Advertisement
E-Paper

অশ্বিন-জুজুতে জাঁকিয়ে বসল না এবিডি মায়াজাল

তীব্র পছন্দ করুন বা অপছন্দ। এটা মানতেই হবে বিরাট কোহলি-রবি শাস্ত্রী জুড়ির অনবরত ফাটকা খেলার মতো বুকের পাটা আছে। ভারতে মাঝ নভেম্বরে টস জিতে ইন্ডিয়ান ক্যাপ্টেন ফিল্ড করছে, ভাবাই যায় না। আজ পর্যন্ত এ দেশে খেলা আড়াইশোর কাছাকাছি টেস্টে মাত্র ৮ শতাংশ ক্ষেত্রে ক্যাপ্টেন টস জিতে ফিল্ডিং নিয়েছে।

গৌতম ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: ১৫ নভেম্বর ২০১৫ ০২:৪৫
ঋদ্ধির সেই অবিশ্বাস্য ক্যাচ।

ঋদ্ধির সেই অবিশ্বাস্য ক্যাচ।

তীব্র পছন্দ করুন বা অপছন্দ। এটা মানতেই হবে বিরাট কোহলি-রবি শাস্ত্রী জুড়ির অনবরত ফাটকা খেলার মতো বুকের পাটা আছে।

ভারতে মাঝ নভেম্বরে টস জিতে ইন্ডিয়ান ক্যাপ্টেন ফিল্ড করছে, ভাবাই যায় না। আজ পর্যন্ত এ দেশে খেলা আড়াইশোর কাছাকাছি টেস্টে মাত্র ৮ শতাংশ ক্ষেত্রে ক্যাপ্টেন টস জিতে ফিল্ডিং নিয়েছে। তা-ও সেটা ৮ পার্সেন্টে পৌঁছেছে বিদেশি অধিনায়কের জন্য। কোনও ভারত অধিনায়ক চট করে চতুর্থ ইনিংসে বিপক্ষকে পাঠানোর সুযোগ ছেড়ে দেবে কেন? তা-ও যেখানে বিদেশি অতিথিরা স্পিনের অত্যাচারে ত্রস্ত হয়ে রয়েছে!

ইশান্ত শর্মার প্রথম ভারতীয় পেসার হিসেবে পনিটেল নিয়ে বল করার চেয়েও চমকপ্রদ টিম লিস্ট যেটা টসে আদানপ্রদান হল। তিন স্পিনারের এত সফল মডেল নিজেরাই ভেঙে ভারত খেলাল বাড়তি মিডিয়াম পেসার। অথচ কোহলির ইন্ডিয়া যে কলম্বো থেকে মোহালি— টেস্ট ম্যাচে জয়ের হ্যাটট্রিক করে বসে রয়েছে, তার পেছনে তিন স্পিনার কম্বিনেশন। সিরিজে ১-০ এগিয়ে থাকা অবস্থায় সেই নিরাপদ মডেল না আঁকড়ে যে ভারত অনিশ্চিত ঝুঁকির রাজ্যে ঢুকল, তা থেকেই পরিষ্কার এই টিম ম্যানেজমেন্টের কলিজা আছে। স্বেচ্ছায় এত বড় ক্রিকেট-ক্যাসিনোয় নেমে যদি হারতে হয়, সচিন বনাম ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ যুদ্ধে হতমান বিমান সংস্থার অবস্থা হবে!


অশ্বিন-অস্ত্রে বিরাট জোশ।

কে জানত বিশ্বের এক নম্বর টেস্ট টিম রবিচন্দ্রন অশ্বিন নামক জনৈক ভারতীয় নাগরিক সম্পর্কে এমন ভঙ্গুর হয়ে রয়েছে। বহু বহু বছর আগে সিএবির সেই দেবদারু গাছের ছায়ায় ঢাকা পুরনো প্যাভিলিয়নের সামনে দাঁড়িয়ে বাংলার প্রাক্তন ওপেনার পঙ্কজ রায়কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, কী ভাবে খেলব সুভাষ গুপ্তেকে? দেব মুখোপাধ্যায়কে একটা সোনার পরামর্শ দেন পঙ্কজ। ‘‘গুপ্তেকে খেলবেই না। যে বলটা আসবে, সেটা মন দিয়ে খেলবে।’’ সারসংক্ষেপ, বোলারের খ্যাতিকে খেলতে যেও না। তার হাত থেকে যে বলটা বেরোচ্ছে, সেটাকে খেলো!

তা আমলার দেশের ব্যাটিং আমলারা আপাতত অশ্বিন নিয়ে এমন ঘেঁটে রয়েছেন যে, বল না বিচার করে তাঁর খ্যাতিকে খেলছেন। রাসেল ডমিঙ্গো প্রোটিয়া টিমের কোচ। খুব অমায়িক মানুষ। মাত্র ষাট ওভারের মধ্যে তাঁর টিম অল আউট হয়ে যাওয়ায় গভীর অখুশি। কিন্তু উত্তেজক কিছু বললেন না। ওই কোচের নাম বিষেণ দিয়ে শুরু হলে আজ রক্ষে ছিল না। অবধারিত গোটা ব্যাটিং লাইন আপকে কাব্বন পার্কে চক্কর দিতে হত।

এমন বিপর্যয়ের মধ্যেও অশ্বিনের জন্য একটা স্ক্রিপ্ট তৈরি করে যে দক্ষিণ আফ্রিকা এসেছিল, বেশ বোঝা গেল। অশ্বিন খেলার পর বলছিলেন, তিনিও সেটা বুঝেছেন।


ছেলের শততম টেস্ট দেখছেন এবির বাবা-মা। শনিবার।

ফর্মুলাটা ছিল, ক্রিজে দাঁড়িয়ে ওকে খেলো না। যত পারো এগিয়ে গিয়ে লেংথ নষ্ট করো। আর পারলেই সুইপ করো।

কিন্তু এই মডেল মোহালি উইকেট জাতীয় সমচরিত্রের পিচের স্ক্রিপ্ট। আজকের মতো খানিকটা স্যাঁতস্যাঁতে থাকা চিন্নাস্বামীতে সেই স্ক্রিপ্ট আঁকড়ানোর কোনও প্রয়োজনই ছিল না। ভারতীয় ওপেনাররা যেমন ইমরান তাহিরকে দেখে দেখে স্বচ্ছন্দে ব্যাকফুটে খেললেন, সেটা করা যেত। কিন্তু হল না।

আসলে জুজু এক বার ধরে গেলে মাথাটা জট পাকিয়ে যায়। হঠাৎ করে বদলানো পরিস্থিতির সহজ সমাধানও তখন সে খুঁজে পায় না। এখানে দু’প্লেসি থেকে দুমিনির মতো স্পিন খেলার ওস্তাদরাও তাই শিক্ষানবিশি ভুল করে গেলেন। ‘রাজকাহিনি’র ডায়লগ ‘বেলাশেষে’তে বললে যা ঘটা অনিবার্য, সেটাই এর পর ক্রমাগত ঘটে চলল। এই উইকেটে বিশ্বসেরা টিমের ২১৪ করার একমাত্র ব্যাখ্যা— অশ্বিন বিভীষিকা!

একই সঙ্গে বলা উচিত, বিভীষিকা সমাধানে যোগ্য ওঝাও হাজির করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। আর তাই সকাল আটটা থেকে যাঁরা চিন্নাস্বামীর বাইরে টেস্ট ক্রিকেট দেখার জন্য লাইন দিয়েছিলেন, তাঁরা অসাধারণ একটা অসিযুদ্ধ দেখে ফিরলেন। বিশ্বসেরা ব্যাটসম্যান বনাম এই গ্রহের এক নম্বর স্পিনার! টেকনিক্যালি এক জনের পরিচয় ডে’ভিলিয়ার্স। অন্য জন অশ্বিন।

লাঞ্চে দেখা হয়ে গেল বিখ্যাত ইতিহাসবিদ এবং ক্রিকেটলিখিয়ে রামচন্দ্র গুহর সঙ্গে। কিছুক্ষণ আগে পেসারের স্বপ্নের ডেলিভারিতে বরুণ অ্যারন বোল্ড করেছেন বিপক্ষ অধিনায়ককে। আমলা সামান্য এগিয়েছিলেন। ব্যাট সামনে ঝোঁকানো অবস্থায় বল এতটা ডিপ করে অফস্টাম্পের মাথায় লাগবে, ভাবতেই পারেননি। তখন অবধি মনে করা হচ্ছে এটাই সম্ভবত বেঙ্গালুরু টেস্টের নির্ণায়ক ডেলিভারি। রাম গুহকে ঘিরে ছোট জটলার মধ্যে সবাই ওই ডেলিভারিটা নিয়েই আচ্ছন্ন।

তখনও কেউ ভাবেনি ওটা ছিল নেহাত প্রোমো। আসল ছবি এ বার শুরু হতে যাচ্ছে! তার কিছু আগেই মাঠ ভর্তি ‘এবিডি এবিডি’ চিৎকারের মধ্যে ডে’ভিলিয়ার্স নেমে পড়েছেন তাঁর শততম টেস্টে। নামামাত্র তাঁর ফ্র্যাঞ্চাইজির অধিনায়ক কোহলি দৌড়ে হাত মিলিয়ে গেলেন। দেখে অবাক লাগছিল, এটা কি আরসিবি ওয়ান ভার্সাস আরসিবি টু খেলা নাকি? এক জন বিদেশি ক্রিকেটার নিয়ে এই পরিমাণ আবেগ কী করে তৈরি হতে পারে যে, সে আউট হলে মাঠে লোক কমা শুরু হয়ে যাবে? ইন্ডিয়া ব্যাট করবে অনেক কম দর্শকের মাঝে? এক-এক সময় মনে হচ্ছিল আধুনিক বেঙ্গালুরু-বাসীর শহরের প্রতি আনুগত্য কি দেশকে চ্যালেঞ্জ করার মতো অবস্থায় এসে গিয়েছে? না কি এটাই বিশ্বজনীন ট্রেন্ড?

এবিডি অবশ্য আকুল চিৎকারকে সম্মানিত করার মতোই ব্যাট করলেন। অনবদ্য তাঁর ব্যাটিং ব্যাকরণ। যা সাবেকি এমসিসি ম্যানুয়্যালকে দস্যু মোহন জাতীয় গ্রামীণ গোয়েন্দা কাহিনিতে নামিয়ে আনে। এবিডি আধুনিক সময়ের ৩৬০ ডিগ্রি ক্রিকেটার। ব্যাটিং ক্রিজের ব্যবহার অসম্ভব ভাল। ওঁর স্টাইলটা হল অনবরত ক্রিজে মুভমেন্ট করতে করতে বোলারের মনে একটা মায়াজাল তৈরি করে দিতে পারা। সে কোন লাইনে তা হলে বল করবে? ছুটন্ত ব্যাটসম্যানের কাছে, না কি স্টাম্পে? বেশির ভাগই ব্যাটসম্যানকে তাক করে আর তখনই এবিডি ফাঁদে তাকে পুরো জড়িয়ে দেন।

আধুনিক ক্রিকেট কোচিং ক্যাম্পগুলোয় ভিডিও করে দেখানো উচিত তাঁর টেকনিক। যথাসম্ভব নিচু থাকেন। সেন্টার অব গ্র্যাভিটি খুব ভাল বলে ব্যালান্সচ্যুত হন কদাপি। আর বক্সারদের মতো শরীরের ওপরটা ভারী। পায়ের দিকটা হালকা। পায়ের ব্যবহার এত ভাল যে, স্কোরিং রেঞ্জ হিসেবে গোটা মাঠ দেখতে পান। ব্যাটিং গ্রিপেও তিনি বিপ্লব এনেছেন। মঞ্চে যেমন অ্যামেচার অভিনেতার সমস্যা হয় হাত দুটো নিয়ে সে কী করবে, তেমনই ডান হাতি ব্যাটসম্যানের কমন সমস্যা ডান হাতের সব ক’টা আঙুল কী করে ব্যাটের হ্যান্ডেলে চাপ দেওয়ার মতো জায়গা পাবে? এবিডি ক্রিকেট দর্শন হল, ডান হাতটাই পাওয়ার হ্যান্ড। তা বলে সব ক’টা আঙুল শটে না দিলেও চলবে। যেগুলো দিলে ম্যাক্সিমাম জোর পাচ্ছ, শুধু সেগুলোই দাও। শনিবার টিমের বিপন্নতার মাঝে যে ভাবে তিনি নিজস্ব অ্যাডভেঞ্চার শুরু করে দিলেন তাতে মনে হচ্ছিল আধুনিক সময়ের ভিভ রিচার্ডস যে তিনি, তা আর তর্কযোগ্য নয়। তর্কাতীত।

আজকের রাজসিক মেজাজে ১০৫ বলে ৮৫ রানে এবিডি শো থেমে যাওয়ার কথা নয়। একটা তীব্র নাটকীয় বা চিত্তাকর্ষক কিছু ঘটতে হত। আর সেটাই দৃশ্যমান হল যখন আপামর শিলিগুড়ির প্রিয় পাপালি কিপারের জায়গা থেকে দৌড়তে দৌড়তে ফরোয়ার্ড শর্ট লেগে গিয়ে ঝাঁপালেন। আজ অ্যাডাম গিলক্রিস্টের জন্মদিন আর খেলা কিরমানির ঘরের মাঠে। তা বিভিন্ন আমলের দুই বিশ্বসেরা কিপারই গর্বিত হতেন আজকের ঋদ্ধিমানের মতো ক্যাচ ধরতে পারলে। এর আগে বরুণ অ্যারনের তীব্র গতির প্রায় ওয়াইড ডাকার মতো ডেলিভারি লেগ সাইডে ঝাঁপিয়ে নিশ্চিত চার বাঁচিয়েছেন ঋদ্ধি। কিন্তু ডে’ভিলিয়ার্সের ক্যাচটা অবিশ্বাস্য। পি সেনের ব্র্যাডম্যানকে স্টাম্প করা যেমন আজও বঙ্গজ ক্রিকেটমহলের অহঙ্কারের বস্তু, এটাও তাই। বাংলা ক্রিকেটের হল অব ফেমে তোলা থাকল।

টিভি রিপ্লেয় প্রথমে মনে হয়েছিল বল মাটিতে বাউন্স করে ঋদ্ধির গ্লাভসে ঢুকেছে। অন্য অ্যাঙ্গল থেকে বারবার রিপ্লে দেখায়, বল বাউন্স করেছে ঋদ্ধিরই গ্লাভসে। ঘাসে পড়ে হাতে যায়নি।

খেলার শেষ দিকে মুরলী বিজয়ের ক্যাচ স্কোয়ার লেগে ছাড়লেন ইমরান তাহির। তখন যেন আবার মনে পড়ল ভারতের ফিল্ডিং আজ কেমন দুর্ভেদ্য ছিল। স্টুয়ার্ট বিনি আউটফিল্ডে একটা ক্যাচ ধরলেন অন্তত পনেরো গজ পেছনে দৌড়ে। লর্ডসে কপিলের নেওয়া সেই ভিভের কিংবদন্তি ক্যাচের মতো। দ্রুত এক রাজনৈতিক নেতার আনঅফিশিয়াল অ্যাকাউন্ট থেকে টুইট এল, ‘স্টুয়ার্ট, তোমার জীবনে দুটো ক্যাচ। ময়ন্তী ল্যাঙ্গার আর আজকেরটা।’ আর অজিঙ্ক রাহানে স্লিপে দুমিনির যে ক্যাচ নিলেন সেটাও রীতিমতো শক্ত। বিকেলে খেলা দেখতে আসা ভারতীয় যুব কোচ দেখলেন প্রথম স্লিপে থাকা তাঁর সঙ্গে যেমন হরভজনের জুড়ি তৈরি ছিল। ৫৩ ক্যাচ তিনি ভাজ্জির বলে নিয়েছেন তেমনই তাঁর ভাবশিষ্য রাহানে নতুন কম্বিনেশন তৈরি করেছেন অশ্বিনের সঙ্গে। কুড়ির বেশি উইকেট ইতিমধ্যে জুড়ির কবলে। তবে কে বলতে পারে, স্লিপ ফিল্ডিংয়ে অজিঙ্ককে উৎসাহিত করার পেছনে তাঁর, রাহুল দ্রাবিড়ের মস্তিষ্কই কাজ করেছে কি না?

ভারতীয় ক্লোজ ইনে শুয়ে পড়ে ক্যাচ-ট্যাচ ধরা হলে অধুনা নতুন বিপত্তি। দূর থেকে অভ্রান্ত ভাবে বোঝা যায় না কে? টিমের আট জনেরই যে দাড়ি। দাড়িহীন একমাত্র অশ্বিন, ঋদ্ধি আর বিনি।

দক্ষিণ আফ্রিকার সন্ত্রস্ত অবস্থা অবশ্য দুশো গজ থেকেও চিনে নেওয়ার সমস্যা নেই। চেন্নাই উপকূলের ঘূর্ণিঝড় যদি হাওয়া অফিসের গণনা অনুযায়ী এসে দেড় দিন নষ্টও করে, চিন্নাস্বামী টেস্ট তবু ভারতের বার করা উচিত।

যদি না অতিথিরা অশ্বিন রোগ সারাতে কোনও ব্যাটিং মনোবিদের খোঁজটোজ পায়!

দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম ইনিংস

ফান জিল এলবিডব্লিউ অশ্বিন ১০

এলগার বো জাডেজা ৩৮

দু’প্লেসি ক পূজারা বো অশ্বিন ০

আমলা বো অ্যারন ৭, ডে’ভিলিয়ার্স ক ঋদ্ধিমান বো জাডেজা ৮৫

দুমিনি ক রাহানে বো অশ্বিন ১৫, ভিলাস ক ও বো জাডেজা ১৫

অ্যাবট রান আউট ১৪

রাবাদা ক পূজারা বো জাডেজা ০
মর্কেল ক বিনি বো অশ্বিন ২২

তাহির ন.আ. ৮

অতিরিক্ত ৮

মোট ২১৪

পতন: ১৫, ১৫, ৪৫, ৭৮, ১২০, ১৫৯, ১৭৭, ১৭৭, ২১৪।

বোলিং: ইশান্ত ১৩-৩-৪০-০, বিনি ৩-২-১-০, অশ্বিন ১৮-২-৭০-৪, অ্যারন ৯-০-৫১-১, জাডেজা ১৬-২-৫০-৪।

ভারত প্রথম ইনিংস

বিজয় ব্যাটিং ২৮

ধবন ব্যাটিং ৪৫

অতিরিক্ত ৭

মোট ৮০-০

বোলিং: মর্কেল ৭-১-২৩-০, অ্যাবট ৬-১-১৮-০, রাবাদা ৫-১-১৭-০, দুমিনি ২-০-৯-০, তাহির ২-০-৯-০।

ছবি: পিটিআই, গৌতম ভট্টাচার্য

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy