Advertisement
E-Paper

মিশন মস্কো: ২০১৮ বিশ্বকাপের গাইড, ‘এফ’ গ্রুপে নজরে গত বারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানি

গত বারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানির বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন নিয়ে কখনওই কোনও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়নি। ইউরোপের গ্রুপ ‘সি’ থেকে ওয়াকিম লোর দল সব ম্যাচ জিতেই রাশিয়ার টিকিট অর্জন করেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ২৯ মে ২০১৮ ০৪:৪৩
মরিয়া: চোট সারিয়ে মাঠে ফেরার লড়াই নয়্যারের। বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শিবিরে জার্মান গোলরক্ষক। ছবি: এএফপি

মরিয়া: চোট সারিয়ে মাঠে ফেরার লড়াই নয়্যারের। বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শিবিরে জার্মান গোলরক্ষক। ছবি: এএফপি

গ্রুপ এফ

• সেরা আকর্ষণ: জার্মানি

• ফিফা র‌্যাঙ্কিং: ১

• ডাকনাম: ডি মানশাফ্‌ট

বিশ্বকাপ ইতিহাস


• প্রথম পর্বে : ১৮ বার

• সেমিফাইনালে : ১৩ বার

• ফাইনালে : ৮ বার

• চ্যাম্পিয়ন : ৪ বার (১৯৫৪, ১৯৭৪, ১৯৯০, ২০১৪)

কী ভাবে রাশিয়ায়

গত বারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানির বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন নিয়ে কখনওই কোনও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়নি। ইউরোপের গ্রুপ ‘সি’ থেকে ওয়াকিম লোর দল সব ম্যাচ জিতেই রাশিয়ার টিকিট অর্জন করেছে। উত্তর আয়ারল্যান্ড, চেক প্রজাতন্ত্র, নরওয়ে, আজেরবাইজান এবং সান মারিনো— প্রত্যেকটা দলকে তারা হোম এবং অ্যাওয়ে প্রত্যেক ম্যাচেই হারিয়েছে। সব মিলিয়ে যোগ্যতা অর্জন পর্বে জার্মানি করেছে ৪৩ গোল, খেয়েছে মাত্র ৪টি। ইউরোপের সমস্ত গ্রুপ মিলিয়ে তারা এবং বেলজিয়ামই সব চেয়ে বেশি গোল করেছে।

কোচ: ওয়াকিম লো

এক সময়ে য়ুর্গেন ক্লিন্সমানের সহকারী ছিলেন। ২০০৬ থেকে জার্মানির প্রধান কোচ লো। এক দশকের উপর দায়িত্বে থাকাকালীন দারুণ সাফল্য পেয়েছেন তিনি। ব্রাজিলে গত বিশ্বকাপ জেতার পাশাপাশি গত বছর তরুণ দল নিয়ে জিতেছেন কনফেডারেশনস কাপ। সেই প্রতিযোগিতা থেকে লিয়ন গোরেৎজকার মতো প্রতিভা উঠে এসেছেন। ক্লিন্সমান এবং লো পাল্টে দিয়েছেন জার্মান ফুটবলকে। আড়াআড়ি পাস খেলে অভ্যস্ত জার্মানদের তাঁরাই শিখিয়েছেন সামনে পাস খেলে কী ভাবে দ্রতগতিতে এগিয়ে যেতে হয় প্রতিপক্ষ দুর্গে। জার্মান ফুটবলেও এখন পাসিং শিল্পের ছোঁয়া। ফুটবলের পাশাপাশি পর্বত আরোহণেও দক্ষ। তানজানিয়ার মাউন্ট কিলিমাঞ্জারোতে উঠেছিলেন। যার উচ্চতা ১৯,৩৪০ ফুট। শৃঙ্গ জয় করা কোচ রাশিয়াতেও নিশ্চয়ই চূড়োয় উঠতে চাইবেন।

শক্তি

জার্মানি এক জন তারকায় বিশ্বাস করে না। দলই তাদের তারকা। দুর্দান্ত টিম স্পিরিট বড় ইভেন্টে তাদের সেরা অস্ত্র। লোর মন্ত্রই হচ্ছে, দারুণ একটা গ্রুপ তৈরি করো। সেটা এক জন মহাতারকার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। পরিসংখ্যান এবং তথ্য সরবরাহের জন্য সব চেয়ে অত্যাধুনিক ডাটা সিস্টেম ব্যবহার করে জার্মানি। তাই লোর হাতে প্রতিপক্ষ সম্পর্কে প্রত্যেকটি খুঁটিনাটি তথ্য থাকবে বলে ধরে নেওয়া যায়। রণনীতি তৈরির ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নিতে পারে এই ডাটা সিস্টেম। এ ছাড়া সেট পিসেও দারুণ শক্তিশালী লোর জার্মানি। চার বছর আগে ব্রাজিলে গত বিশ্বকাপে সেট পিসে সব চেয়ে বেশি গোল করেছিল তারাই— পাঁচটি।

দুর্বলতা

দক্ষতার দিক দিয়ে কারও থেকে পিছিয়ে আছে বলে মনে হয় না। কিন্তু উদ্বেগ রয়েছে ম্যানুয়েল নয়্যারকে নিয়ে। পায়ের পাতায় চোট পাওয়ার পরে গত সেপ্টেম্বর থেকে কোনও ম্যাচ খেলেননি জার্মানির গোলকিপার এবং অধিনায়ক। তিনি নিজে আশা করছেন, রাশিয়ার জন্য সময় মতো সুস্থ হয়ে উঠবেন। কিন্তু অনেক দিন ম্যাচের বাইরে থাকা আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরাতে পারে। ২০১৪-তে ব্রাজিলে যিনি গোলকিপিংয়ের সংজ্ঞাই পাল্টে দিয়েছিলেন, সেই নয়্যার স্বমেজাজে না থাকলে জার্মানির কাছে বিরাট চিন্তার কারণ।

লক্ষ্য: এ বারও ট্রফি চান লো। ছবি: রয়টার্স

গ্রুপের অন্যরা

• মেক্সিকো: ফিফা র‌্যাঙ্কিং ১৫। শেষ ছ’টি বিশ্বকাপেই তারা খেলেছে। প্রত্যেক বারই শেষ ১৬ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে। রাশিয়ায় যদি কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে পারে মেক্সিকো, তা হলেই বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হবে। শুধুমাত্র দু’বারই সেটা তারা করতে পেরেছে। ১৯৭০ এবং ১৯৮৬-তে। যোগ্যতা অর্জন পর্বে ভাল খেলেছে মেক্সিকো। তিন ম্যাচ আগে থাকতে কোস্তা রিকা এবং পানামার চেয়ে এগিয়ে থেকে রাশিয়ার টিকিট অর্জন করেছে। মেক্সিকোর প্রধান তারকা হাভিয়ের হার্নান্দেজ। সঙ্গে থাকবেন হেসুস কোরোনো এবং ইয়েরভিং লোসানো। কোচ খুয়ান কার্লোস ওসোরিয়ো দ্রুতগতিতে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলাতে ভালবাসেন।

• সুইডেন: ফিফা র‌্যাঙ্কিং ২৩। ইতালিকে প্লে-অফে হারিয়ে বুফনদের ছিটকে দিয়ে রাশিয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে সুইডেন। ২০০৬-এর পরে এই প্রথম তারা বিশ্বকাপে খেলার ছাড়পত্র পেল। তবে সুইডেন মানেই যে জ্লাটান ইব্রাহিমোভিচ। এ বারে দেশের সব চেয়ে বড় তারকা নেই। ইব্রার জায়গায় আক্রমণ ভাগের নেতৃত্ব দিতে এসেছেন এমিল ফশবার। কোচ ইয়ান্নে আন্দেরসন দায়িত্ব নিয়েছেন ২০১৬ ইউরোর পর থেকে। নতুন সুইডেন গড়ার চেষ্টা করছেন তিনি।

দক্ষিণ কোরিয়া: রাশিয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে গিয়ে কষ্ট করতে হয়েছে। শেষ দিনে উজবেকিস্তানের সঙ্গে ০-০ ড্র করেও তাকিয়ে থাকতে হয়েছিল অন্য ম্যাচের দিকে। টটেনহ্যামের সন হিউং-মিন, সোয়ানসির কি সং-ইয়ুং এবং ক্রিস্টাল প্যালেসের ই ছং-ইয়ং— প্রধান ভরসা দক্ষিণ কোরিয়ার।

পূর্বাভাস

গ্রুপ সেরা হওয়া উচিত জার্মানির। নক-আউটের দৌড়ে দ্বিতীয় হওয়ার লড়াই মেক্সিকো এবং সুইডেনের মধ্যে।

তারকা: টোনি খোস

বেশ কয়েক বছর ধরেই জার্মানির এই দলটার সাফল্যের নেপথ্যের নায়ক টোনি খোস। সদ্য যিনি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতলেন রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে। এর আগে বায়ার্ন মিউনিখের বছরগুলো ধরলে টানা সাত বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে খেলেছেন খোস। জার্মানি দলে বল সরবরাহের উৎস তিনিই। মাঝমাঠের জেনারেল তিনি। ঠিকানা লেখা পাস বাড়াতে পারেন। সেই সঙ্গে প্রতিপক্ষের অর্ধে নিঃশব্দে বিপজ্জনক জায়গা নিয়ে নেওয়ার ব্যাপারেও দারুণ দক্ষ। রাশিয়ায় টোনি খোসকে ধরতে না পারলে জার্মানিকে ধরা যাবে না।

FIFA World Cup 2018 Football Germany Joachim Löw Manuel Neuer
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy