×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

১৮ জানুয়ারি ২০২১ ই-পেপার

খেলা

ডাক্তার মা খুঁজলেন ইঞ্জিনিয়ার পাত্রী, স্ত্রী শৈলজাকে ছাপিয়ে লক্ষ্মণের প্রথম প্রেম নাকি অন্যত্র

নিজস্ব প্রতিবেদন
২৪ নভেম্বর ২০২০ ১৪:৩৩
বাবা শান্তারাম এবং মা সত্যভামা দু’জনেই নামী চিকিৎসক। তিনি নিজেও ডাক্তারি পড়তে শুরু করেছিলেন। কিন্তু শেষ অবধি পা রাখেন বাইশ গজে। ভারত পায় ভিভিএস লক্ষ্মণের মতো ক্রিকেটার। প্রতিভাবান হয়েও যিনি রয়ে গিয়েছিলেন মেঘে ঢাকা তারা হয়ে।

তবে লক্ষ্মণের ক্রিকেটীয় কেরিয়ারের প্রাপ্তি, অপ্রাপ্তি প্রভাব ফেলেনি দাম্পত্য জীবনে। তাঁর সহযোদ্ধাদের অর্ধাঙ্গিনীদের মতো লক্ষ্মণের স্ত্রী শৈলজা খুব বেশি প্রচারমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে আসেননি। তাঁদের প্রেমপর্বও রয়ে গিয়েছে অপেক্ষাকৃত অনালোচিত আখ্যান হয়েই।
Advertisement
বিয়ের আগে লক্ষ্মণ-শৈলজা রঙিন প্রেমপর্ব বিশেষ নেই। ছেলের জন্য পাত্রী পছন্দ করেছিলেন লক্ষ্মণের মা। চিকিৎসক সত্যভামার মনে হয়েছিল সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্রী জি আর শৈলজাই তাঁর ছেলের যোগ্য সহধর্মিণী হবেন।

২০০৪ সালে শৈলজাকে বিয়ে করেন লক্ষ্মণ। তাঁদের মেয়ের নাম অচিন্ত্যা এবং ছেলের নাম তাঁরা রেখেছেন সর্বজিৎ। লক্ষ্মণ এবং শৈলজার সফল দাম্পত্য প্রমাণ করেছে, সত্যভামার অনুমান নির্ভুল ছিল। তাঁর ছেলের যোগ্য জীবনসঙ্গী হতে পেরেছেন শৈলজা। ক্রিকেট কেরিয়ারের নানা ওঠাপড়ায় তিনিই ছিলেন স্বামীর মানসিক শক্তির অন্যতম উৎস।
Advertisement
তবে লক্ষ্মণ যে ভবিষ্যতে ক্রিকেটার হবেন, সে বিষয় নিশ্চিত ছিল না তাঁর তারুণ্যেও। পড়াশোনার পাশাপাশি ক্রিকেট চলছিল অনেক দিন। কিন্তু শেষ অবধি ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন মুলতুবি রেখে লক্ষ্মণ চলে আসেন খেলার মাঠে।

১৯৯২-৯৩ মরশুমে রঞ্জি ট্রফি দিয়ে তাঁর ঘরোয়া ক্রিকেটে যাত্রা শুরু। প্রথম ইনিংসে শূন্য রান করেন। তার পরের সুযোগগুলোয় অবশ্য আর খালি হাতে ফিরে আসতে হয়নি তাঁকে। ঘরোয়া ক্রিকেটে দুরন্ত পারফরম্যান্স তাঁর জন্য জাতীয় দলের দরজা খুলে দেয় ১৯৯৬ সালে। সে বছর নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে তাঁর টেস্ট অভিষেক।

ওয়ান ডে ম্যাচে আত্মপ্রকাশ ২ বছর পরে। জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে। তবে ওয়ান ডে ম্যাচের তুলনায় তিনি অনেক বেশি সফল টেস্টে। টেস্টের বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যান হিসেবে ধরা হয় তাঁকে।

দীর্ঘ দেড় দশক পেরিয়ে যাওয়া কেরিয়ারে ১৩৪ টেস্টে তিনি সংগ্রহ করেছেন মোট ৮৭৮১ রান সর্বোচ্চ ২৮১, গড় ৪৫.৫। অন্য দিকে, ৮৬ টি ওয়ানডেতে তাঁর মোট রান ২৩৩৮। সর্বোচ্চ ১৩১, গড় ৩০.৭৬।

