলেন সেরেনা? নইলে যে মেয়ে প্রথম আর তৃতীয় সেট যথাক্রমে মাত্র দুটো আর তিনটে গেম খুইয়ে জিতেছেন, তিনিই কী ভাবে মাঝের সেটটা ১-৬ হারেন!

সেরেনা অবশ্য ৯৮ মিনিটে ৬-২, ১-৬, ৬-৩ ভেনাসকে হারিয়ে (ম্যাচ পয়েন্ট জেতেন তাঁর এ দিনের ১২ নম্বর ‘এস’-এ) শেষ চারে অবাছাই ইতালিয়ান রবার্তা ভিঞ্চিকে পাওয়ার পর সাংবাদিক সম্মেলনে ভেঙে পড়া ভিড়ের মধ্যে বলেন, ‘‘আমার গোটা কেরিয়ারে ভেনাস কঠিনতম প্রতিপক্ষ। এবং আমার দেখা সেরা মানুষ। দিদির বিরুদ্ধে খেলাটা আমার কাছে সেরা বন্ধুর বিরুদ্ধে লড়াই আর সেই লড়াইয়ের সময়টুকুই একমাত্র ওকে শুধু বন্ধু কেন, দিদিও না ভাবা!’’

এই ব্যাখ্যার সঙ্গেও টেনিসমহলের অনেকে একমত নন। তাঁদের পাল্টা ব্যাখ্যা— রক্তের সম্পর্ক বাদে ভেনাস-সেরেনা সম্পর্ক মোটেই সেরা বন্ধুত্বের পর্যায়ে পড়ে না। এবং যেটা তিন দশক ধরেই প্রবহমান। রিচার্ড উইলিয়ামস বরাবর তাঁর ছোট মেয়েকে বেশি প্রতিভাবান মনে করায় বড় মেয়ে চিরকালই মনে মনে বিরক্ত! গত রাতেও তেত্রিশের সেরেনার চেয়ে বছর দেড়েকের বড় দিদি ভেনাসের খেলা দেখে বিশেষজ্ঞদের কারও কারও মনে হয়েছে, বোনের বিরুদ্ধে তাঁর স্ট্র্যাটেজি যেন ছিল— ‘আমি জিততে পারলে ভাল, হেরে গেলেও ঠিক আছে!’’

তবে দিনের শেষে বিশ্বের এক নম্বরের বিরুদ্ধে তেইশ নম্বরের লড়াইয়ের প্রত্যাশিত রেজাল্টই হয়েছে বলে সাধারণ ভাবে টেনিসমহলের বিশ্বাস। সেরেনার দ্বিতীয় সেটে বিশ্রী হারকেও মনে করা হচ্ছে, এ বছর পেশাদার সার্কিটে তাঁর খেলার স্টাইলেরই ধারাবাহিকতা। ২০১৫-এ এখনও পর্যন্ত সেরেনা গ্র্যান্ড স্ল্যামে তিনে তিন করলেও গত রাত নিয়ে অন্তত এক ডজন ম্যাচ তৃতীয় সেটে বার করলেন প্রথম বা দ্বিতীয় সেট বিশ্রী হেরে যাওয়ার পর!

সোজা কথা, দিদির দেওয়াল টপকানোর ক্ষেত্রে যেমন কোনও অপ্রত্যাশিত ব্যাপার নেই সেরেনার, তেমনই স্কোরলাইনেও কোনও চমকের ব্যাপার নেই!

US Open Serena Williams Venus semi-final
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy