কলকাতা লিগের ময়দান-পর্ব শেষ হল অতিপরিচিত ময়দানি মেজাজে!
কলকাতা লিগ বারাসত লিগ হওয়ার মাত্র চব্বিশ ঘণ্টা আগে মহমেডান মাঠ দেখল বৃষ্টিবিঘ্নিত পরিত্যক্ত ম্যাচ। রাগী গ্যালারি। লাল কার্ড। প্রতিপক্ষ এরিয়ানের মগজাস্ত্র রঘু নন্দীকে মহমেডান সমর্থকদের ধাক্কা। মাঠে ইট-বোতল বৃষ্টি। দিনের আলো কতটা কম তা নিয়ে রেফারির চরম দ্বিধা। এবং ঘটনার ঘনঘটার আগে মহমেডানের করিমের ফ্রিকিক গোল। যদিও দিনের শেষে সেটা মূল্যহীন হয়ে গেল।
বৃষ্টি আর মন্দ আলোয় মহমেডান-এরিয়ান ম্যাচ ৬৫ মিনিট হতে পেরেছে। তবে নাটক চলে নব্বই মিনিটেরও বেশি। আর তাতে কেন্দ্রীয় চরিত্র ফের রঘু নন্দী। গত মরসুমে ইস্টবেঙ্গল-এরিয়ান ম্যাচে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে রঘুর চশমা ভেঙেছিল। এ দিন তিনি পড়লেন মহমেডান সমর্থকদের ক্ষোভের মুখে। এরিয়ানের কোচ রঘুর ছেলে রাজদীপ নন্দী। এ দিন ছেলের সঙ্গে এরিয়ান বেঞ্চে না বসে মহমেডান গ্যালারিতে গিয়ে বসেছিলেন রঘু। এবং এমন অদ্ভুত সিদ্ধান্তের কারণ দেখালেন, ‘‘বেঞ্চে টিমের কোচই থাকুক চেয়েছিলাম। আমি এরিয়ান টিডি। কিন্তু আজ এসেছিলাম দর্শক হিসেবে ম্যাচটা দেখতে।
প্রথমার্ধে তখন ১-০ জিতছে মহমেডান। কিন্তু সমর্থকদের খুশির আমেজেও টেনশনের চোরাস্রোত হয়ে দাঁড়ায় আবহাওয়া। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে হঠাত্ই মুষলধারে বৃষ্টি। ফলে ম্যাচ ২৬ মিনিট বন্ধ। যার আরও একটা কারণ, এরিয়ান ফুটবলারদের না খেলতে চেয়ে প্রতিবাদ। এই সময় মাঠের জমা জল বার করতে অভিনব ভাবে কোদাল দিয়ে মাটি খুঁড়ে নালা তৈরি করতে থাকেন মহমেডান সমর্থকরা। গ্যালারি ঠাসা দশ হাজার সমর্থক এতটাই মরিয়া ছিলেন প্রিয় দলকে নিজেদের মাঠে এই মরসুমে শেষ বারের মতো খেলতে দেখতে।
দ্বিতীয়ার্ধে আবার লাল কার্ড দেখেন এরিয়ানের বিদেশি কাজিম। ৬২ মিনিটে ফের বৃষ্টির জন্য খেলা থামান রেফারি সুব্রত বর্মন। শেষমেশ লাইন্সম্যানের সঙ্গে কথা বলে খারাপ আলোর জন্য ম্যাচ পরিত্যক্ত করেন। যদিও ওই সময় দিনের আলো সত্যিই ফুটবল খেলার অনুপযুক্ত ছিল কি না সেই প্রশ্ন উঠতেই পারে।
ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ার পরেই তিন পয়েন্ট জলে যাওয়ার মহমেডান সমর্থকরা পুরোপুরি উগড়ে দেন রঘুর উপর। জনা দশেক মিলে রঘুকে ধাক্কা মারেন। সঙ্গে অকথ্য গালিগালাজ। সাদা-কালো সমথর্কদের অভিযোগ, এরিয়ান গোল হজম করার পর থেকেই রঘু আর রাজদীপ নাকি ম্যাচ বন্ধ করার তালে ছিলেন। বাবাকে আক্রান্ত হতে দেখে দ্রুত গ্যালারিতে ছুটে যান রাজদীপ। পুলিশের সাহায্যে তাঁকে মাঠের ভেতর আনেন। ততক্ষণে গ্যালারি থেকে ইট, বোতল ছোড়া শুরু হয়েছে। সব মিলিয়ে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি। পরে রঘু বললেন, ‘‘ভাবতে পারিনি মহমেডান সমর্থকরা এ রকম আচরণ করবে! নিরাপত্তার অভাব বোধ করছিলাম। ম্যাচ তো রেফারি বন্ধ করলেন। আমরা কিন্তু তৈরি ছিলাম খেলতে।’’ অভাবিত ভাবে রেফারিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন ম্যাচ কমিশনারও। ‘‘খেলা চালানোর মতো যথেষ্ট আলো ছিল। রেফারিকে বারবার বললাম ম্যাচটা কিছু করে শেষ করো।’’ রেফারির আবার পাল্টা মন্তব্য, ‘‘আলো কম ম্যাচ কমিশনার বলেননি আমাকে।’’