তাঁর কেরিয়ারের বড় অংশ জুড়ে আছে ইডেন গার্ডেন্স। কলকাতার সঙ্গে লক্ষ্মণের মধুচন্দ্রিমার পর্ব অফুরান। তাঁর কব্জির জাদুতে এই মাঠে তিনি ১০ টি টেস্ট শতরান করেছেন। সেগুলির মধ্যে সেরার সেরা হল ২০০১ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে তাঁর শতরান।

৩ টেস্টের সিরিজের প্রথম ম্যাচে মুম্বইয়ে ১০ উইকেটে জয়ী হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। দ্বিতীয় টেস্টে ছিল ইডেনে। প্রথম ইনিংসে ২৭৪ রান পিছিয়ে থেকে ফলো অন করেছিল ভারত। ম্যাচের চতুর্থ দিনে ইতিহাস লিখেছিলেন লক্ষ্মণ এবং দ্রাবিড়। তাঁদের দুর্ভেদ্য প্রাচীর ভেদ করে সে দিন ভারতের একটা উইকেটও ফেলতে পারেনি স্টিভ ওয়ার বাহিনী।

লক্ষ্মণ-দ্রাবিড় জুটির ৩৭৬ রানের সুবাদে ফলো অন করা সেই টেস্ট ভারত জিতেছিল ১৭১ রানে। এই ম্যাচেই কেরিয়ারের সর্বোচ্চ ২৮১ রান করেন লক্ষ্মণ। টেস্টে ভারতীয় ক্রিকেটারের সর্বোচ্চ স্কোরের দিক থেকে তিনি ভেঙে দেন সুনীল গাওস্করের রেকর্ড। ৩ বছর পরে এই রেকর্ড ভেঙেছিলেন বীরেন্দ্র সহবাগ। দেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে এই সিরিজ শেষ অবধি ২-১ জিতে নেয় সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের ভারত।

২০১২ সালের ১৮ অগস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেন লক্ষ্মণ। বর্তমানে সচিন তেন্ডুলকর এবং সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের পাশাপাশি লক্ষ্মণও বিসিসিআই-এর ক্রিকেট উপদেষ্টা কমিটির সদস্য। পাশাপাশি তিনি সফল ধারাভাষ্যকারও।

বর্ণময় কেরিয়ার হওয়া সত্ত্বেও লক্ষ্মণ হলেন মুষ্টিমেয় ক্রিকেটারদের মধ্যে একজন, যিনি কোনও দিন বিশ্বকাপে খেলেননি। তাঁর সেরা সময় তেন্ডুলকর-দ্রাবিড়-সৌরভেরও কেরিয়ারের স্বর্ণযুগ। ক্রিকেটপ্রেমীদের মতে, তাঁদের খ্যাতির আলোয় ম্লান হয়ে গিয়েছিল লক্ষ্মণের সাফল্য। আইপিএল-এ তিনি খেলেছেন ডেকান চার্জার্স এবং কোচি টাস্কার্স কেরলের হয়ে।

তবে কেরিয়ারের প্রাপ্তি, অপ্রাপ্তি নিয়ে কোনও দিন ভেঙে পড়েননি পারিবারিক দিক দিয়ে ভারতের দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি প্রয়াত সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণের উত্তরসূরি ভাঙ্গিপুরাপু ভেঙ্কট সাই লক্ষ্মণ। ক্রিকেট খেলে গিয়েছেন ভালবেসে। ‘মাস্টার ব্লাস্টার’ বা ‘ওয়াল’-এর মতো কোনও বিশেষণ তাঁর নামের পাশে বসেনি। সে সব নিয়ে কোনও দিন ভাবিতও ছিলেন না এই হায়রাবাদি।

বরাবরই ভালবাসেন প্রচারের আলো থেকে দূরে থাকতে। অবসরের পরে পারিবারিক পরিসরে জীবন উপভোগ করছেন। সাফল্যের কৃতিত্ব দিতে লক্ষ্মণ চান স্ত্রী শৈলজাকেই। তবে শৈলজার দাবি, তিনি নন। তাঁর স্বামীর প্রথম প্রেম সবসময়ই ক্রিকেট।