জেট-যুগে তাদের পরিষেবার শম্বুকগতি নিয়ে অনুযোগ-অভিযোগের অন্ত নেই। তবু তৎপরতা বাড়িয়ে অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সদিচ্ছা দেখা যাচ্ছে না বিএসএনএলের মধ্যে। এমনকী যান্ত্রিক বিভ্রাট বা বিপর্যয়ের মোকাবিলার ক্ষেত্রেও তাদের গড়িমসি গ্রাহকদের তিতিবিরক্ত করে তুলছে।

যেমনটা হল বুধবার। একটি গুরুত্বপূর্ণ অপটিক্যাল ফাইবার কেব‌্ল কেটে যাওয়ায় মঙ্গলবার রাত থেকে কলকাতা ও হাওড়া এবং শহরতলির বিস্তীর্ণ এলাকায় বিএসএনএলের মোবাইল ও ল্যান্ডলাইন পরিষেবা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। কী ভাবে কেব‌্ল ছিঁড়ল, সংস্থার কর্তারা তা জানাতে পারেননি। মেরামতি শুরু হলেও কখন ফের নেটওয়ার্ক চালু হবে, তা-ও জানাতে পারেনি বিএসএনএল।

বিএসএনএল সূত্রের খবর, চুঁচুড়ার কাছে ওই কেব‌্ল কেটে যাওয়ায় এ দিন ভোর থেকে উত্তর কলকাতা ও শহরতলির বিরাট অংশে পরিষেবা থমকে যায়। বন্ধ হয়ে যায় কয়েকশো মোবাইল টাওয়ার, এমনকী কিছু টেলিফোন এক্সচেঞ্জও। স্তব্ধ হয়ে যায় কয়েক লক্ষ গ্রাহকের মোবাইল ও ল্যান্ডলাইন। যদিও বিএসএনএল-কর্তাদের একাংশ বলছেন, এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ কেব‌্‌লের রিং কেটে গেলেও গোটা এলাকার নেটওয়ার্ক একসঙ্গে বসে যাওয়ার কথা নয়। সীমিত এলাকায় পরিষেবা বন্ধ হতে পারে। বিভ্রাট হলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ঘুরপথে আবার যাতে নেটওয়ার্ক সংযোগ দেওয়া যায়, সেই ব্যবস্থা আগে থেকেই করা থাকে। কিন্তু এ দিন সেই ব্যবস্থাও চালু করা যায়নি।

দমদম থেকে কল্যাণী আর হুগলি নদীর ও-পারে রিষড়া থেকে ত্রিবেণী পর্যন্ত বিএসএনএলের ফোন পরিষেবা বন্ধ থাকায় বেজায় মুশকিলে পড়েন গ্রাহকেরা। তাঁদের অভিযোগ, ঠিক কী হয়েছে, ‘কাস্টমার কেয়ার’ বা গ্রাহক পরিষেবা দফতরে ফোন করেও তা জানা যায়নি। ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের একাংশের দাবি, পরিষেবা বন্ধ থাকায় তাঁদের টাকা ফেরত দিক বিএসএনএল অথবা রিচার্জের শেষ তারিখ বাড়িয়ে দিক এক দিন। বারবার এমন বিভ্রাট হলে তাঁরা ক্রেতা সুরক্ষা আদালতের দ্বারস্থ হবেন বলেও হুমকি দিয়েছেন গ্রাহকেরা।

এমনিতেই বিএসএনএল নেটওয়ার্কে থাকা মোবাইল গ্রাহকদের সমস্যার সীমাপরিসীমা নেই। বেশির ভাগ সময়েই নেটওয়ার্ক ঠিকমতো কাজ না-করায় ‘কল ড্রপ’ হয়। অথবা শব্দ কাঁপতে কাঁপতে ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে বন্ধ হয়ে যায় কল। ফলে একই নম্বরে বারবার কল করতে গিয়ে গ্রাহকদের বেশি টাকা বেরিয়ে যায়। ল্যান্ডলাইনের অবস্থাও তথৈবচ। এক বার খারাপ হলে কবে মেরামত করা হবে, কেউই তা বলতে পারেন না। ফলে দীর্ঘদিন ধরে অকেজোই থাকে ফোন। অবস্থা এতটাই খারাপ যে, বিএসএনএলের মোবাইল ও ল্যান্ডলাইনের গ্রাহকের সংখ্যা কমতে কমতে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।

দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় গ্রাহক বাড়াতে নানা ধরনের প্যাকেজ চালু করছে বিএসএনএল। কিন্তু সুষ্ঠু ও অবাধ পরিষেবার নিশ্চয়তা না-থাকায় সেই প্যাকেজ দিয়ে গ্রাহক আকর্ষণ করা যাচ্ছে না। তার উপরে মাঝেমধ্যে এ ভাবে কেব্‌ল-বিভ্রাটে সারা দিন পরিষেবা বন্ধ থাকলে নতুন গ্রাহকেরা এই নেটওয়ার্কে আসতে দশ বার ভাববেন বলেই মনে করেন বিএসএনএল-কর্তাদের একাংশ।