ইউরো ২০০৮। লুই ফিলিপ স্কোলারি তখন পর্তুগালের কোচ। টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে ছিটকে যান রোনাল্ডোরা। তখন সব দায় এসে পড়েছিল স্কোলারির ঘাড়ে। পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম দোষী সাব্যস্ত করেছিল স্কোলারিকে। তাঁর দোষ? টুর্নামেন্টের আগে চেলসির সঙ্গে সরকারি চুক্তি সই করা। যার ফলে নাকি পর্তুগাল টিমের উপর পুরো মনোযোগ করতে পারেননি স্কোলারি।
সেই ইউরোর ছ’বছর পরের বিশ্বকাপেও পরিস্থিতি একই। এ বার কাঠগড়ায় স্কোলারি নন, লুই ফান গল। নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে বিশ্বকাপ সফর শুরু করার আগেই ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড কোচ হতে রাজি হয়েছেন ফান গল। ক্লাব সরকারি ভাবে এখনও কিছু জানায়নি। তবে জল্পনা তুঙ্গে যে, কয়েক দিনের মধ্যেই ইউনাইটেডের হটসিটে ডেভিড মোয়েসের উত্তরসূরি হিসেবে ফান গলের নাম ঘোষণা হয়ে যেতে চলেছে। যার জেরে ডাচ ফুটবলমহলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, ম্যান ইউ-র দায়িত্ব নেওয়ার ‘টাইমিং’ কি ঠিক হল ফান গলের? নাকি সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যাপারে বিশ্বকাপ শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করলেই ভাল হত? অনেক ফুটবল বিশেষজ্ঞ যেমন বলা শুরু করে দিয়েছেন যে, ফান গলের মাথায় এখন থেকেই ঘুরবে ম্যাঞ্চেস্টার টিম নতুন করে সাজানোর ভাবনা। নেদারল্যান্ডস নিয়ে তিনি বিশেষ ভাবনাচিন্তা করবেন না বলে তাঁদের আশঙ্কা। যা গত বারের রানার্স নেদারল্যান্ডসের উপর এ বার নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এ সব বিতর্ক উড়িয়ে ফান গল তাঁর দেশের ফুটবলপ্রেমীদের আশ্বস্ত করেছেন যে, দুটো কাজই একসঙ্গে সামলাতে পারবেন তিনি। ডাচ কোচ বলেছেন, “কোনও সমস্য হবে না দুটো কাজ একসঙ্গে করতে। চল্লিশ বছর ধরে ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত আছি। কয়েক দিন পরই তো ৬৩ বছরে পা দেব। ঠিক সামলে নেব।” তবে শোনা যাচ্ছে যে, নেদারল্যান্ডসের অনুশীলন করার পাশাপাশি ম্যাঞ্চেস্টার সিইও এড উডওয়ার্ডকে নিজের পছন্দের ফুটবলারদের প্রাথমিক তালিকা জমা দিয়েছেন ফান গল। তিনি নিজে যদিও বলছেন, “বিশ্বকাপের জন্য আমি এত দিন অপেক্ষা করেছি। বুঝতেই পারছেন এই টুর্নামেন্টটা আমার জন্য কত গুরুত্বপূর্ণ। আমাকে যদি জিজ্ঞেস করা হয় যে কত দূর এগোতে পারব, তা হলে বলব যে জিততেও পারি আমরা।” এ দিন আবার দলের তারকা স্ট্রাইকার রবিন ফান পার্সির ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন তুললেন ফান গল। বলে দিলেন, “রবিন আমার দলের অধিনায়ক, কিন্তু ও এখনও একশো শতাংশ ফিট নয়। আশা করব বিশ্বকাপের আগে ফিট হবে রবিন।”